• E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন

কবিতা:- হিমালয় কাশবন বটগাছ ধানক্ষেত  || প্রতত সিদ্দিক 

লেখক, কবি
  • আপডেটের সময় সোমবার ২২ নভেম্বর, ২০২১

আমাদের বাড়ির উত্তরে ছিল হিমালয় – দক্ষিণে কাশবন
ঈশানের কালো মেঘপুঞ্জ যখন জটাধরে বিভৎস বিবৃত্ত নৃত্য করত-
চৈত্র বা বোশেখ মাসে যখন টর্ণেডো বা সাইক্লোন উঠত আকাশে,
আমরা তা বুঝতে পারতাম না ঐ হিমালয়টার উঁচু শিরের জন্য।
আবার কাশবন তার দারুণ ছোঁয়ায় আচ্ছাদন করে রাখত আমাদের।
আমাদের বাড়িটার পূর্বে ছিল একটা বৃহৎ বটগাছ
মনে হত যেন খোদার আরশ বিছানো বাড়িটার ওপরে।
আষাঢ়ে বৃষ্টির রিমঝিম গান শুনাতো-সাট লাগতে দিত না
শীতে  পাখিছানাদের মত আমাদের উম দিত- হাড় কাঁপতে দিত না
চৈত্রেও যেন বসন্ত এনে দিত আমাদের -শরীরে তাপ লাগতে দিত না।
ফালগুনে যখন চাঁদ দেখতে ইচ্ছে করত আমাদের
অথবা অজস্র তারার মাঝে আকাশের গায়ে ডানামেলা চিলের মত উড়তে ইচ্ছে করত
তখন বটগাছটা আমাদের তার মাথায় তুলে নিত
আমরা তখন রূপোর পেয়ালার মত চাঁদ দেখতাম
আমরা তখন তারাদের চুলের গন্ধে ভেসে বেড়াতাম।
আমাদের বাড়িটা ছিল একটা ধানক্ষেত – সোনালী ধানক্ষেত
সারা বছর আমাদের পাতে সোনার ডিম হয়ে থাকত।
আজও আমরা সবাই আছি – আমাদের বাড়িটাও আছে শুধু ঐ হিমালয় নেই,  ঐ সবুজ বটগাছটা নেই,
ঐ কাশবন নেই,  ঐ সোনালী ধানক্ষেতটা নেই।
আজ আমরা হিমালয় কাশবন বটগাছ ধানক্ষেতের অর্থ বুঝি
অথচ ওসবের অর্থ সেদিনগুলোতে অনুভব করিনি কখনো।

বিজ্ঞাপন


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর