• E-paper
  • English Version
  • শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:৩১ অপরাহ্ন

এ কেমন দায়িত্বশীলতা? || সাইফুর রহমান কায়েস

লেখকঃ- প্রধান সম্পাদক, শব্দকথা টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • আপডেটের সময় বৃহস্পতিবার ২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

দায়িত্বশীলতা মানে করোনা ছড়ানো? দায়িত্বশীলতা মানে গায়ের জোরে সবকিছুই জায়েজ করে নেবার নির্লজ্জ প্রচেষ্টা? দায়িত্বশীলতা মানে নিজে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়বোধ চেপে রেখে অন্যকে দায়িত্ববান হবার ছবক দেয়া? নিপাত যাক এইসব বেহায়া, অবিবেচক, কাণ্ডজ্ঞানহীন মানুষ নামের দ্বিপদী প্রাণী।

যারা এরকম আচরণ করে তাদেরকে আইনের হাতে সোপর্দ করা এখন সময়ের দাবী। স্বাস্থ্য বাতায়ন এবং ৩৩৩ তে ফোন করে জানানো প্রয়োজন।

এদের মনুষ্যত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারি, নিশ্চই। এসব গোয়ারগোবিন্দের জন্য যদি কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান, পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হন তাহলে এই অবিবেকই দায়ী থাকবেন। কোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা পরিবার এর দায় নেবে কেনো? মনে রাখুন, ব্যক্তির অপরাধ সামগ্রিকভাবে কোনো পরিবার কিংবা প্রতিষ্ঠানের উপর বর্তায় না। যেখানে সারাবিশ্ব করোনা যুদ্ধে জয়ী হতে ঝাপিয়ে পড়েছেন। সতর্কতা অবিলম্বিত হচ্ছে। সেখানে একক কোনো ব্যক্তির দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের দায় তার একার। অন্য কারো নয়।

এখন আমাদের উচিৎ হবে গণপরীক্ষামূলক কর্মসূচী হাতে নেয়া। সরকারী, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধাসরকারী অফিস, আদালত, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ঘরোয়া সভার আয়োজন নিরুৎসাহিত করা। একান্তই যদি সরাসরি সভা করতে হয় তাহলে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের কোভিড ১৯’র পরীক্ষা সনদপত্রের অনুলিপি পূর্বেই সংগ্রহ করা এবং সভাকক্ষে প্রবেশের পূর্বে মূলসনদপত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে প্রবেশাধিকার নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া।
যদি কারো অংশগ্রহণ একেবারেই অপরিহার্য হয়ে উঠে তাহলে তাকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত করা যেতে পারে।
কারো দাম্ভিকতাপূর্ণ আচরণের জন্য পুরো দেশের স্বাস্থ্যসুরক্ষাব্যূহ ভেঙ্গে পড়তে পারে। কেউ কেউ কোভিড ১৯ পজিটিভ নিয়েও সরকারী সভায় যোগ দেবার মতো বাজে, নীতিজ্ঞানহীন নজির স্থাপন করেছেন বলে আমাদের নজরে এসেছে। আমরা নাম প্রকাশ করে আর তাকে বিখ্যাত করতে চাই না। আমাদের কাছে সকল তথ্যই রয়েছে। নিজেকে অধিকযোগ্য প্রমাণের জন্য এসকল ব্যক্তির বিবেকবর্জিত আচরণ আমাদের জীবন ও জীবনযাপন প্রণালীকে উদ্বেগের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। আমরা এখনো সঠিকভাবে জানি না আক্রান্ত ব্যক্তির দ্বারা ঠিক কতোজন ব্যক্তি সংক্রমিত হয়েছেন বা তার মাধ্যমে ছড়ানো উপসর্গগুলো বয়ে বেড়াচ্ছেন। যিনি নিজে আক্রান্ত হয়ে স্বীয়স্বার্থবুদ্ধি দ্বারা পরিচালিত হন তিনি কোনো প্রতিষ্ঠানের, কোনো পরিবার- এমনকি দেশের জন্য বিনাশ সাধন ব্যতিরেকে আর কিছুই করতে পারেন না। এদেরকে কোনো দায়িত্বশীল পদে সমাসীন রাখা প্রতিষ্ঠান, পরিবার, দেশের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। মানুষ হচ্ছে সকলজন্ম সারথি। মানুষ না বাচলে সমাজ, দেশ, পরিবার, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদিস্থানীয় কোনোকিছুরই মূল্য নেই।
করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সারাবিশ্ব যেখানে সমণ্বিত প্রয়াস গ্রহণ করেছে সেখানে কোনো ব্যক্তির বেহায়াপনাকে রুখে দাড়ানোর প্রয়োজন । স্মরণে রাখুন, যুক্তি, বিজ্ঞান, গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রয়োগ এবং সুবিবেচনাই পারে প্রাণঘাতী এই ব্যধি থেকে মানবকুলকে সুরক্ষিত করতে। এর ব্যত্যয় ঘটলে ডাইনোসরগোষ্ঠীর মতো মানুষকেও পৃথিবীর বুক থেকে বিদায় নিতে হবে।
এখনি আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কি টিকে থাকতে চাই- না বিলুপ্তির কাতারে চলে যেতে চাই?

২. করোনাভাইরাস কাউকে আক্রমণ করলেই তিনি অচ্যুত হয়ে যান না। প্রথমদিকে এই রোগেপড়া সবাইকে অচ্যুত ভাবা হতো। ভীতিপ্রদ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিলো। আতংকিত হবার মতো কোনো কারণ নাই। প্রয়োজন সচেতনতা এবং যথাযথ চিকিৎসা নেয়া। কোনো ধরনের টোটকা নয়, বিজ্ঞানসম্মত উপায়েই মোকাবেলা করার মতো সক্ষমতা সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশও অর্জনের জন্য লড়ে যাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, আমরা করবো জয় একদিন। নচিকেতার গানের মতো- পৃথিবী আবার শান্ত হবে, আকাশ আলোয় উঠবে ভরে। সকল জীর্ণ মতবাদ ইতিহাস হবে।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর