• E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন

প্রশ্নফাঁস দেশের জন্য অকল্যাণকর 

ইমরান খান রাজ 
  • আপডেটের সময় সোমবার ২২ নভেম্বর, ২০২১

যথাযথ কতৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় অবহেলার ফলে বর্তমানে সকল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি বেশিরভাগ চাকুরির পরিক্ষার সময় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটে থাকে৷ পূর্বেও আমরা এসব ঘটনা শুনেছি পত্রিকা বা টেলিভিশনে। এমনকি এসএসসি, এইচএসসিসহ অন্যান্য বোর্ড পরীক্ষাগুলোতেও একই অবস্থা। যা খুবই দুশ্চিন্তার বিষয়। প্রশ্নফাঁস একটি দেশের জন্য অকল্যাণকর ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা। প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে হাজারো মেধাবী শিক্ষার্থীদের অবমূল্যায়ন করা হয়৷ প্রশ্নফাঁসের ফলে একজন নিম্নমানের শিক্ষার্থীও সহজেই উচ্চপর্যায়ের চাকরি পেয়ে যায়। আর এসবের মূলে রয়েছে টাকা৷ যাদের টাকা আছে তাঁরা তাঁদের টাকা দিয়ে সহজেই প্রশ্নপত্র কিনে, চাকরির পরীক্ষায় পাশ করে ভালো বেতন ও ভালো পর্যায়ের চাকরি পায়। অথচ সেই ব্যক্তি এই পদের যোগ্য নয়। এক্ষেত্রে টাকার কাছে হার মেনে যায় মেধা৷

বিজ্ঞাপন

প্রশ্নফাঁস বর্তমানে বাংলাদেশের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিন্তার বিষয়ে পরিনত হয়েছে। যা অনেকটা ক্যানসারের মতো ! ধীরে ধীরে শেষ করে দিচ্ছে মেধাবীর স্বপ্ন, সময় আর পরিশ্রম। কারা করছে এই অসাধু কাজ ? কারা টাকার বিনিময়ে প্রশ্নফাঁস করে ভেঙে দিচ্ছে মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ? আইন-শৃঙ্খলা  রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কি প্রশ্নফাঁস রোধ করতে পারবে না ? এসব প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই। তবে প্রশ্নফাঁস জালিয়াতির সাথে দুই-একজন নয় বরং বেশকিছু বড় অসাধু চক্র জড়িত। কারন কারোর একার পক্ষে এতবড় সিন্ডিকেট করা সম্ভব নয়। সাম্প্রতিক সময়ে পাঁচ সরকারি ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা হয়। সেই পরীক্ষার দিন প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটে৷ জালিয়াতি চক্রের সন্ধান করতে গিয়ে বের হয়ে আসে অজানা অনেক তথ্য। যেনো কেঁচো খুড়তে গিয়ে সাপ বের করার মতো অবস্থা। প্রশ্নফাঁসের তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায়, ঐ ব্যাংকের উর্ধতন বেশকিছু কর্মকর্তা এই প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁরা এই ধরনের কাজ করে থাকে। লাখ টাকায় ফাঁস হয় একেকটি প্রশ্ন৷ আর সেই প্রশ্ন বিক্রি করে অনায়াসে, অতিদ্রুত বনে যান অনেকে কোটিপতি।
প্রশ্নফাঁস আমাদের দেশে নতুন কোন ইস্যু নয়। বহুবছর পূর্বে থেকেই এই ঘটনা শুনে আসছি আমরা৷ যখন প্রশ্নফাঁসের খবর চারিদিকে রটিয়ে পরে, তখন দেখা যায় আইনের তৎপরতা। আর বছরের বাকিটা সময় যেনো এই বিষয়টি কারো মনেই থাকে না ! এখনো বাংলাদেশে শত শত অসাধু ব্যক্তি, অসাধু চক্র রয়েছে যারা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি চাকরির প্রশ্ন ও বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের কাজ করছে৷ হাতেগোনা কয়েকজন অভিযানে আটক হলেও চক্রের মূল হোতারা সর্বদা থেকে যাচ্ছে পর্দার আড়ালে ! আর তাই ধরা পড়ার কিছুদিন পর আবারো সক্রিয় হয়ে উঠে প্রশ্নফাঁস চক্র। সরকারের উচিত কঠোর হাতে এদেরকে দমন করা। এদের দমন করতে না পারলে ঝুঁকির মধ্যে পড়বে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা। বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হবে বাংলাদেশের হাজারো, লাখো মেধাবী শিক্ষার্থীরা। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে একদিকে যেমন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আরো তৎপর হতে হবে, অপরদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আরো বেশি কঠোর ও সতর্ক থাকতে হবে। বর্তমান যুগ অনলাইনের যুগ। তাই গুরুত্বপূর্ণ সব চাকরির পরীক্ষা চলাকালীন ফেসবুক, মেসেঞ্জার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার সীমিত করা যেতে পারে। তাহলে হয়তো প্রশ্নফাঁস কিছুটা জটিল হয়ে দাঁড়াবে চক্রের জন্য ! অপরদিকে চাকরি পরীক্ষা ও বোর্ড পরীক্ষা চলাকালীন সময়ের সকল কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ রাখা যেতে পারে। অনেকসময় প্রশ্নফাঁস চক্রের লোকেরা কোচিং সেন্টারের লোকদের সাথে মিলেমিশে এই প্রতারণার কাজগুলো করে থাকে৷ প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে যেকোনো কঠোর অবস্থানে সরকারের যাওয়া উচিত। এখনই সময় এদেরকে উৎখাত করার। সময় চলে যাচ্ছে।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর