• E-paper
  • English Version
  • শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:৫৩ অপরাহ্ন

কবি ছাড়া আর কেউ বিশ্বস্ত প্রেমিক নয় || সাইফুর রহমান কায়েস

লেখক, কবি ও প্রাবন্ধিক
  • আপডেটের সময় সোমবার ১১ অক্টোবর, ২০২১

আবার বিধিবদ্ধ জীবন। নিয়মের ভেতরে নিয়ম করে ফিরে যাওয়া। আমি একটি ঘাসফড়িঙ’র জীবন চাই, একটি বাবুই পাখির জীবন চাই, ডানকিনে মাছেদের জীবন চেয়েছিলেম।
হরিজনের জীবনে যে স্বকীয়তা আছে সেখানেই জীবনকে খুঁজে নিতে চেয়েছিলাম।
ইটকাঠসুরকির শহরে কবি ছাড়া আর কেউ বিশ্বস্ত প্রেমিক নয়। মাঝরাতের নির্জনতা ভেঙ্গে আমি নিসর্গকন্যার কাছে যেতে চেয়েছি আলপথ মাড়িয়ে। পাহাড়ে উঠার ক্লান্তিকর প্রচেষ্টা তবুও দমে যায় নি। পাহাড় আর নদী অসাধারণ শুদ্ধতায় ডাকে আমায়।
ভালোবাসার আগুনে পুড়ে যাওয়া কাশবন আবার শুভ্রতায় ছেয়ে যাক। পাগল হাসানের সুরে ইন্দুবালা গানে লতিকা সরকার আমাকে মাতিয়ে রাখুক। আকাশের তারা হয়ে যাওয়া পিতার মুখ আমি দেখছি শুক্লপক্ষের চাদের পাহাড়ে। চরকাবুড়ির মায়াভরা মুখ, শুভ শারদীয়ার আগমণে এই বাংলা ধনধান্যে ভরে উঠুক, মানুষে মানুষে বন্ধন হোক সুদৃঢ়। পিচঢালা পথের পাশে বেগুনি লতাগুল্ম চাষ হোক আরো বেশি করে। চিমামান্দা আদিচি নিগুজির নতুন ফিকশনের পাতার ঘ্রাণে আরো বেশি করে মুগ্ধতা ছড়াক। ওলে সোয়েঙ্কার কগিজ হারভেষ্টে চিরায়ত মিথগুলি মানুষ হেমন্তের পাকাধানে খুজুক। হৃদয়-পোড়ানো অগ্নিতে দহনবায়ু লাগুক, দাবানল নিভে যাক। হঠাৎ মুফতে পাওয়া টাকার ক্ষুদে বার্তায় বউয়েদের মতিভ্রংশ থেকে নিজেকে বাচিয়ে রাখতে মরার আগে যেনো আরেকবার মরে গেছি। বেয়ারা বউয়ের আবার ব্যাঙের লাল খুব পছন্দ। লাল হারানোর ঝালে কি তড়পানি গলাকাটা মুরগির মতো। আমি নিমিষেই সেই আচে পুড়তে থাকি। লাবণ্যপ্রভারা তাই দায় হয়েই সংসারে বেচে থাকে। আমি অনন্যোপায় হয়ে নিয়ম করে সঙ্গমের দায় মেটাতে থাকি। লাবণ্যপ্রভাদের কলসি তাই তাদের কাখে নয়, আমার গলায় ঝুলিয়ে হামহামিয়া বিলে ডুবে মরতে চাই। একটা স্বাধীন জীবন পেতে চেয়ে মৃত্যুকেই শ্রেয় মনে করি। শরীরে নারায়ণরূপ ধারণ করে থেকে যাওয়া জ্বরের কেরদানি আর সইছে না বলে ঘুম তাড়ানো স্বপ্নে বিভোর হতে থাকি।  মেসেঞ্জারে উঠতি কবির বাতচিত আমার কাছে তাই আর প্রলাপের মতো মনে হয় না। তার সাথে জুড়ে দিতে চাইছি নিজেকে-  জীবনের গ্রহণলাগা গন্না কাটাতে। ভরা আর্শ্বিনে দুগগা দেবী তবুও এই বাংলার দুর্গতিনাশিনী হয়েই আসুক। হাছন রাজার গানে অনিমেষ রায় নতুন করে  সেন্সেশন ছড়িয়ে দিক। নির্ঘুম রাত্রিতে গুম হয়ে কালাউড়ি বিলে জোছনাকুমারীর সাথে প্রণয়ে মাতোয়ারা হতে চাই। লাবণ্যপ্রভারা নিপাত যাক। যাদের কাছে চিত্ত নয়, বিত্তকাম বড়ো ।তারা কবি আর কবিতার কি বুঝবে? আমি যে তার বিশ্বস্ত প্রেমিক ছিলাম এটি চিরকাল তার বোধের অগম্য হয়েই থাকুক। তার কাছে হয়তো কখনো কখনো দুর্বোধ্য হয়েই  ছিলাম। তার দুর্নিরীক্ষ্য চেতনাকে আমি কখনো জাগাতে পারি নি। উদ্ব্যর্থ মনস্কামে সে আমার শরীর চেয়েছিলো, মনকে ছুতে চায় নি। রতিশব্দ সে ভালোবাসে বলে কবিতার উৎপ্রেক্ষা তাকে বিমোহিত করতে পারে নি। শীৎকার বুঝে না, সঙ্গম বুঝে। জোনাকিপোকাকে হত্যা করে কে কবে আলো পেয়েছে, জানি না।
ওমর খৈয়ামের কবিতার চরণ বুঝে নি সাকি। তবুও এক ভরা পূর্ণিমায় সে টাঙ্গুয়ার হাওরে চিৎ সাতার দিতে চেয়েছে। আর তাই আমি গলুই হয়ে ভাসছি কালিদহ সাগরে।

বিজ্ঞাপন


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর