• E-paper
  • English Version
  • রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন

প্রেমাতুর যুবক-যুবতী এবং পাষণ্ড জনগণ

সাইফুর রহমান কায়েস
  • আপডেটের সময় বুধবার ১৩ অক্টোবর, ২০২১

দেশে ঘটে যাওয়া সকল নারীনিগ্রহের সাথে সংশ্লিষ্টদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক। শিকল দিয়ে নির্যাতনের বিষয়টি প্রচলিত আইনের পরিপন্থী। নারীকে ফাসানোর পেছনে যিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন তার কামলিপ্সা চরিতার্থ করার অপচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে কিনা, তার কুদৃষ্টি পড়েছিলো কিনা বিষয়টি আমলে নিয়ে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারব্র মুখোমুখি দাড় করাতে হবে।
তিন কিলোমিটার হাটিয়ে নারীকে চেয়ারম্যানের কাছে নেয়ার মানে কি? চেয়ারম্যান সাহেব তো ইচ্ছে করলেই কোনাগাও গ্রামে সশরীরে গিয়ে বিষয়টির সুরাহা করতে পারতেন। একটা সম্মানজনক নিষ্পত্তির মহতী উদ্যোগ নিতে পারতেন। যেহেতু এটি ধর্ষণ নয়। প্রাপ্ত বয়স্ক দুজনের সম্মতিতেই সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে সেখানে তৃতীয় পক্ষের অযাচিত, অনভিপ্রেত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত , সর্বপ্রকার অনাবশ্যক কৌতুহলের বিষয়টি নিন্দনীয়। স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের এরকম নিরবতা নারীর প্রতি সহিংসতাকে উস্কে দেবার শামিল।
নারীর চারিত্রিক স্খলনের সামাজিক বাস্তবতাগুলো অনুধাবন করা জরুরী। বাংলার পারিবারিক সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। যদি পরিবার বিপথে যায়, সমাজ ও দেশ এক অনিকেতনের দিকে ধাবিত হবে। ধর্মীয়, নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধকে জাগিয়ে তুলতে হবে।

বিজ্ঞাপন


হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন একটি শিক্ষা ও সংস্কৃতিবান্ধব জনপদ। এই ইউনিয়নের কোনাগাও গ্রামে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডাক্তার নূরুল ইসলামের মতো দেশপ্রেমিক সেনানায়কের জন্ম হয়েছে। এই গ্রামে নারীনিগ্রহের ঘটনাটি সমগ্র বাংলাদেশকেই নিগৃহীত করেছে। তার সম্মানকেও ক্ষুণ্ণমনা করা হয়েছে।
শব্দকথায় প্রকাশিত খবরের সূত্র বলছে, স্থানীয় জনগণ নারীপুরুষের অবাধ মেলামেশার বিষয়টিকে অপরাধ হিসাবে গণ্য করে আইন নিজেদের হাতেই তুলে নিয়ে শিকল দিয়ে বেধে নির্যাতন চালিয়েছেন। এ যেনো সমগ্র নারীকুলকেই অপদস্ত করার শামিল। এটা প্রমাণ করে যে, গ্রামীণ ঐতিহ্যগত বিচারব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে মারাত্মকভাবে। যেখানে বিবেকের স্থান দখল করেছে সস্তা আবেগ, অর্থ, পেশীশক্তি, আত্মস্বার্থ চরিতার্থ করণের নির্লজ্জ মানসিকতা।
নারীর ঘর পুড়লো, মন ভাঙ্গলো। সংসার গেলো। উঠতি বয়সী স্বপ্নবান যুবকের ভবিষ্যৎ ছাই হয়ে গেলো। যে কিনা সুশিক্ষা পেলে দেশকে এগিয়ে নিতে পারতো। তাকে নৈতিকভাবে প্রশিক্ষিত করে তোলার দায় দেশ ও সমাজ কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারে না। তার পেরেন্টিংটি কি সঠিক ছিলো? উচিৎ এবং অনুচিতের মতো নৈতিক মূল্যবোধ, পারিবারিক সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের শিক্ষাটি কি দেয়া হয়েছিলো? কথিত নারী যিনিই হয়ে থাকুন না কেনো তিনি এই দেশের নাগরিক এবং একটি পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ। কারো বোন, কারো স্ত্রী, কারো কন্যা হবেন। তাই তার সম্ভ্রমের বিষয়টিতে আমাদের নজর দেবার প্রয়োজন ছিলো। না করে পাশবিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে নিজেরাই পশুতে রূপান্তরিত হয়ে গেলেন। এ কোন দেশে আমরা বাস করছি? ইচ্ছে হলেই নারীকে পুড়িয়ে মারা যায়? ইচ্ছে হলেই নারীকে শিকলে বেধে নির্যাতন করা যায়? ইচ্ছে হলেই নারীর মাথা ন্যাড়া করে দেয়া যায়? ইচ্ছে হলেই নারীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা যায়? নানাভাবে নির্যাতন কিংবা নির্যাতনের বহুমুখীকরণ এবং বহুমাত্রিকীকরণ করা যায়?
জয় গোস্বামী বলছেন, “বোন তোর মনে নেই? আমরা যেদিন আগুনের নদী থেকে তুলে আনলাম মার ভেসে যাওয়া দেহ।”


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর