• E-paper
  • English Version
  • রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:২০ পূর্বাহ্ন

গুণীজন সংকীর্তন, গাছে পেরেক ও অন্যান্য প্রসঙ্গ

সাইফুর রহমান কায়েস
  • আপডেটের সময় বুধবার ১৪ জুলাই, ২০২১

ভেচ্ছাজ্ঞাপক রাজনৈতিক দলের কর্মী, চিকিৎসক -এরা মানুষের প্রতি কতো দরদ দেখান! আজ বিশ্ব যেখানে মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে বাচার জন্য ভেন্টিলেটর খুজছে হণ্যে হয়ে, দেশের বিশিষ্টজনদের হারিয়েছি একই কারণে। বটবৃক্ষ প্রচুর পরিমাণে বিমল বায়ূ দিয়ে মানুষের স্বসনক্রিয়াকে সচল রাখছে বিনামূল্যে সেখানে এই ষাটোর্ধ গাছটিই এখন তাদের বিজ্ঞাপন বোর্ডের পেরেকে ক্ষতবিক্ষত।

স্যার জগদীশ বসু আবিষ্কৃত বৃক্ষের প্রাণতত্ত্বের কথা এরা বেমালুম ভুলে গিয়ে প্রকৃতির বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতার প্রমাণ রাখছেন। আমরা এই সমস্ত ভুইফোড় চিকিৎসক , সমাজসেবকদের কাণ্ডজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারি নিশ্চই।
হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার দক্ষিণ নরপতি গ্রামের আবুল হোসেন নোমান চৌধুরী রোডস্থ নোমাননগরের প্রবেশমুখের যুগলবটগাছ থেকে নেয়া ছবিগুলোতে সেই দৃশ্যটি প্রমাণিত। শুভানুধ্যায়ীগণ বলছেন সারাদেশেই গাছে বছরব্যাপী পেরেক মেরে আত্মপ্রচারসর্বস্বতার মতো বিবেকহীন নির্লজ্জতা চলমান রয়েছে, যেটি নিসর্গপ্রীতির সাথে যায় না। লকডাউন চলাকালে পুলিশ এবং প্রশাসনের শ্রমলব্ধ অব্যাহত প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবীদার। করোনাকালে তারা ফ্রন্টিয়ার হিসাবে কাজ করায় মানুষের ভেতরে সচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছে। তারা বৃত্ত ভেঙ্গে, শারীরিক মানুষ থেকে সাংস্কৃতিক মানুষে পরিণত হতে গিয়ে মানুষ মানুষের জন্য এই মর্মবাণী তারা আত্মস্ত করতে মনোযোগ দেয়ায় জনবান্ধব পুলিশের অভিধায় অভিসিক্ত হতে পেরেছেন বলেই আমরা মানবিক একজন শওকত কিংবা একজন মোহাম্মদ উল্ল্যা বিপিএম, পিপিএম কিংবা দেশপ্রেমিক ওসি মাহবুবুর রহমানের মতো মানুষের মানবিকতা ও দায়বদ্ধতাকে সম্মান জানাই।
মানুষকে লাঠিপেটা করে সচেতন করা যায় না। তার অন্তর্গত বোধ ও বুদ্ধি ও বিবেককে জাগিয়ে তোলার মাধ্যমে কার্যকরভাবে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা যায়। একজন ভালো, উদ্যমী, সৃষ্টিশীল মানুষ যখন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত হন তখন দেশের ও দেশের মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতা অনুভব করেন। জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হন। অর্পিত দায়িত্বের বাইরেও কল্যাণকর কাজে নিজেকে সম্পৃক্তির আনন্দধামে মেতে উঠেন।
এই করোনাকালে লকডাউন সামলে উঠা কঠিন। মানুষকে কোনোভাবেই আটকে রাখা যাচ্ছে না। হাটে বাজারে মানুষের ভিড়ভাট্টা কমানো যাচ্ছে না। কোরবানির পশুর হাটকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জনসমাগম বেড়েই চলছে। ফলে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘিত হবার আশংকাটি স্থায়ী শংকায় রূপান্তরের পাশাপাশি একটি সংকটের রূপ পরিগ্রহ করায় সরকারের মহতী উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার কমছেই না। মৃত্যুর মিছিল আরো দীর্ঘ হচ্ছে।
পুলিশ বা শৃঙ্খলিত বাহিনীর দ্বারা মানুষকে ঘরে রাখার কাজটি দুরূহ। কম্যুনিটি বেইজড অর্গানাইজেশনগুলিকে শক্তিশালী করতে না পারলে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দেয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। কারণ উদ্যমী মানুষদের বিশাল অংশেরই আর্থিক বুনিয়াদ শক্ত নয়, যতোটা দৃঢ় তাদের মনোবল। দলমতের বিভেদ ঘুচিয়ে সংগঠন এবং ব্যক্তির কিংবা ব্যক্তিত্বের আত্মোৎসর্গ করার মনোভূমিকে আরো উর্বর করতে উদার দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিতে হবে। সকল সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠতে পারলে জাতির জনকের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন খুব সহজেই সম্ভব ।
স্বৈরাচারী সরকার সোনার বাংলায় সবুজ বিপ্লব সাধনের লক্ষ্যে এফরেষ্টেশন বা বনায়নের উদ্যোগ হাতে নিয়েছিলো। যার অংশ হিসাবে বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক বা মহাসড়কের পাশে, গ্রামীণ রাস্তার পাশে বৃক্ষায়নের উদ্যোগটি চলমান থাকায় দেশব্যাপী এটি সামাজিক আন্দোলনের স্বীকৃতি পেয়েছে। মানুষ বৃক্ষায়নের সরকারী উদ্যোগের সাথে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। ফলে সবুজাভ একটি বাংলাদেশকে আমরা দেখতে পেয়েছি। এই গাছগুলির সুরক্ষা প্রদানের জন্য অড়হর ডালের গাছকে বেছে নেয়া হয়েছিলো। ফলে মানুষ অড়হর থেকে তাদের উদ্ভিজ্জাত আমিষের যোগান পেলেও অন্যান্য গাছের কোনো ক্ষতিসাধন করেন নি। একে নিজেদের সম্পদ বলে গণ্য করেছেন। বিশ বছরে অনেক মহাসড়কে সেগুলি সবুজের সমারোহ সঞ্চারিত করতে পেরেছে। কিন্তু কিছু দুর্বৃত্ত সেগুলোকে নিজেদের লাভ ও লোভের প্রধান মোক্ষণ বিবেচনা করে নির্বিচারে নিধনযজ্ঞে মেতে উঠায় মহাসড়কের বা গ্রামীণ রাস্তা বৃক্ষহীন হয়ে পড়ায় উষ্ণতাযুক্ত হয়েছে বহুধায়।
দেশে এখন বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে শতবর্ষজীবী অনেক গাছই কেটে ফেলে অক্সিজেন ফ্যাক্টরি বদ করার প্রবণতাটি এই জাতির শ্বসনকার্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
কাঠের চারা লাগানোর নামে জমির উর্বরতা এবং প্রতিবেশের মারাত্মকভাবে ক্ষতিসাধন করা হয়েছে । বৃক্ষ থাকলেও সেখানে বিহঙ্গ নেই। বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে অনুধাবন করার সময় এখনি ।
করোনাকালে প্রচুর নিম, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, সাজনা , বট, করচ, হিজল, হরিতকি, আমলকী, বহেরা, অর্জুন, আম, কাঠাল, জাম, কাঠালচাপা, দেবদারু, নারিকেল, তাল, সুপারি ইত্যাদি গাছ লাগানো প্রয়োজন।
আমরা আশা করবো সস্তায় প্রচার পেতে গাছে পেরেক মেরে বিলবোর্ড টাঙানো বন্ধ করতে মহামান্য আদালত স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে রুল জারী করে প্রকৃতি ও প্রতিবেশের বিরুদ্ধে যুগপরাম্পরায় চলে আসা নিষ্টুরতা বন্ধ করতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদানের মাধ্যমে মহানুভবতার পরিচয় দেবেন। বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য বিচারবিভাগ এবং সংসদীয় কমিটি সম্মিলিতভাবে প্রতিবেদন দাখিল করে বাস্তবায়নের কার্যকারীতা নিয়ে মহামান্য আদালত এবং মহান সংসদকে অবহিত করার বিষয়টি আমলে নিলে জাতি উপকৃত হবে।
বিনামূল্যে পরিবেশ ও প্রতিবেশ বান্ধব গাছের চারা বিতরণের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন যদি আমরা এই সোনার বাংলায় সবুজ বিপ্লব সাধন করতে চাই।
গাছে পেরেক মেরে যারা সাইনবোর্ড লাগিয়ে নিজেদের পরিচিতি এবং ব্যবসার প্রচার ও প্রসার ঘটাতে চান তাদেরকে আমরা ধিক্কার জানাই। বিলবোর্ডের যথেচ্ছাচারিতা রোধে সরকার প্রচার ও প্রসারপ্রত্যাশী ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত কর আদায়ের উদ্যোগ নিলে জাতি আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
এইদেশে চে গুয়েভারা হয়ে এসেছিলেন জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা এখন দেশ চালাচ্ছেন। তার দৃঢ় নেতৃত্বে এইদেশ আরো এগিয়ে যাবে মানবিকতায়। ব্যক্তি মানুষের সাংস্কৃতিক রূপান্তর ঘটবে আরো অধিক হারে। এআইজি হিসাবে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত এসপি মোহাম্মদ উল্ল্যা বিপিএম, পিপিএম সেই ধারাকে বেগবান করবেন বলেই আমরা মনে করি। আমি তার আগে চিনেছি একজন ওসি মাহবুবুর রহমানকে যিনি ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানায় কাজ করেছেন। আমি তাকে এই বাংলার মহাথির মোহাম্মদ বলে অভিহিত করেছিলাম। কারণ রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মোটরবাইকগুলিকে রেজিষ্ট্রেশনের আওতায় এনে চারমাসে সরকারের কোষাগারে ত্রিশলাখ টাকা জমা করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
আমরা কারো স্তুতিগান করছি না। স্তাবকতা আমরা পছন্দ করি না। যোগ্য ব্যক্তির উপযুক্ত সম্মান জানাতে না পারাটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্য বয়ে আনে । এই পোড়খাওয়া জাতির কপাল পুড়ুক আমরা তা চাই না । একজন শওকত, একজন মোহাম্মদ উল্ল্যা কিংবা একজন মাহবুব এই জাতির জন্য যুগস্রষ্টা । যেখানে মানবতা আর দেশপ্রেমই জয়ী হয় । তাদেরকে অগাধীয় ভালোবাসায় সিক্ত করতে চাই আমরা ।
পাদটীকা:- বিলবোর্ড মেরে যারা পরিচিতি পেতে চান , নিজেদের প্রসার ঘটাতে চান তারা দেশের জন্য আত্মোৎসর্গ করার মাধ্যমেই নিজেদের সম্মানের জায়গাজমি নিশ্চিত করতে পারেন । মনে রাখুন , চেনা বামুনের পৈতা লাগে না । আর যদি মনে করেন পৈতা দিয়ে নিজের মর্যাদা বাড়াবেন তাহলে সেটা নিজেদের দেউলিয়াত্ম্যকেই প্রমাণ করবেন । সময়ই বলে তারা মেন্টর না মাস্কেটিয়ার্স ।

লেখক; প্রধান সম্পাদক
শব্দকথা টোয়েন্টিফোর ডটকম।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর