• E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের প্রথম হানাদার মুক্ত এলাকা শ্যামনগরে সাড়ম্বরে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

রনজিৎ বর্মন (শ্যামনগর) সাতক্ষীরা
  • আপডেটের সময় শুক্রবার ১৯ নভেম্বর, ২০২১

শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) সাতক্ষীরার শ্যামনগরে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত। ১৯৭১ সালের, ১৯ নভেম্বর শ্যামনগরে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনকরার মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম যুদ্ধ মুক্ত অঞ্চল হওয়ার গৌরবান্বিত লাভ করে শ্যামনগরবাসি।

শুক্রবার সকালে শ্যামনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের যৌথ আয়োজনে দিবসটি উপলক্ষ্যে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, বর্ণাঢ্য র‍্যালী, আলোচনাসভা, দোয়া অনুষ্ঠান, লাঠিখেলা, জারিগানসহ অন্যান্য অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

বর্ণাঢ্য র‍্যালীটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের হল রুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ.ন.ম আবুজর গিফারী।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক সাঈদ উজ জামান সাঈদ, মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক অধ্যক্ষ জি এম ওসমান গণি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার দেবী রঞ্জন মন্ডল, সাবেক কমান্ডার এম এ মজিদ, শ্যামনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী শহিদুল ইসলাম, উপজেলা
মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি এস এমকামরুল হায়দার নান্টু, মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান প্রমুখ।

আলোচনাসভায় মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড সদস্যবৃন্দ বক্তব্যে জোর দাবী তুলে বলেনবাংলাদেশের প্রথম হানাদার মুক্ত এলাকা শ্যামনগর নতুন প্রজন্মকে বিষয়টি অবহিত করতে উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে প্রতি বছর ১৯ নভেম্বর, কর্মসূচি গ্রহণ করা ও উদযাপন করা প্রয়োজন। এছাড়া উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় বিষয়টি রেজুলেশন করে ইউনিয়ন পর্যায়েও উদযাপন করার বিষয়ে দাবী জানান। সভায় মুক্তিযোদ্ধারা আরও দাবী করেন উপজেলা পর্যায়ে মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সৎকারের জন্য নির্ধারিত কবর স্থান ও স্থান নির্ধারনের।

মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সদস্য হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় ও সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার দেবী রঞ্জন মন্ডলের পরিচালনায় শ্যামনগর মুক্ত দিবস উপলক্ষে উপজেলাপ্রশাসনের সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ ও সন্তানকমান্ডের সদস্যবৃন্দের মধ্যে ২৫০টি শীত বস্ত্র কম্বলবিতরণ করা হয়।

উল্লেখ্য যে, ১৯৭১ সালের ১৯ আগষ্ট পাক বাহিনীরঅর্তকিত আক্রমনে প্রাণ হারায় ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা যথাক্রমে সুবেদার ইলিয়াস, আবুল কালাম আযাদ প্রমুখ। এ দিনে আরো কয়েক জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারায়। আকষ্মিক এ আক্রমণের বিরুদ্ধে
মুক্তিবাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্তটিকে থাকতে পারেনি।

টানা তিন মাসে পাকবাহিনী শ্যামনগর সদরে ৫/৬ বার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে ও ১৮ নভেম্বর রাতের আঁধারে শ্যামনগর ত্যাগ করে। পর পরই মুক্তিযোদ্ধারা এসে শ্যামনগর দখল নেয়। এরপর স্বাধীন বাংলার পতাকাউত্তোলন করা হয়।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর