• E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর ইংরেজি জানা না জানা বিষয়ক তরজা এবং বাঙালি মানস আর অধ্যাপকের ধ্বপ্পাস  

সাইফুর রহমান কায়েস
  • আপডেটের সময় সোমবার ৮ নভেম্বর, ২০২১

ইংরেজি জানাটা বাঙালির জন্য অত্যাবশ্যক বলে অনেকদিন আগে থেকেই আমাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত । বাঙালি রেগে গেলে ইংরেজি বলে, উচ্ছ্বাসোক্তি প্রকাশ করতে ইংরেজি বলে। চিয়ার্স ! ইংরেজি না শিখলে চলে না এটা ঔপনিবেশিক প্রভুদের কাছ থেকে আমরা পেয়েছি। ইংরেজি জানা সাধারণ শিক্ষার্থী কেনো  মেধা তালিকায় আসতে পারে না? এটা আমাদের শিক্ষা মাধ্যমেরই ব্যর্থতা। মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ইংরেজির দক্ষ শিক্ষক কি নিয়োগ দেয়া হয়েছে?  এরা নিজের চেষ্টায় আয়ত্ত করে ইংরেজি । ফলে তাদের কিছুটা ঘাটতি থাকতে পারে। এটা দোষ ভেবে কারো কৃতিত্বকে খাটো করা ঠিক না। আর খাটো করার মানসিকতাই হচ্ছে অজ্ঞানতার লক্ষণ ।

বিজ্ঞাপন

এটা প্রমাণ করে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এক অসম সমণ্বয়হীনতার রাহুর গ্রাসে পরিণত হওয়াকে।
যিনি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় ইংরেজি জানা না জানার বিষয়টি নিয়ে তরজা জুড়ে দিলেন তার মতিভ্রম ঘটেছে বলেই মনে করি।
আমাদেরকে জ্ঞানার্জন করার জন্য শুধু ইংরেজি নয়, অন্যান্য ভাষার প্রতিও গুরুত্ব দিলেই আমাদের অজ্ঞানতার প্রাচীর ভাঙবে।
বিশ্বের অনেক গ্রন্থাবলী লিখা হয়েছে গ্রীক, ল্যাটিন, রোমান, স্পেনীয়, হিব্রু ইত্যাদি ভাষায়। সক্রেটিসের ভাষা ছিলো গ্রীক। তিনি কি ইংরেজিতে কথা বলতেন?  তিনি কি ইংরেজিতে তার গ্রন্থাবলী লিখেছেন? উত্তর একটাই, না। তাহলে কি তাকে আমরা মেধার দিক থেকে নিম্নমানের বিবেচনা করবো। নিশ্চই না। আফ্রিকার অনেক দেশের দাপ্তরিক ভাষা ফ্রেঞ্চ। ইংরেজি তাদের কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই বলে পুরো জাতিকেই কি ইংরেজি চর্চা না করার জন্য খাটো করে দেখবো? নিশ্চই না।
মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন না করে, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির উদারীকরণ না করে হীনমন্যতার প্রকাশ করে এই মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের মেধাকে, তাদের মেধাস্বত্ত্বকে খাটো করে দেখার, অবজ্ঞা করার মানসিকতা এখন একটি ফ্যাশনে, একটি প্যাশনে পরিণত হয়েছে।
বৃটিশ আমলে তাদেরই পৃষ্ঠপোষকতায় মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। শাসনের ক্ষেত্রে যেমন তারা বিভাজন নীতি গ্রহণ করেছিলো শিক্ষার ক্ষেত্রেও তারা একই নীতির বাস্তবায়ন ঘটিয়েছে। যারা এই ব্যবস্থায় একীভূত হয় নি তারা কওমি বা দেওবন্দি হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। ইংরেজ সুকৌশনে এদেশে সুন্নী ওয়াহাবী মতবাদকে ভিত্তিভূমি দান করে ধর্মের দিকে আবারো বিজাজনের ক্ষেত্রে সফলতালাভ করে। যেটি একটি বিষবৃক্ষ হিসাবে উপমহাদেশে বিস্তার লাভ করেছে।
বৃটিশ চলে গেলেও তাদের সৃষ্টি করা বিভাজন নীতিকে আকড়ে ধরে উপমহাদেশীয় সম্প্রীতির বাতাবরণে এক অভূতপূর্ব আত্মঘাতী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে আজো।
একটি দেশে যখন এগারো রকমের শিক্ষা ব্যবস্থাকে জিইয়ে রাখা হয় তখন সেখানে সম্প্ররীতির বাণী গালভরা বুলি ছাড়া আর কিছুই নয়। মানুষ এখন এক নয়, বহুতে বিভক্ত।
মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা মাধ্যম দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিলুপ্তি ঘটানো সম্ভব নয়। এই ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে বাস্তবমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলে একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনক্রমে পরিবর্তন সাধন করা যেতে পারে। সনদসর্বস্ব শিক্ষাব্যবস্থার বিলুপ্তি চাই। শিক্ষা হবে কর্মমুখী এবং বাস্তবমুখী। শিক্ষা হবে মানবিকতা ও মানবতার উন্নয়নের মূলমন্ত্র। অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশে উজ্জ্বীবক। মানুষ যেখানে নিজেকে মানুষ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রেরণা পাবে।
মাতৃভাষার পাশাপাশি শুধু ইংরেজিই নয়, অন্যান্য ভাষা শিক্ষা ও চর্চাক্ষেত্র প্রস্তুত করে তোলা হোক। শিক্ষাব্যবস্থায় আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবী।
শিক্ষার সকল মাধ্যম হোক জ্ঞানচর্চা ও অর্জনের প্রধান হাতিয়ার। একটি সুনির্দিষ্ট পথ ও পন্থা। এটা কোনো মাজেজা নয়, তরিকা।
সাইফুর রহমান কায়েস
প্রধান সম্পাদক
শব্দকথা টোয়েন্টিফোর ডটকম


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর