• E-paper
  • English Version
  • শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:০৬ অপরাহ্ন

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ; গৃহকর্তার বিরুদ্ধে আদিবাসী গৃহকর্মীর মামলা

মইনুল হোসেন প্লাবন, শেরপুর
  • আপডেটের সময় সোমবার ২১ জুন, ২০২১

শেরপুরের শ্রীবরদীতে ৫ সন্তানের জননী এক বিধবা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী গৃহকর্মীকে (৪০) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে জাকির হোসেন জিকো (৪৫) নামে এক গৃহকর্তার বিরুদ্ধে। ওই নারীর বাড়ি উপজেলার রাণীশিমুল ইউনিয়নের বালিজুরি খৃস্টানপাড়া এলাকায়। আর জিকো পার্শ্ববর্তী বালিজুরি হালুয়াহাটি এলাকার মৃত হাজী শরাফত আলীর ছেলে। আজ ওই ঘটনায় শেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নির্যাতিত নারী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করলে বিচারক মো. আখতারুজ্জান ঘটনার বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় বাড়ি হওয়ায় গত দুই বছর আগে হাতির আক্রমণে মারা যায় হতদরিদ্র ওই নারীর স্বামী। পরে বাচ্চাদের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দেওয়ার জন্য জিকোর বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নেয় ওই নারী। তার অভিযোগ, জিকোর স্ত্রী বাসায় না থাকলে সে তাকে কুপ্রস্তাব দিত। ওই অবস্থায় গত ৯ জানুয়ারি দুপুরে ওই নারীকে তার বাড়িতে একা পেয়ে গৃহকর্তা জিকো সুযোগমতো সেখানে গিয়ে তাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক দফায় ধর্ষণ করে গৃহকর্তা জিকো। এতে একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃস্বত্বা হয়ে পড়লে জিকো ঔষধ দিয়ে তার ভ্রুণ নষ্ট করে ফেলে। কিন্তু এরপরও বিয়ের প্রলোভনে তাদের সম্পর্ক চলতে থাকলেও এক পর্যায়ে জিকো অবস্থান পরিবর্তন করে সেই সম্পর্ক অস্বীকার করে। পরে ওই নারী বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করলে জিকো তাকে বিয়ে না করে উল্টো মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্যাতনের শিকার নারীর আইনজীবী ইয়াসমিন আক্তার জানান, বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণকারী গৃহকর্তা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় ভিকটিম তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দিতে ব্যর্থ হয়ে ট্রাইব্যুনালে ওই মামলাটি দায়ের করেছেন। ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনার বিষয়ে তদন্তপূর্বক পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জামালপুরের পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর