• E-paper
  • English Version
  • শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৬:১৩ অপরাহ্ন

ব্যাংক ঋণের যন্ত্রণায় লকডাউন অমান্য করে সিএনজি নিয়ে বের হয়েছি : সিএনজি চালক

সোহাগ হোসেন, মাদারগঞ্জ
  • আপডেটের সময় শুক্রবার ৯ জুলাই, ২০২১

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার তো লকডাউন দিয়েছে, রিক্সা ব্যতিত সকল যানবাহন বন্ধ। তো আপনি লকডাউন অমান্য করে আপনি সিএনজি নিয়ে বের হয়েছেন কেন?
সিএনজি চালক সোবহানঃ প্রতি মাসে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা কিস্তি, তাই লকডাউন অমান্য করে সিএনজি বের নিয়ে হয়েছি। কিস্তির উপর টাকা নিয়ে সিএনজি কিনেছি। ঘরে চাল থাকলেও বাজার করার টাকা নেই। গাড়ি না চালালে ইনকাম না করলে বউ বাচ্চার পেটে আহার দিমু কিভাবে?
প্রদিবেদকঃ আপনি কি জানেন? বর্তমানে সারাদেশসহ মাদারগঞ্জে ও করোনা পরিস্থিতি খারাপ অবস্থা? সিএনজি চালকঃ একজনের কাছ থেকে শুনলাম মাদারগঞ্জে নাকি করোনা শনাক্ত বাড়তেছে।
প্রতিবেদকঃ তাহলে আপনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন সিএনজি নিয়ে বের হয়েছেন?
সিএনজি চালকঃ পেটের খোদার কাছে সবকিছু হার মানে। খোদার জ্বালা বড় জালা। তাই করোনা ভাইরাসের চেয়ে লকডাউন ই আমাদের বড় দুশচিন্তা।
প্রতিবেদকঃ আগে আপনার দৈনিক ইনকাম কত হত, আর এখন কত হয়?
সিএনজি চালকঃ আগে ৬০০-৮০০ টাকা ইনকাম হত। এখন তো মানুষ ঘর থেকে বাইরে বের হয়না তাই ইনকাম অনেক কমে গেছে, ৩০০-৫০০ টাকা ইনকাম হয়।
প্রতিবেদকঃ এ পর্যন্ত প্রশাসনের মুখোমুখি হয়ে ছিলেন? সিএনজি চালকঃ আমি এখন পর্যন্ত পড়ি নাই। শব্দকথা টোয়েন্টিফর ডটকমকে প্রতিবেদককে এভাবেই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার পৌরসভার গাবেরগ্রাম এলাকার সিএনজি চালক সোবহান মিয়া। তিনি বলেন, আমরা গাড়ি নিয়ে বের হলে আমাদের প্রশাসন ধরে, জরিমানা করে। কিন্তু আমরা ঘরে বসে না খেয়ে থাকলে তো খোঁজ নেয়না। দিনে যা রোজগার করি সেখান থেকে কিস্তির জন্য কিছু রেখে দেই আর বাকী টাকা দিয়ে সংসার চালাই। আমরা গরীব মানুষ। আমাদের তো আর গচ্ছিত টাকা নেই যে আমরা ঘরে বসে তা খরচ করবো। সরকারি চাকুরিওয়ালাদের তো সমস্যা নেই,তারা মারা লকডাউনকে সমর্থন দেন। কিন্তু আমাদের মত গরীব মানুষদের লকডাউন মানে মরার উপর খাড়ার ঘা।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর