• E-paper
  • English Version
  • শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:৪২ অপরাহ্ন

কাদিয়ানীকে অমুসলিম ঘোষণা না করলে কাপনের কাপড় পড়ে যুদ্ধের ঘোষণা – মামুনুল হক

আকিকুর রহমান রুমন (বানিয়াচং) হবিগঞ্জ
  • আপডেটের সময় মঙ্গলবার ১৬ মার্চ, ২০২১

হবিগঞ্জ বানিয়াচংয়ে সর্বস্তরের উলামায়ে কেরাম ও তাওহীদি জনতার ব্যানারে খতমে নবুওয়াত ও শানে রেসালাত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৬মার্চ (মঙ্গলবার) বানিয়াচং সরকারি এলআর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে উক্ত অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।

সকাল ১০টায় হাফিজ সোহাইল আহমদ’র কুরআন তেলওয়াতের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের কাজ শুরু হয়। মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ বড় হুজুরের সভাপতিত্বে এবং মাওলানা আব্দুল জলিল ইউসূফী, মাওলানা শফিকুর রহমান ও মাওলানা ইকবাল হুসাইনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর খতিবে ইসলাম আল্লামা ওলিপুরী, হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর শাইখুল হাদিস আল্লামা আব্দুর রব ইউসূফী, হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হবিগঞ্জী রহ.এর সন্তান আল্লামা তাফহিমুল হক, বানিয়াচং শাহী ঈদগাহের ঈমাম আল্লামা ফজলুর রহমানসহ বানিয়াচংয়ের মুরুব্বি ও তরুন যুবক আলেমগন।

এই প্রোগ্রামের ৬টি ঘোষণার উপর বক্তব্য প্রদান করেন। ছয়টি ঘোষণার মধ্যে-(১) কাদিয়ানীকে রাষ্ট্রীয় ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে দ্রুত সংসদে বিল পাশ। (২) কাদিয়ানীরা ইসলামের ধর্মীয় পরিভাষা গুলো ব্যাবহার করতে পারবেনা। (৩)উগ্র ধর্মীয় সংগঠন হিজবুত তাওহিদকে দ্রুত নিষিদ্ধ করতে হবে। (৪)বানিয়াচংয়ে ওরসের নামে মদ,গাজা,অশ্রীল নৃত্য প্রদর্শন বন্ধ করতে হবে। (৫)কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের প্রান কোম্পানির সকল পন্য বর্জন করতে হবে। (৬)মহানবী(সাঃ)কে ব্যঙ্গ বা কটাক্ষকারীদেরকে ফাঁশির বিধান রেখে সংসদে আইন পাশ করতে হবে।

বক্তাগন এই ঘোষণা পত্রের উপর নির্ভর করে তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে এমনকি কোন কোন বক্তাগন হুশিয়ারী উচ্চারন করে তাদের বক্তব্য রাখেন।

এদিকে অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষন ও প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হক।

এই প্রোগ্রামের প্রচার প্রচারনাও ছিল চোখে পড়ার মতো। আর এই প্রধান আকর্ষন মামুনুল হকের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়।

আর উনাকে দেখার জন্য আবার কেউ,কেউ উনার বক্তব্য শুনার জন্য সেই ভোর সকাল থেকেই শুরু হয় বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে লোকজনের আগমন। অনুষ্ঠান স্হলে ও অনুষ্ঠানের চারপাশের বাড়ি ঘরে নারী-পুরুষের উপস্থিতি ছিলো চোখের পড়ার মতো। এমনকি বিভিন্ন মাদ্রাসা বন্ধ রেখেও শিশু বাচ্ছাদের নিয়ে আসা হয় প্রোগ্রামে। এই শিশু ছাত্রদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতোই। প্রধান অতিথি আসার আগ পর্যন্ত পুরো মাঠ ও চারপাশ কোনায়, কোনায় ২০/৩০হাজার সমাগম ঘটে।

প্রায় ৪শ শতাধিক মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে হবিগঞ্জ বানিয়াচং সড়কের রত্না নদীর ব্রীজ এলাকা থেকে বিকাল ৩টা ৫০মিনিটের দিকে প্রধান অতিথি মামুনুল হক’কে রিসিভ করে নিয়ে আসেন উলামায়ে কেরাম ও তাওহীদি জনতার নেতৃবৃন্দ। তারা উনার গাড়ি সামনে পাছনে করে মোটরসাইকেল শোডাউনের মাধ্যমে বিকাল ৪টা ২০মিনিটে মঞ্চে নিয়ে আসেন।

তিনি বক্তব্য প্রদানকালে আবারও এই ঘোষণা পত্র পাঠ করা হয়। ঘোষণা পত্রটি পাঠ করেন আলীয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দাল হুসেন খান। পরে ৪টা ২২মিনিটে প্রধান অতিথি তার আধ ঘন্টা বক্তব্যেকালে, তিনি সরকারের উদ্দেশে এঘোষণা পত্র অনুযায়ী বক্তব্য রাখেন।

এমনকি কাদিয়ানীকে অমুসলিম ঘোষণা, উগ্র ধর্মীয় সংগঠন হিজবুত তাওহীদকে নিষিদ্ধ, মহানবী(সাঃ)কে ব্যঙ্গ বা কটাক্ষকারীদের ফাঁসির বিধান রেখে আইন দ্রুত পাশ করার হুশিয়ারী করে বক্তব্য প্রদান করেন।

এই আইন পাশ না করা করা হলে এবং এসব নিষিদ্ধ না করা হলে কাপনের কাপড় পড়ে আবার একটি যুদ্ধের ঘোষণা দেন তিনি এবং উপস্থিত জনতাকে হাত উঁচিয়ে শপথও করান।

পরে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে অনুষ্ঠানের সভাপতি মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ সাহেবের মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর