• E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন

আলোক মিছিলে আলোকিত হলো শেরপুরের গারো পাহাড়

মইনুল হোসেন প্লাবন, শেরপুর
  • আপডেটের সময় মঙ্গলবার ২ নভেম্বর, ২০২১

ক্যাথলিকদের আলোক মিছিলে আলোকিত হলো শেরপুরের গারো পাহাড়। শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ের বারোমারী সাধু লিওর খ্রিস্টধর্ম পল্লীতে ক্যাথলিক খ্রীষ্টানদের সর্ব বৃহৎ উৎসব তীর্থ যাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ওই উৎসবের প্রধান আকর্ষন হচ্ছে মোমবাতি প্রজ্জলন করে আলোক মিছিল। তবে গত বছর করোনার কারণে সীমিত পরিসরে পালন করা হয় ওই উৎসব। তাই দুই বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়নি আলোক মিছিল। এ বছর উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো তীর্থ উৎসব।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য বিধি মেনে পালন করা হয় তীর্থযাত্রা। এখানে মা মারিয়ার কাছে বিশ্বকে করোনা মুক্ত করতে প্রার্থনা করা হয়। দেশের ক্যাথলিক প্রধান বলেন এ উৎসব সবার। ‘ভ্রাতৃত্ব সমাজ গঠনে ফাতেমা রাণী মা মারিয়া’ এই মুলসুরের উপর ভিত্তি করে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বারমারী সাধু লিওর খ্রিস্টধর্ম পল্লীতে দুই দিনব্যাপী ২৪তম বার্ষিক ফাতেমা রাণীর তীর্থ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টায় মহা খ্রিস্টযাগের মাধ্যমে তীর্থ উৎসব শুরু হয়। খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন বাংলাদেশের কার্ডিনাল পেট্রিক ডি রোজারিও সিএসসি। তাকে সহযোগিতা করেন ময়মনসিংহ ধর্ম প্রদেশের বিশপ পনেন পৌল কুবি সিএসসি। রাত ৯ টায় অনুষ্ঠিত হয় বিশাল আলোক শোভাযাত্রা। তীর্থযাত্রায় অংশ নেয়া সারা দেশ থেকে আসা প্রায় ২০ হাজার রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্ট ভক্ত তাদের হাতে মোমবাতি জালিয়ে আলোক শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করে।প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এ আলোক মিছিলে আলোকিত হয় গারো পাহাড়। এছাড়াও পাপ স্বীকার, নীশি জাগরণ অনুষ্ঠিত হয়।

নেত্রকোনার বিরিশিরি থেকে আসা ক্যাথলিক ভক্ত আখি মারাক জানান, তারা
নিজেদের পাপ মোচনসহ নানা সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মা মারিয়ার
কাছে ছুটে এসেছি। আমার সন্তানের অসুখের জন্য মানত ছিলো, তাই এখানে এসিছিলাম। আমার মানত ভালো হয়েছে।

আরেক ভক্ত জিবা বলেন, আমার মেয়ের অসুখ ছিলো। আমি এর আগে এসেছিলাম মা মারিয়ার কাছে মান্নত করেছিলাম। আমার মেয়ে ভালো হয়েছে।
শিক্ষার্থী লিউনি নকরেক জানান, আমরা যেনো ভালভাবে শিক্ষা অর্জন করতে
পারি। আগামী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে পারি
এ জন্য মা মারিয়ার সাহায্যের জন্য এসেছি।

আদিবাসী নেত্রী কেয়া নকরেক জানান, আমাদের বারোমারী মিশনে সারা দেশ
থেকে ক্যাথলিকসহ সকল খ্রীষ্ট ধর্মাবলম্বীরা এখানে আসেন। মা মারিয়ার
কাছে সাহায্য চাইতে। পরিবারের শান্তির জন্য। আর এ বছর আমরা মা মারিয়ার কাছে প্রার্থনা করছি, সারা বিশ্ব যেনো করোনা থেকে মুক্ত হতে পারে।

উল্লেখ্য, পর্তুগালের তিব্বত শহরের ফাতেমা রাণীর তীর্থর আদলে গড়ে ওঠা
বারোমারী লিওর খ্রিস্টধর্ম পল্লীতে ১৯৯৮ সাল থেকে শুরু হয় তীর্থ যাত্রা। এর পর থেকেই প্রতি বছরই অক্টোবর মাসের শেষ বৃহস্পতি ও শুক্রবার দু’দিন ব্যাপী তীর্থ যাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এতে সারা দেশের ক্যাথলিক খ্রীষ্টানসহ
বিশ্বের আরও বেশ কয়েকটি দেশ থেকেও ক্যাথলিকদের অংশ নিতে দেখা যায়।

কিন্তু গত বছর মহামারী করোনার কারণে তীর্থ যাত্রা হয় সংক্ষিপ্ত। এ বছর
করোনা নিয়ন্ত্রনে চলে আসায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে তীর্থ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

এদিকে, তীর্থ যাত্রা উপলক্ষে আয়োজন করা হয় মেলার। মেলায় এবার কেনা
কাটা অন্য বছরের চেয়ে কম হয়েছে বলে জানান মেলায় আসা ব্যবসায়ীরা।
অপরদিকে তীর্থযাত্রা নির্বিঘেœ সম্পন্ন করতে আইন শৃঙ্খলা বিভাগের পক্ষ
থেকে নেয়া হয় ৩ স্তরের নিরাপত্তা বিধানে সাদা পোষাকেও আইন শৃঙ্খলা
বাহিনী নিয়োজিত থাকে। নিয়োজিত থাকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনীর ৩০০ সদস্য। এছাড়া পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায়
আনা হয়েছিলো।

এ ব্যাপারে শেরপুরের পুলিশ সুপার হাসান নাহিদ চৌধুরী জানান, আমরা ওই
তীর্থ উৎসবকে সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক মো: মোমিনুর রশিদ জানান, ক্যাথলিক খ্রীষ্টানদের
বৃহৎ এ উৎসব সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছে। আমরা সব সময় এর খোজ খবর রেখেছি। এ
প্রস্তুতি নেয়া হয় আমাদের সবার সহযোগিতায় এ উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে
পালিত হয়।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর