• E-paper
  • English Version
  • শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:৫১ অপরাহ্ন

ন্যানোবায়োটেকনোলজি গবেষণার মাধ্যমে জটিল ও কঠিন রোগ নিরাময় সম্ভব

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  • আপডেটের সময় বুধবার ৩১ মার্চ, ২০২১

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যে কয়টা উপাদান রয়েছে ন্যানোটেকনোলজি ও বায়োটেকনোলজি তাদের মধ্যে অন্যতম। বায়োটেকনোলোজির মাধ্যমে জিন পরিবর্তন কিংবা জিন মেরামতের মাধ্যমে প্রাণীর বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমা বৃদ্ধি এবং রোগ নিরাময় সম্ভব। সেক্ষেত্রে বায়োটেকনোলজিতে ন্যানোটেকনোলজির ব্যবহার বায়োটেকনোলজির উপযোগীতাকে বহুগুণে বৃদ্ধি করে। ফলে ন্যানো এবং বায়ো উভয় টেকনোলজির একীকরণ এর মাধ্যমে ন্যানোবায়োটেকনোলোজির উৎপত্তি।

অত্যাধুনিক জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজির সাথে ন্যানোটেকনোলোজির ব্যবহারের ফলে অনেক সমস্যার কারণ অনুসন্ধান, রোগ নির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণ, ঔষধ আবিষ্কার, ঔষধের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, জিন থেরাপি, টিস্যু মেরামত ইত্যাদি করা সম্ভব। তাই একবিংশ শতাব্দিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ন্যানোবায়োটেকনোলজি বিজ্ঞানীদের অধিক আগ্রহের, বহুল অধীত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

বাংলাদেশ ন্যানো সোসাইটির উদ্যোগে শনিবার রাতে “ইনফ্লুয়েন্স অব
বায়োফাংশনালাইজড ন্যানোমেটেরিয়েলস অন দ্যা এডভান্সমেন্ট অব
ন্যানোবায়োটেকনোলজি রিসার্চ ফ্রম ব্যাঞ্চ টু ক্লিনিক” শীর্ষক ওয়েবিনারে
আলোচকবৃন্দ উপরোক্ত মতামত ব্যক্ত করেন। ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন
করেন জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ শরীফ হোসেন।

ন্যানোবায়োটেকনোলজির চমৎকার সব প্রয়োগ, ভবিষ্যত সম্ভাবনা ও বাংলাদেশে গবেষণার সুযোগ ও প্রতিবন্ধকতার ওপর প্রাথমিক আলোচনার পর তিনি কার্বনেট এপেটাইট নামক এক ধরণের ন্যানোমেটেরিয়েলসকে বিভিন্ন প্রকার জৈব অণু যেমন ডিএনএ, আরএনএ এর সাথে কার্যকরভাবে সন্নিবেশিত করে কীভাবে প্রাণির দেহে ক্যান্সার চিকিতসার ঔষধ সরবরাহ করা যায় সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। পাশাপাশি স্টেম সেল এর কার্যক্রিয়া ও টিস্যু পুনরুৎপাদন প্রক্রিয়ায় আলোচ্য ন্যানোমেটেরিয়েল কীভাবে কাজ করে তার ওপর বিস্তারিত আলোচনা করেন।

ওয়েবিনারে উপস্থাপিত প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের
অধ্যাপক ড. মোঃ ফারুক মিয়া দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জীব বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের জন্য অত্যাধুনিক ন্যানোবায়োটেকনোলজি কোর্সটি পাঠ্যসূচীতে অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ন্যানোবায়োটেকনোলজি বিষয়ে গবেষণায় আরও বেশি মনোযোগী হওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারুপ করেন।

ওয়েবিনারে সভাপতি হিসাবে উপস্থিত থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ তোফাজ্জল ইসলাম গুরুত্ব বিবেচনায়
তাদের প্রতিষ্ঠানে ন্যানোবায়োটেকনোলজি কোর্সটি ইতোমধ্যেই স্নাতকোত্তর
শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের পড়ানো হয়ে বলে জানান। তিনি ন্যানোবায়োটেকনোলজি
গবেষণায় বাংলাদেশে সম্ভাবনা, প্রতিবন্ধকতা এবং ভবিষ্যত প্রযুক্তির নির্ভরতার
ওপর বিস্তারিত আলোচনা করেন।

তথ্যবহুল আলোচনার শেষাংশে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর
পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বুয়েটের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আল-নকীব চৌধুরীর বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া ওয়েবিনারটি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব রব্বানী পরিচালনা করেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ন্যানো সোসাইটি নিয়মিত এ ধরণের ওয়েবিনারের আয়োজন করে থাকে।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর