• E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন

পইল ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সৈয়দ মইনুল হক আরিফ এর একান্ত সাক্ষাৎকার

এম.এ.রাজা, হবিগঞ্জ
  • আপডেটের সময় বুধবার ২৪ নভেম্বর, ২০২১

হবিঞ্জ জেলায় পইল ইউপি নির্বাচন আলোচনার শীর্ষে তৃতীয় ধাপে ১ হাজার ৭ টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এর মধ্যে রয়েছে হবিগঞ্জ সদর ও নবীগঞ্জ উপজেলা। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়,পইল ইউনিয়নের প্রত্যেকটা ঘরেই নির্বাচনী আমেজ উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাস্তার মোড়ে মোড়ে চা এর স্টলগুলোতে পছন্দের প্রার্থীদের সমর্থকরা পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা করেন। এতে অংশগ্রহণ করেন সাধারণ ভোটাররাও।কারণ হিসেবে উঠে এসেছে একদিকে সৈয়দ আহমদুল হকের ছেলে সৈয়দ মইনুল হক আরিফ, সৈয়দ আহমদুল হক ছিলেন একাধিকবার পইল ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং হবিগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এছাড়াও তিনি গ্রামীণ সালিশ বিচার করে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন। সৈয়দ আহমদুল হক (পইলের সাব) হিসেবেই জেলাজুড় ও জেলার বাহিরে পরিচিত ছিলেন। তাঁর ছেলে সৈয়দ মইনুল হক আরিফ বর্তমান পইল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এই বছরও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। সৈয়দ আহমদুল হকের ছেলে সৈয়দ মইনুল হক আরিফের জন্য পইল ইউনিয়ন বাসীর মনে রয়েছে বাড়তি ভালোবাসা। অন্যদিকে পইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাহেব আলী আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হওয়ায় তাঁরও রয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা। আজকে আমরা এসেছি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ৪ নং পইল ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সৈয়দ মইনুল হক আরিফের কাছে,আমরা চেষ্টা করব সাক্ষাতকারের মাধ্যমে পার্থীর অনেক না জানা কথা আপনাদের সামনে তুলে ধরার।

বিজ্ঞাপন

শব্দকথা২৪.কমঃ আসসালামু আলাইকুম কেমন আছেন?

সৈয়দ মইনুল হক আরিফঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি আপনারা কেমন আছেন।

শব্দকথা২৪.কমঃ আপনি নির্বাচিত হওয়ার পর বিগত দিনে পইল ইউনিয়ন বাসীর জন্য কি কি উন্নয়ন মূলক কাজ করেছেন?

সৈয়দ মইনুল হক আরিফঃ ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ থেকে ইউনিয়নের আভ্যন্তরিক কাজগুলো করা হয়েছে যেমন ইট সোলিং সহ মাটি ভরাটের কাজ । এ ছাড়াও স্থানীয় এমপি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান এর মাধ্যমে ইউনিয়নের ভিতর প্রায় ২৫ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। শহীদ এনাম স্মৃতি সংঘের পক্ষ থেকে প্রতিবছর চক্ষু শিবিরের আয়োজন করা হয় এতে খরচ হয় প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা করে। এছাড়াও ২০১৭-২০১৮ অর্থবছর থেকে গরু কোরবানির করে প্রতিবছর প্রায় ২ হাজার মানুষের মধ্যে দুই কেজি করে কুরবানির মাংস বিতরণ করা হয়। এই খাতে এই পর্যন্ত প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।এই পর্যন্ত ৭০ লক্ষ টাকা অর্থমূল্যের সাড়ে ৭শত পানির টিউবল গরীব অসহায়দের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।গরীব অসহায়দের মধ্যদেড় লক্ষ টাকা মূল্যের দশটি নতুন রিক্সা বিতরণ,এছাড়াও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ টি মসজিদ নির্মাণ,১০ টি গরিব অসহায় পরিবারের মধ্যে ১ লক্ষ টাকা মূল্যের ছাগল বিতরণ,পইল শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু মন্দিরে ২০ হাজার টাকা এবং এরালিয়া লোকনাথ মন্দিরে ২০ হাজার টাকা মোট ৪০ টাকার অনুদান।

বারা পইল মরহুম মরম আলী সাহেবের মাজারে ২৫ হাজার টাকা, গৃহহীন ৩০টি অসহায় পরিবারকে নতুন ঘর প্রদান ,করোনা কালীন সময়ে পইল ইউনিয়নের কর্মহীন মানুষদের মধ্যে ১৫ লক্ষ টাকার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, সহ খেলাধুলা এবং শিক্ষা খাতে আমরা যথার্থ অবদান রাখার চেষ্টা করেছি ।

শব্দকথা২৪.কমঃ আপনার নির্বাচনী ইশতেহার কি?

সৈয়দ মইনুল হক আরিফঃ সামাজিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা অসমাপ্ত কাজগুলো আগামী দিনগুলোতে সমাপ্ত করা। শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা পইল ইউনিয়ন এর ভিতরে যত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে সেগুলোতে যাতে নির্বিঘ্নে ছাত্র ছাত্রীরা পড়াশোনা করতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখা। এছাড়া সরকারি কোন সূত্রে যদি বেকারত্ব দূর করনে কাজ করা যায় সেদিকে নজর রাখা।

শদকথা২৪.কমঃ আপনি নির্বাচিত হওয়ার পর এমন কি কাজ আছে যা আপনি করতে পারেননি, অর্থাৎ আপনার ব্যর্থতা??

সৈয়দ মইনুল হক আরিফঃ ব্যর্থতা বলতে তেমন কিছু নেই তবে কিছু জিনিস আছে আমাদের নাগালের বাহিরে যেমন বরাদ্দ আছে ১০ টাকা কিন্তু চাহিদা ৫০ টাকা সেক্ষেত্রে হয়তো সবার মন রক্ষা করতে পারিনি। তবে আবারো যদি আমি নির্বাচিত হই আমার অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার চেষ্টা করব। এছাড়া গ্রামীণ বিচারব্যবস্থায় অদৃশ্য একটা সার্কেল গড়ে উঠেছে। যার জন্য অসহায় মানুষেরা তাদের উপযুক্ত বিচার পান না সেই সার্কেল আমরা ভেঙে দেয়ার চেষ্টা করব ।এছাড়া শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করার চেষ্টা করব। কারণ পইল ইউনিয়নে শিক্ষার হার বাড়লেও সে তুলনায় শিক্ষার গুণগতমান তেমন একটা ভাল হয়নি।তাই আমি যদি দ্বিতীয় বার নির্বাচিত হই শিক্ষার গুণগত মান ভালো করার চেষ্টা করব।

শব্দকথা২৪.কমঃ গত নির্বাচনের পরে চাঞ্চল্যকর বিষয় ছিল, পইল ইউনিয়নে বড় ধরনের সহিংসতা।এতে অনেক মানুষ আহত হয়েছে এবং ভাঙচুর করা হয়েছে একাধিক বাড়ি ঘর এর পিছনের কারন কি?

সৈয়দ মইনুল হক আরিফঃ সহিংসতার তেমন কোন কারণ আমি দেখছি না, গত নির্বাচনে আমি নির্বাচিত হওয়ার পর সর্মথকরা আনন্দ উল্লাস এর সাথে রং খেলায় মেতে ছিল।ওই সময় হয়তো ভুলবশত প্রতিপক্ষের লোকজনের উপর রঙের চিটা পড়তে পারে ।এছাড়া প্রতিপক্ষের প্রার্থী নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পিছনেও সহিংসতার একটা মূল উৎস থাকতে পারে।আমি এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র অবগত ছিলাম না।ঘটনার সময় আমি শহরে ছিলাম পরবর্তীতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি।পরে বড় ধরনের সহিংসতা যাতে না ঘটে সেই লক্ষ্যে কাজ করেছি। কারণ আমাদের পক্ষে লোক ছিল প্রায় হাজারের উপর ওই প্রতিপক্ষের লোক সে তুলনায় মাত্র ১শ কাছাকাছি।যদি ঝগড়া লাগে তাহলে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।সেই কথা চিন্তা করে আমি পুলিশ ভাইদের সাথে নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেছি।পরের দিন পেপার পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারছি ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য শিবুদার বাড়িতে নাকি আমার লোকজন আক্রমণ করেছে যা আমার ধারনার বাহিরে ছিল।

শব্দকথা২৪.কমঃ আপনি আবারও জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে চাচ্ছেন সেটা কি সৈয়দ আহমদুল হকের ছেলে হিসেবে? নাকি বিগত ৫ বছরে আপনার নিজস্ব একটা অবস্থান হয়েছে তার ভিত্তিতে নির্বাচিত হতে চান।

সৈয়দ মইনুল হক আরিফঃ আমি সৈয়দ আহমদুল হকের ছেলে সেটা আমি সবার উপরে রাখবো। এই কথার সাথে অন্য কিছুর তুলনা হয়না। এছাড়া বিগত দিনে আমি মনে করি আমার একটা অবস্থান হয়েছে। কারণ হিসেবে আমি অনেকগুলো ব্যতিক্রমধর্মী কাজ করেছি যা আমার ধারণা সিলেট বিভাগের অন্য কোথাও হয়নি।
যেমন সাড়ে ৭শর বেশি টিউবওয়েল স্থাপন, প্রতি বছর দুই হাজারের বেশি অসহায় মানুষদের মধ্যে কোরবানির মাংস বিতরণ, গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণ, মসজিদ নির্মাণ সহ মন্দিরে অনুদান। এরকম অসংখ্য ব্যতিক্রমধর্মী কাজ করায় মানুষের মনে আমি একটা স্থান করে নিয়েছি। যার জন্য আমি নির্বাচনের ওয়ার্ক ১০ জন মানুষ নিয়ে শুরু করলে অটোমেটিক পিছন দিক থেকে ৪-৫শত মানুষ জড়ো হয়ে যায়।এতেই বুঝা যায় মানুষের মনে আমি একটা স্থান করে নিয়েছি ।

শব্দকথা২৪.কমঃ অসংখ্য ধন্যবাদ সৈয়দ মইনুল হক আরিফ আপনার মূল্যবান সময় দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য। আমরা চাই গত নির্বাচনের মতো যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। নির্বাচন হোক উৎসবমুখর পরিবেশে সেই কামনা করছি আসসালামুআলাইকুম ভালো থাকবেন।

সৈয়দ মইনুল হক আরিফঃ আল্লাহর দয়া এবং মানুষের ভোটে যদি আমি নির্বাচিত হই তাহলে কথা দিলাম আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহিংসতা হবে না ।যদিও অনেক ছোটখাটো অপ্রীতিকর কথাবার্তা কানে আসছে যেগুলোতে গুরুত্ব দেই না দিলেই ঝগড়া ছাড়া উপায় নেই। আমাদের একটাই লক্ষ্য ২৮ তারিখ নির্বাচনে জয়ী হওয়া। টুকটাক বিষয়গুলি আমরা সহ্য করে যাচ্ছি কোন জবাব দিচ্ছি না। এবং নির্বাচনের পরেও আমরা কোন ধরনের সংঘাত এ যাব না। আপনাদের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে বলতে চাই আমাদের উপর আস্থা রাখার জন্য । অসংখ্য ধন্যবাদ সংশ্লিষ্ট সবাইকে। ভালো থাকবেন আসসালামু আলাইকুম ।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর