• E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন

দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন নির্বাচন নয়

শব্দকথা ডেস্ক
  • আপডেটের সময় সোমবার ১৫ নভেম্বর, ২০২১

দলীয় প্রতীক ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের দাবি জোরদার হচ্ছে। যে উদ্দেশ্য নিয়ে সরকার ৫ বছর আগে আইন করে ইউপিসহ সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে করার ব্যবস্থা করেছিল তা সফল হয়নি। বরং দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের কারণে তৃণমূল পর্যায়ে সংঘাত-সহিংসতা আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রæপিং কোন্দল বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকারী দল আওয়ামী লীগ। আর এ কারণেই দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে প্রতীক ছাড়া নির্বাচনের বিষয়টি সামনে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার দলীয় প্রতীক ছাড়া ইউপি নির্বাচনের বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে।

স্থনীয় সরকারের একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে রয়েছে ইউপি। তাই এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিটি গ্রাম পর্যায়ে এমনকি পাড়া-মহল্লার মানুষ বেশি তৎপর থাকে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য সবাই চায় তাদের পছন্দের মানুষটি যেন ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আর এতেই বিপত্তি ঘটে। বিশেষ করে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় এবং বিএনপিসহ কিছু রাজনৈতিক দল এ নির্বাচন দলগতভাবে বর্জন করায় সরকারী দল আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা যারা পাচ্ছেন তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছেন একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। অধিকাংশ ইউপিতেই দলীয় প্রতীক না পেয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েও কোথাও কোথাও ভোটে জিতেও যাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হওয়ায় সরকারী দল আওয়ামী লীগ সম্পর্কে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। তাই দেশব্যাপী চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে সংঘাত-সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার কারণে সরকার ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ বিব্রত। আর এ কারণেই আইন সংশোধনের ৫ বছরের মাথায় আবার আগের মতো প্রতীক ছাড়া ইউপি নির্বাচনের কথা ভাবছে সরকার।
সূত্র জানায়, ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতায় শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশে অর্ধশতাধিক মানুষ মারা গেছেন। এর মধ্যে অধিকাংশই আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মী। সর্বশেষ ১১ নবেম্বর দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের দিন যে ৭ জন মারা গেছেন তারা সবাই আওয়ামী লীগের। দলের চরম দুর্দিনে এসব নেতাকর্মীই তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগকে সাহস ও শক্তি যুগিয়েছেন। কিন্তু এখন দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থেকে নির্বাচন করতে পারছেন না। কেউ কেউ দলের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলেও অন্যরা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। আবার কোন কোন ইউপিতে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী হয় আওয়ামী লীগ থেকেই। আর এ সুযোগে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কোন কোন এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার নির্বাচিত হয়ে যাচ্ছেন। এভাবে দুই ধাপের ইউপি নির্বাচনে বিএনপির শতাধিক চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করে কখনও কখনও দলের জন্য অপেক্ষাকৃত কম নিবেদিত এবং দুর্বল প্রার্থী কেন্দ্র থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে আসেন। তখন এলাকার সক্রিয় নেতাকর্মীরা তার পক্ষে কাজ না করে অপেক্ষাকৃত দলের জন্য বেশি নিবেদিত ও জনপ্রিয় প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেন। তবে নৌকা প্রতীক পাওয়া প্রার্থী বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করে বিদ্রোহী প্রার্থীকে দমিয়ে রেখে নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা করেন। আর এ কারণেই স্থানীয়ভাবে দলের নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে আক্রমণের চেষ্টা করেন। এ কারণে এলাকায় সংঘাত-সহিংসতা সৃষ্টি হয়।
দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন হওয়ায় অনেক সময় সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী বিজয়ী না হয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে যান। এর ফলে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ সঠিক জনপ্রতিনিধি না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হন। কখনও কখনও অধিকতর সৎ, শিক্ষিত, মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থী দলীয় প্রতীক না পেয়ে নির্বাচন থেকেই সরে দাঁড়ান। আবার দলের কোন পদে নেই কিন্তু দলের সমর্থক এলাকার অনেক জনপ্রিয় লোক ইচ্ছে করলেও দলীয় প্রতীক না পাওয়ায় নির্বাচন করতে পারেন না। এর ফলে অনেক ভাল মানুষ স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি হওয়া থেকে বঞ্চিত হন। এসব কিছু বিবেচনা করেই আওয়ামী লীগের একটি অংশ প্রতীক ছাড়া নির্বাচনের ব্যাপারে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বার্তা দেন। এই বার্তা এখন দল ও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এবং বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে এ বিষয়টি নিয়ে দল ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন।

এদিকে প্রথম ধাপের চেয়ে দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে বেশি সহিংসতা হওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতারাকর্মীরাও আতঙ্কিত। তাই ইতোমধ্যেই পরবর্তী ধাপের ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র মনোনয়নের দাবি জোরালো হচ্ছে। ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র মনোনয়নের সুযোগ চেয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের কাছে লেখা নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর চিঠি একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। এ চিঠির কপি প্রধানমন্ত্রী বরাবরেও পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের দিন তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ইউনিয়ন ও পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের পরিবর্তে স্বতন্ত্র মনোনয়নের জন্য আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে চিঠি দেন। চিঠির একাংশে তিনি বলেন, দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের রক্তক্ষয়ী সংঘাত থেকে মুক্তির প্রত্যাশায় উন্মুক্তভাবে (স্বতন্ত্র) নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুযোগ রাখার আবেদন করছি। তার এ চিঠির বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না রাখার দাবি জানিয়েছেন। তিনি তার নির্বাচনী এলাকা ফতুল্লা ও বন্দরে দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সরকারের প্রতি এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের কারণেই মারামারি ও হানাহানি বেশি হয়েছে। তাই এ নির্বাচনে আর দলীয় প্রতীক না রাখার দাবি জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, দলীয় প্রতীক নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীরা সুবিধা নেন। তাই আর দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন দেখতে চাই না।

সূত্র জানায়, ২৫ অক্টোবর সরকারী দল আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভায় দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিষয়ে মতামত নেয়া হয়। নেতাদের কাছে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জানতে চান এভাবে নির্বাচন করায় দলের কি লাভ বা কি ক্ষতি হচ্ছে। আর কেনই বা ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এত সহিংসতা হচ্ছে। তখন বেশ ক’জন নেতা সারাদেশে ইউপি নির্বাচনের চিত্র তুলে ধরে প্রতীক ছাড়া নির্বাচনের প্রস্তাব দেন। তবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে সরাসরি কোন মন্তব্য না করলেও তিনিও ইউপি নির্বাচন নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছুটা বিরক্ত হয়েছেন বলে জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আবার প্রতীক ছাড়া নির্বাচনের কথা ভাবছে সরকার। এ নিয়ে ফাইলওয়ার্কও করা হচ্ছে। তবে প্রতীক ছাড়া নির্বাচন পদ্ধতি চালু করতে হলে আইন সংশোধন করতে হবে বিধায় তা সহসাই করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে ইঙ্গিত পেলে দ্রæততম সময়ের মধ্যে আইন সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউপি নির্বাচনে কাউকে দলীয় প্রতীক না দিয়ে নির্বাচন সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হলে অপেক্ষাকৃত ভাল প্রার্থী বিজয়ী হবেন। আর তখন প্রশাসনের লোকেরাও সব প্রার্থীর দিকে সমান নজর রাখবেন। কিন্তু এখন যেই প্রার্থী সরকারী দলের প্রতীক পান তার প্রতি প্রশাসনের সুনজর থাকে এর ফলে এই প্রার্থী অপেক্ষাকৃত বেশি প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেন। আর এই প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেই সংঘাত-সহিংসতা বৃদ্ধি পায়।
দেশে প্রায় ৫ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। তাই বর্তমান পদ্ধতিতে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী করতে গিয়ে সরকারী দল প্রত্যেকটি ইউপিতেই নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে ফেলছে। তবে প্রতীক ছাড়া ভোট হলে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে না। তাই নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজনও সৃষ্টি হবে না। সে ক্ষেত্রে দল সমর্থক যোগ্য একাধিক প্রার্থী নিজ নিজ অবস্থান থেকে নির্বাচন করতে পারবেন এবং যে প্রার্থী অধিকতর যোগ্য স্থানীয় জনগণ তাকেই নির্বাচিত করবে। এতে তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র চর্চার পথ সুগম হবে। এ ছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এবং সংসদ সদস্যরা প্রার্থী বাছাই করতে গিয়ে বিরোধে জড়াবেন না। তাই তারা সকল নেতাকর্মীর কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, দেশে নির্বাচনের যে হাল তা নিয়ে আর কথা বলতে চাই না। বিএনপি দলীয়ভাবে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। তবে সরকারী দল আওয়ামী লীগ নিজেরা নিজেরাই মারামারি ও খুনোখুনি করছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না জেনেই আমরা দলীয়ভাবে এ নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেই। বিএনপি দলের কাউকে নির্বাচন করতে বলেনি। তবে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে বিএনপির কেউ এ নির্বাচনে অংশ নিলে সেটা তার বিষয়। আগে নিরপেক্ষ সরকার, তারপর হবে নির্বাচনের চিন্তা। নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কোন নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি। আর আমরা আগে থেকেই দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচনের বিপক্ষে ছিলাম। কিন্তু সরকার আমাদের কথা আমলে নেয়নি।
সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ জানান, দলের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতীক রাখা হবে কি হবে না এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার পর কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নেতাদের মতামত নিয়েছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে কোন মতামত দেননি।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন সংশোধনের মাধ্যমে ইউপি নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করার বিধান করা হয়। যদিও সরকারের বাইরে থাকা বেশ ক’টি রাজনৈতিক দলই তখন দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিরোধিতা করেছিল। আওয়ামী লীগের কোন কোন নেতাও এমনটি চাননি। তবে দলীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত হওয়ায় এ বিষয়ে তখন আওয়ামী লীগের কেউ বিরোধিতা করেননি। কিন্তু এখন এ নিয়ে দলের অনেক নেতাকর্মীই বিব্রত। কারণ, নির্বাচনে একজনকে দলীয় প্রতীক নৌকা দিলে আরও একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে ভোট দিতে গিয়েও বিব্রত হতে হয়।
প্রথম ধাপে সারাদেশের ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়। এর মধ্যে বেশিরভাগ ইউপিতে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হলেও বেশ ক’জন ওই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীও বিজয়ী হন। অবশ্য ক’জন স্বতন্ত্র প্রার্থীও বিজয়ী হয়েছেন। ১১ নবেম্বর দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হয় ৮৩৬টি ইউপির নির্বাচন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার। এসব বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে কারও কারও জন্য কাজ করেছেন স্থানীয় এমপি-মন্ত্রীরাও। এ কারণে এই বিদ্রোহী প্রার্থীরা নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের পাত্তা দেননি। তবে অধিকাংশ স্থানীয় এমপি ও মন্ত্রী কাজ করেছেন দলীয় প্রার্থীর পক্ষে। তবে ইউপি নির্বাচনে প্রথম ধাপের তুলনায় দ্বিতীয় ধাপে সরকারী দলের প্রার্থী ও সমর্থকরা বেশি সোচ্চার থাকায় পরস্পরবিরোধী সহিংস ঘটনা বেশি হওয়ায় হতাহতের সংখ্যাও বেড়েছে।
তৃতীয় ধাপে ২৮ নবেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ১ হাজার ৭টি ইউপির নির্বাচন। এ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা সহ¯্রাধিক। দলগতভাবে নির্বাচন বর্জন করার পরও বিএনপি স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে প্রথম ধাপের তুলনায় দ্বিতীয় ধাপে বেশি ইউপিতে বিজয়ী হয়েছেন। তাই তৃতীয় ধাপসহ অন্যান্য ধাপের নির্বাচনের প্রতিও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা এখন বেশি তৎপর হচ্ছেন। কোথাও কোথাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ীও হয়ে যাচ্ছেন। তবে কোন কোন এলাকায় বিএনপি সরাসরি প্রার্থী না দিয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছে। এর ফলে বিএনপি নেতাকর্মীরা কখনও কখনও পরিকল্পনা করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীকে উস্কে দিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সঙ্গে হাঙ্গামা বাঁধিয়ে দিয়ে সরকার ও আওয়ামী লীগকে বেকায়দায় ফেলছে। সরকারের প্রতীক ছাড়া নির্বাচনে ফিরে যাওয়ার ভাবনার এটিও একটি বড় কারণ বলে জানা যায়।
কুমিল্লা জেলার একটি ইউপিতে অংশগ্রহণকারী একজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জানান, দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের চরম দুর্দিনে এলাকায় দলকে সক্রিয় রেখেছি। কিন্তু ইউনিয়ন সভাপতি হওয়া সত্তে¡ও দলে আমাকে মনোনয়ন না দিয়ে নতুন আসা একজনকে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়। এর ফলে আমি ও আমার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আমরা দু’জনই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হই। কিন্তু প্রশাসনের প্রভাব বিস্তার করে নৌকা প্রতীক পাওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকেরা আমাদের কর্মী সমর্থকদের ওপর একাধিকবার হামলা করে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিব্রত হয়েছেন। তাই যদি কাউকে দলীয় প্রতীক না দেয়া হতো তাহলে এভাবে একই দলের এক প্রার্থীর লোকেরা অন্য প্রার্থীর লোকদের ওপর হামলা করত না। এর ফলে যে যার মতো করে নির্বাচন করে অধিক জনপ্রিয় ব্যক্তি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারতেন। এর ফলে গ্রাম পর্যায়ে গণতন্ত্রের ভিত্তিও শক্তিশালী হতো।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু জানান, ইউপি নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা দুঃখজনক ও আমাদের জন্য বিব্রতকর। তাই পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

সূত্রঃ দৈনিক জনকণ্ঠ


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর