• E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:১০ পূর্বাহ্ন

উন্মাদ চলাফেরা আর বিকৃত যৌন চেতনা

আহমেদ সৈকত
  • আপডেটের সময় বুধবার ৩ নভেম্বর, ২০২১

 

সৃষ্টিকর্তা মানুষের মাঝে দুটি ক্ষমতা দিয়েছেন। যেটা তিনি নিজের জন্য প্রয়োগ করবেন না কখনও। সেটা হতে পারে সৃষ্টি স্বার্থে বা অন্য কোন কারণে। দুটি ক্ষমতা হল:- নিজের জাত জন্ম দেওয়া, নিজেদের ধ্বংস করে দেওয়া। বিবেচনাবোধ থেকে এ দুটি ক্ষমতা মানুষদের প্রয়োগ করতে হয়। আলেচনা করবো নিজের জাত জন্ম নেওয়া নিয়ে। সেটা অবশ্যই পবিত্র কাজ। আপনি আমি এবং আদি ও আগামী প্রজন্ম এভাবে আসছে, এসেছে এবং আসবে।

বিজ্ঞাপন

মানুষদের ভেতরে যৌন চেতনা মোটেও খারাপ দিক নয়, তবে গোপনীয়। পশু ও মানুষের মধ্যে পার্থক্য কী?? পশুদের লজ্জা নেই, মানুষদের আছে। স্রস্টার সৃষ্টিগুলির মধ্যে মানুষগুলি এই কারণ আলাদা যে, মানুষের লজ্জাবোধ কাজ করে। যৌন স্পৃহা সবার ভেতরে উপলব্ধি হয়। এটি কোন দোষ নয়। বরং সেটাকে বিকৃতভাবে মেনে নেওয়াটাই আমাদের দোষ। আমরা কখনও রাস্তাঘাটে যৌন চাহিদা মেটাতে যাব না। কুকুরদের দেখা যায় এমন। আমরা তখন হাসাহাসি করি এসব দেখে। আজকের টেকনোলজির সহজ মাধ্যম ফেসবুক। ফেসবুককে সহজ মাধ্যম এজন্য বলছি। এটা সবাই ইউজ করতে পারে। কে উপযুক্ত আর কে অনুপযুক্ত সেটা দেখার অপশন নেই। চায়না এন্ড্রয়েডকে ও সস্তা করে দিয়েছে। খুব সহজে মোবাইল কিনে ফেসবুক আইডি খুলে ইউজ করতে পারি। রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক নিয়মনীতি তোয়াক্কা করার প্রয়োজন নেই। যেকোন মানসিকতার কেউ যুক্ত হতে পারে আপনার আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড লিস্টে। আর এখান থেকেই প্রচার অপ্রচার একাকার হয়ে বিবেচনাবোধ দিন দিন নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে আমাদের । আজকে ফেসবুকে ভিউ হচ্ছে ১৮+ ভিডিও থাকলে। বিকৃত ভঙ্গিতে এবং অশ্লীল আলাপ ছড়িয়ে হাসানোর চেষ্টা করছে কেউ কেউ। এতে আমাদের যৌন চাহিদাটা মার্যাদা সম্পন্ন হচ্ছে না। পাশাপাশি আমাদের ভেতরে যৌন চাহিদা বিকৃতভাবে আর্বিভাব হয়। পরিমণির নাইটি গায়ে লাইভটার ভিউ হয়েছে বেশ। চ্যানেলগুলা ও তার বার্থডে পার্টিগুলো প্রচার করছে। কেননা ভিউ হয় তাদের। তাদের ঠিকে থাকার জন্য ভিউটা প্রয়োজন। এতে অবিবাহিত যুবকরা বাথরুমে বিসর্জন দিচ্ছে যৌন চেতনাকে। হাসাহাসি বা অশ্লীল পর্বে চলে যাচ্ছে কথাগুলি। সবাই করতে পারবে, আর আমরা সেখানে বলতে পারবো না??

পুরুষের যৌন চেতনা উদয় হয় নারীদের বিশেষ কিছু অঙ্গের উপর। সেটা আমার কথা নয়। সৃষ্টিকর্তা এ ক্ষমতা দিয়েছেন। পাশাপাশি আমাদের বিবেচনা বোধকেও ওনি সাজিয়ে দিয়েছেন। কীভাবে এই যৌন চেতনা আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকবে সেটার জ্ঞান আমাদের বিবেচনাবোধ এর উপর নির্ভর করে। আপনি তরকারি মাঝে সব ধরণের উপকরণ দিচ্ছেন ভাল স্বাদের জন্য। মরিচ গুড়ো দিয়ে হলুদ গুড়ো দিচ্ছেন না। এমনটা হয়না, কেননা তাহলে তরকারির স্বাদ নষ্ট হয়ে যাবে। ঠিক এমনভাবে আমরা আমাদের সাজাতে হবে। যৌন চাহিদা মেটাতে বা নিয়ন্ত্রণে আমাদের বিবেচনাবোধের উপকরণটা কাজে লাগাতে হবে। 

নারীদের নিয়ে আমারা কেমন ভাবছি এবং নারীরা আমাদের সামনে কীভাবে উপস্থাপন হচ্ছে সেটা ভাবনার বিষয়। নারীদের উরু, স্তন ব্রা নিতম্বের নাচন দেখে পুরুষদের ভেতরে  যৌন চেতনা উদয় হবেই। আর এসব যদি বার্থডে পার্টি বা হাঁটতে ঘুরতে হুটহাট উপস্থাপন করা হয় তাহলে যৌন চেতনা বিকৃত হবেই। এই বিকৃত যৌন চেতনা হস্ত শিল্পের মধ্যমে বা ধর্ষণের মাধ্যমে মিটাতে চেষ্টা করবে। এতে যদি মনে করেন এসব বলার কারণে আমি সেক্সওয়াল মেন্টালিডি নিয়ে সবসময় বসে থাকি। তাহলে জেনে নিন সমস্যা আমার নয়, আপনার। ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরী। 

এখন আমাকে বলবেন নারীদের স্বাধীনতার আঘাত এনেছি। তাহলে এটাও জেনে নিন নারীদের নিয়ে যাঁরা আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন:- বেগম সুফিয়া কামাল, বেগম রোকেয়া, জাহানারা ইমাম, নুরজাহান বেগম প্রমুখ। ওনারাও শাড়ী গায়ে হেঁটেছেন। ওনাদের প্রতি আজও মানুষ শ্রদ্ধা অটুট। ওনারা সমাজে নারীদের সুষ্ঠু অবস্থান নিয়ে সংগ্রাম করেছেন, কথা বলেছেন। আর এখন চলে ‘শরীর আমার, সিদ্ধান্ত আমার’ স্লোগানে সমাজে বিকৃত যৌন চেতনা অবস্থানে সংগ্রাম। 


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর