• E-paper
  • English Version
  • রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

কোম্পানীগঞ্জে সাংবাদিক নির্যাতন কি চলতেই থাকবে? || প্রজিত সুহাস চন্দ

লেখকঃ- সাংবাদিক
  • আপডেটের সময় বুধবার ১৩ অক্টোবর, ২০২১

কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে অবশ্যই তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া যায়। কারণ, সাংবাদিকেরা আইনের ঊর্ধ্বে নন। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে সৎ সাংবাদিকতার টুঁটি চিপে ধরা, মামলা-হামলা-গ্রেপ্তার-নির্যাতন আর কিছু নয়, অসৎ মানুষদের প্রতিহিংসা। বিপুল ক্ষমতাশালী মানুষদের ক্রোধ ও আক্রমণের মুখে সবচেয়ে অসহায় মফস্বল সাংবাদিকেরা। মামলা হলে তা সামলানো কিংবা হামলা হলে বিচার চাওয়ার হুজ্জত মোকাবিলা করা সাধারণ সাংবাদিকদের পক্ষে অসম্ভব, যদি তাঁদের প্রতিষ্ঠান পাশে না দাঁড়ায়। বিভক্ত সাংবাদিক সমিতিগুলোও উদাসীনতাই শ্রেষ্ঠ পন্থা।

সংবাদ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই সাংবাদিকের কাজ। সে সংবাদে যাদের আঁতে ঘা লাগে তারাই সাংবাদিক নির্যাতন করে। তবে সাংবাদিক নির্যাতনের তালিকায় সাধারণত আমজনতা থাকে না। খুঁটির জোর থাকলেই সাংবাদিক হয়রানি ও নির্যাতন করা যায়। এই খুঁটি হতে পারে রাষ্ট্রীয় বা প্রশাসনিক ক্ষমতা, হতে পারে রাজনৈতিক প্রভাব, লোকবলের দাপট ইত্যাদি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মীদের দ্বারা সাংবাদিক নির্যাতন যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কারণ, রাষ্ট্রীয় বা প্রশাসনিক খুঁটির জোরই সবচেয় বড় জোর। এছাড়া রাজনৈতিক ঘটনা অথবা কর্মসূচির জেরে অথবা জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও সাংবাদিক নির্যাতন হয়।

রাজনৈতিক কারণে স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। স্থানীয় কিছু সাংবাদিকদের স্থানীয় সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ‘ম্যানেজ’ করেই চলতে হয়, যেটা হয়তো ঢাকার একজন সাংবাদিককে করতে হয় না। মফস্বল সাংবাদিকদের স্থানীয় প্রভাবশালী মহল, সন্ত্রাসী ও বড়ভাইদের সমীহ করে চলতে হয়। জান বাঁচিয়ে মা-বোন-স্ত্রী সংসার নিয়ে এলাকায় থাকতে হলে চারদিকে চোখ কান খোলা রেখে সাংবাদিকতা করতে হয়। জান বাঁচিয়ে তবেই জবানের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হয় সাংবাদিকদের। তা না হলে সাংবাদিক মুজাক্কিরের (বুরহান) মতো ভাগ্য বরণ করতে হয়। রাজনৈতিক দলের দুই নেতার অনুসারীদের গৃহযুদ্ধের মধ্যে পড়ে নিহত হয়েছেন বুরহান মুজাক্কির। মামলা মোকদ্দমা হয়েছে। বিচার কি পেয়েছে? বুরহানের পরিবার যদি বিচার পেয়েও থাকে, বুরহানকে কি তারা ফিরে পাবে?

অনেকে জান বাঁচিয়ে সাংবাদিকতা করতে পারলেও গুম অথবা নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ভয় তাদের তাড়া করে। নিখোঁজ হওয়ার পর ভাগ্য ভালো হলে বাপ-মার কোলে ফিরে আসা যাবে। না হলে সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্নের মতোই হারিয়ে যাবে অজানা কোথাও। এ ভয়ও তো আছে। কোম্পানীগঞ্জের চলমান রাজনৈতিক
সহিংসতায় নির্যাতনের শিকার হচ্ছে সাংবাদিকরা, কিন্তু কোম্পানীগঞ্জে তিনটি সাংবাদিক সংগঠন থাকলেও তাদের কোন প্রতিবাদ চোখে পড়ার মতো নয় । এই নির্যাতনের শিকার সাংবাদিকরা বেশির ভাগ আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রেসক্লাব কোম্পানীগঞ্জের সদস্য হলেও তেমন কোন প্রতিবাদ করতে পারেননি সংগঠনটি । এই সংগঠনের সদস্য বোরহান উদ্দিন মুজ্জাকির নিহত হয়েছেন এই রাজনৈতিক সহিংসতায়,এই ঘটনার সূত্র ধরে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন রনি, তিনি এখন এলাকাছাড়া, এরপর গ্রেফতার করা হয়েছে প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান ইমাম রাসেলকে, পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পেলেও হামলার আতংক নিয়ে শংকিত তিনি। এর কিছুদিন পর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও প্রেসক্লাব কোম্পানীগঞ্জের সাবেক সভাপতি প্রশান্ত সুভাষ চন্দকে তার নিজ বাড়িতে হামলা করে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়ে তার বাড়িতে লুটপাট চালায়, তিনিও এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন।এরপর নোয়াখালী প্রতিদিন এর সম্পাদক রফিকুল আনোয়ার ও প্রথম আলোর প্রতিনিধি মাহবুব রহমানকে প্রাণনাশের হুমকির ফলে তারা ও আতঙ্ক নিয়ে জীবনযাপন করছেন। সর্বশেষ নোয়াখালী প্রতিদিন এর প্রতিনিধি নাসির উদ্দিন এর উপর হামলা করে তাকে গুরুতর আহত করা হয়েছে । এই সকল ঘটনার একটিরও প্রতিবাদ করতে পারেননি সংগঠনগুলো।এই বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জে কাজ করে এমন এক সাংবাদিক প্রতিনিধি বলেন আমাদের সাংবাদিকদের মাঝে একতা না থাকার কারণে আজকে সাংবাদিকরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আমাদের একতাবদ্ধ হয়ে এর প্রতিবাদ করতে হবে । তাহলেই কেউ আর সাংবাদিক দের উপর হামলা করতে শতবার চিন্তা করতে হবে।আমরা যদি একতাবদ্ধ হতে না পারি তাহলে এই ভাবে পড়ে পড়ে মার খেতে হবে।

সরোজিনে গিয়ে দেখা গেছে প্রেসক্লাব কোম্পানীগঞ্জের অফিস তালাবদ্ধ থাকে। এই ক্লাবে এখন আর সাংবাদিকরা আসেন না। এই ক্লাবের সদস্যরা কেউ আত্মগোপনে কেউ নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করছেন। কোম্পানীগঞ্জ প্রেস ক্লাব নামে অপর সাংবাদিক সংগঠন এর অবস্থা একই রকম তারাও অফিস তালাবদ্ধ রেখেছেন, রিপোর্টার্স ইউনিটির অবস্থা একই রকম। কোম্পানীগঞ্জের সাংবাদিকদের মাঝে যারা নতুন এই পেশায় এসেছে তারা পেশা পরিবর্তন করে নতুন পেশায় নিয়োজিত হচ্ছে। আর যারা এই পেশায় আছেন তারাও অন্যত্র নিরাপদে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। এখন কোম্পানীগঞ্জে দায়িত্বরত সকল সাংবাদিক দের একটাই দাবি তাদের নিরাপত্তা প্রদান করা হোক ।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর