• E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন

আসুন শান্তি ও কল্যাণের পথে

মুহাম্মদ আনোয়ার শাহাদাত হোসেন
  • আপডেটের সময় বুধবার ২৪ নভেম্বর, ২০২১

আমরা প্রত্যেকে নিজের কল্যাণ কামনা করি কিন্তু কল্যাণের পথে কি চলি? কল্যাণের আহ্বানে কি আমরা সাড়া দেই? ব্যতিক্রম কিছু মানুষ ছাড়া আমরা প্রত্যেকে হা-হুতাশ করি! নিজেকে অনেক সময় ধিক্কার দিই, আমার এটা হচ্ছেনা কেন, আমি এত দুখী কেন, সফলতা হাতে ধরা দেয়না কেন আরো কত সব ভাবনায় হাবুডুবু খাই। অথচ একটুখানি ভাবিনা আমাদের কল্যাণের রোডম্যাপ কী? কল্যাণ দাতা কে? একটু করে ভাবুন তো, মোয়াজ্জিন যখন প্রতিদিন পাঁচবার আযান দেন আর প্রতি আযানে দু’বার করে দশবার বলেন- হায়া আলাল ফালাহ (কল্যাণের দিকে এসো) তখন আমরা কতজন ঐ কল্যাণের পথে যাই?

বিজ্ঞাপন

কল্যাণের সেই শাশ্বত আহবানকে পাশ কাটিয়ে আমরা ব্যস্ত থাকি খেয়াল খুশি মতো যার-যার কাজে আর কামনা করি পৃথিবীর সমস্ত কল্যাণ যেন আমার হয়! পৃথিবীতে সবাই লাভবান হতে চাই কেউ ক্ষতির সম্মুখীন হতে বা লোকসানের ভাগীদার হতে চায় না। না চাওয়াটা-ই স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা কতজন এই ক্ষতির পথ থেকে দূরে থাকতে চেষ্টা করি বা কোন পথে চললে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবোনা তা তালাশ করি! আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে ঘোষনা দিয়েছেন-”নিশ্চয় সকল মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে; কিন্তু‘ তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে হক ও সবরের নির্দেশ দেয়”। (সূরা আসর)। ক্ষতি থেকে বাঁচতে হলে চারটি কাজ আমাদেরকে করতে হবে আর তা হলো- ১) ঈমান ২) সৎকাজ ৩) পরস্পরকে সত্যের পথে আহবান ৪) সবরের উপদেশ দেয়া। আমরা কেউ চাইনা আমাদের ক্ষতি হোক অথচ ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকার উল্লেখিত কাজ গুলো কতজন করছি? আমরা শান্তিকামী, প্রতিনিয়ত চাই শান্তিতে গদগদ করুক আমাদের জীবন। কিন্তু‘ জানি কি, শান্তির প্রকৃত উৎস কোথায় বা প্রকৃত শান্তিদাতা কে? কোরআন কী বলে শুনুন- “তিনি আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনিই একমাত্র মালিক, পবিত্র, শান্তি ও নিরাপত্তা দাতা, আশ্রয়দাতা, পরাক্রান্ত, প্রতাপান্বিত, মাহাত্ম্যশীল। তারা যাকে অংশীদার করে আল্লাহ তা থেকে পবিত্র।”(সূরা হাশর)। একবার চিন্তা করুন শান্তি ও নিরাপত্তা দাতা কে! তাইতো প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম নামাজান্তে এই ভাষায় শান্তি কামনা করতেন-” আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম”- হে আল্লাহ! তুমি পরম শান্তিময়, তোমার কাছ থেকেই শান্তি অবতীর্ণ হয়।”(আল হাদীস)। সূরা ত্বোয়া-হা’র ৪৭ নং আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন শান্তির শর্ত আরোপ করে আরো বলেন- “ এবং যে সৎপথ অনুসরন করে, তার প্রতি শান্তি।” মহান রাব্বুল আলামীন শুধুই কী শান্তির রূপরেখা বর্ণনা করেছেন, না তার বাস্তব নমুনা ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে উপস্থাপন করছেন? হ্যাঁ, তিনি সমগ্র মানবকল্যাণের তরে অনুকরণীয় ও বাস্তব মডেল হিসেবে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন যাতে করে মানবজাতি তাঁর অনুসরণ করে শান্তি ও কল্যাণময় জীবন লাভে ধন্য হয়। লক্ষ্য করুন কোরান কী বলে- ‘তোমাদের জন্য নিশ্চয় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের জীবনীতে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।’ (সূরা আহজাব : ২১) স্বীয় উম্মতের জন্য তার সীমাহীন দয়া এবং মুসলমানদের কল্যাণ ও উন্নতির জন্য আত্মিক স্পন্দন এবং ধারাবাহিক উদ্যোগের মূল বিষয়ব¯‘ কুরআন ও হাদিসে অগণিত রয়েছে। যেমন কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে- ”তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য হতেই একজন রাসূল। তোমাদের দুঃখ কষ্ট তার পক্ষে দুঃসহ, তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী। মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল দয়াময়।” (সূরা তাওবাহ : ১২৮) । আল্লাহ পাক আরো বলেন- “আমি আপনাকে বিশ্ব জগতের বিশেষ রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি।”-(সূরা আম্বিয়া)। আমরা কী প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের প্রদর্শিত পথে বা মতে চলছি? যদি না চলি তাহলে কী করে আমরা শান্তি ও কল্যাণের আশা করি! অধিকাংশ মানুষ মনে করে আল্লাহ এমনিতেই আমাদেরকে বিপর্যয়’ করেন বা বিপদাপদ দেন অথচ তা ভুল। আল্লাহর ঘোষণা শুনুন- ”¯’লে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে।” (সূরা রূম, আয়াত-৪১)। হে আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক পথ ও মত অনুসরণ করার তওফিক দান করুন। তোমার আলীশান পাক দরবারে ফরিয়াদ করি- ”আমাদিগকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদিগকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা করুন।”(সূরা বাকারা) আমিন।।

 

লেখক: প্রাবন্ধিক


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর