• E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন

কমলগঞ্জে পালিত হচ্ছে খাসিয়াদের ঐতিহ্যবাহী ‘খাসি সেং কুটস্নেম’ উৎসব

আজ রাজন আবেদীন রাজু (কমলগঞ্জ) মৌলভীবাজার
  • আপডেটের সময় মঙ্গলবার ২৩ নভেম্বর, ২০২১

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে আজ (২৩ নভেম্বর) আদিবাসী খাসিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কমলগঞ্জের মাগুরছড়া খাসিয়াপুঞ্জিতে খাসিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী এ বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান (খাসিয়া আদিবাসী ভাষায় ‘খাসি সেং কুটস্নেম’) অনুষ্ঠিত হবে।

দুপুর ১২ টায় আনুষ্ঠানিক ভাবে উৎসবের অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৮০ টি খাসিয়া পুঞ্জির প্রতিনিধিরা অংশ নিবেন। এতে অংশ নেবেন বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৮০টি খাসিয়া পুঞ্জির প্রতিনিধিরা।

কমলগঞ্জ হচ্ছে বহুভাষা ও বৈচিত্র্যমণ্ডিত সাংস্কৃতিক আবহ। এ জনপদে রয়েছে নানা ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ। এখানে যে কয়টি সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস রয়েছে তার মধ্যে খাসিয়া সম্প্রদায় একটি। কমলগঞ্জের মাগুরছড়া খাসিয়া পানপুঞ্জি ছাড়াও ডাবলছড়া, কালিঞ্জি, কুরমা, পাত্রখোলা, নুরজাহানসহ বেশকটি এলাকায় এ সম্প্রদায়ের বসবাস।

খাসি নেতৃবৃন্দ জানান, সেং কুটস্নেম বা বর্ষবিদায় খাসিয়াদের একটি সার্বজনীন উৎসব। প্রাচীন খাসিয়া সমাজে দেবতার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশের মধ্যদিয়েই এ উৎসব পালিত হতো। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কমলগঞ্জ উপজেলার মাগুরছড়া পুঞ্জির খেলার মাঠে নানা সমাহারে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। খাসিয়াদের বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ উৎসব সেং কুটস্নেম উপলক্ষে খাসিয়া জনগোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। খাসি সেং কুটস্নেম অর্থাৎ বর্ষবরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানে খাসিয়ারা তাদের প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে আদি পাহাড়ি নৃত্য ও গান করে থাকেন। পাশাপাশি তাদের জীবিকার প্রধান উৎসব জুম চাষ এবং জীবন-জীবিকার বিভিন্ন পদ্ধতি নৃত্যের মাধ্যমে তুলে ধরেন। উৎসব উপলক্ষে খাসি সোশ্যাল কাউন্সিল বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সেং কুটস্নেম উৎসবের দিনব্যাপী সবাই মিলে মাছ শিকার, ঐতিহ্যগত খেলাধুলা, ঐতিহ্যগত পোশাক পরিধান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনাসহ ঐতিহ্যবাহী খাবার খেয়ে তারা আনন্দ-ফুর্তি করে নিজেদের সামাজিক সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হন।

সেং কুটস্নেম উপলক্ষে মাগুরছড়া পুঞ্জির মাঠে বসবে ঐতিহ্যগত মেলা। সেই মেলায় খাসি জনগোষ্ঠীর লোকেরা বসবেন বাহারী পণ্যের পসরা নিয়ে। বিভিন্ন স্টলে খাসিয়াদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক,পান, তীর, ধনুক সহ বাঁশ বেতের জিনিসপত্র সাজিয়ে রাখা হয়। খাসিয়া তরুণ প্রজন্মের পাশাপাশি, বাংলাদেশে খাসিয়াদের প্রাচীন ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা ও পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য বর্ষ বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সিলেটে প্রায় ৮০ টির মতো খাসিয়া পুঞ্জি রয়েছে। প্রায় প্রত্যেকটি খাসিয়া পুঞ্জির খাসিয়ারা কমলগঞ্জ উপজেলার মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির খাসি সেং কুটস্নেম অর্থাৎ বর্ষ বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। খাসিয়া সম্প্রদায়ের পাশাপাশি এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বাঙালি ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষসহ দেশী-বিদেশী পর্যটকরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

মাগুরছড়া পুঞ্জির হেডম্যান ও খাসি সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি জিডিশন প্রধান সুছিয়াং বলেন, খাসি সেং কুটস্নেম উপলক্ষে খাসিয়া পুঞ্জিগুলোতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যেসব অতিথিরা আসবেন তাঁদের সংবর্ধনা ও কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়। উৎসবে বিশেষ কাউকে আনুষ্ঠানিভাবে অতিথি করা হয় না। যারা উৎসবে যোগ দেন তাদের সবাইকে খাসি সেং কুটস্নেম উৎসবের অতিথি হিসেবে গণ্য করা হয়ে।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর