• E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন

দেশের উন্নতির চাবিকাঠি মধ্যবিত্ত শ্রেণি 

ইমরান খান রাজ 
  • আপডেটের সময় শুক্রবার ২৯ অক্টোবর, ২০২১

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এদেশে পূর্বের চেয়ে বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন বৃদ্ধি পেয়েছে, সেই সাথে অর্থনৈতিক অবস্থা ব্যপক পরিবর্তন হয়েছে। না খেয়ে থাকা মানুষের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে এবং পাচ্ছে। বাংলাদেশে ধনীর পরিমাণ বাড়লেও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রার মান খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। যারা নিম্নবিত্ত শ্রেনীর মানুষ রয়েছে তাঁরা তাঁদের বিভিন্ন প্রয়োজনে উচ্চবিত্ত বা মধ্যবিত্তের কাছে সাহায্য পায়। কিন্তু মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষেরা লোকলজ্জা আর আত্নসম্মানের ভয়ে যেকোনো প্রয়োজনে কারো নিকট হাত পাততে চায় না। তাঁরা কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করলেও কারো কাছে আর্থিক সাহায্যের অনুরোধ করে না। মধ্যবিত্ত হলো সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসের মাঝামাঝি এক শ্রেণির মানুষ। করোনাকালীন সময়ে আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানের মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের খবর পেয়েছি। পত্রপত্রিকায় দেখেছি তাঁদের নিদারুণ কান্না আর বুকফাটা হাহাকার।

বিজ্ঞাপন

একটি দেশের সার্বিক উন্নয়ন তখনই হয়, যখন সেই দেশের সকল মানুষের সার্বিক উন্নয়ন সাধন হয়৷ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত যেই শ্রেনিরই হোক না কেন তাঁর সার্বিক উন্নয়ন দরকার। সেটা শুধু পরিবারের জন্য নয়, সেটা সমাজ তথা দেশের জন্য। বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) তত্কালীন গবেষণা পরিচালক ও বর্তমান মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন ‘সাইজ অ্যান্ড গ্রোথ অব দ্য মিডল ক্লাস ইন বাংলাদেশ: ট্রেন্ডস, প্রোফাইলস অ্যান্ড ড্রাইভারস’ শীর্ষক একটি গবেষণা করেন। সেখানে দেখা যায়, বাংলাদেশের সেই সময়কার মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠী বা ৩ কোটি ৬৮ লাখ মানুষ ছিলো মধ্যবিত্ত। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর মাত্র ৯ শতাংশ মধ্যবিত্ত ছিল। তবে ২০২৫ সালে তা ২৫ শতাংশে উন্নীত হবে ও ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মধ্যবিত্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশ ও দেশের মানুষ। এই এগিয়ে চলার ধারা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের উন্নয়নে গুরুত্ব বাড়াতে হবে।
যারা মধ্যবিত্ত শ্রেণির রয়েছে তাঁদের আর্থিক সমস্যার কারনে ঐ পরিবারের সন্তানরা অনেকসময় উচ্চশিক্ষা লাভের দিক থেকে পিছিয়ে পরে৷ আর্থিক সংকটের ফলে এই ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে আমাদের দেশে৷ যার ফলে দেশে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। মধ্যবিত্ত শ্রেনীর পরিবারের নারীরা কর্মক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। পরিবার প্রধানের নির্দেশে ঐসব পরিবারের নারীরা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভীত থাকে। যার ফলে মধ্যবিত্ত শ্রেণির আর্থিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়। এই শ্রেণির মানুষেরা অনেকসময় উচ্চশিক্ষা লাভ না করেই ছোটখাটো কর্মসংস্থানের দিকে ছুটে পরে৷ কেউ কেউ কৃষির দিকে অগ্রসর হয় আবার কেউ নিজে থেকে ছোট ছোট উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে ও তাঁদের আর্থিক অবস্থা পরিবর্তন করতে সরকারের নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। তবেই এদেশ ক্ষুধাহীন, উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিনত হবে।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর