• E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন

মাফিয়াতন্ত্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থার আত্মসমর্পণ কাম্য নয়

সাইফুর রহমান কায়েস
  • আপডেটের সময় সোমবার ২২ নভেম্বর, ২০২১

দুদিন পরপর নানা ছল ও ছুতোয় চলছে পরিবহন ধর্মঘট । ধর্মঘটের নামে মানুষকে জিম্মি করার নাটকের সফল মঞ্চায়ন চলছে দেশ জুড়ে। এ যেনো উলঙ্গ রাজার শাসনামল । ধর্মঘটকে পুজি করে সিএনজি অটোর ভাড়া পঞ্চাশ শতাংশ বেশি আদায় করা হচ্ছে। তার আগে রাষ্ট্রীয়ভাবে সাতাশ শতাংশ ভাড়া বাড়লেও কার্যক্ষেত্রে তা পঞ্চাশ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। অথচ জনগণের আয় বাড়ে নি, বাড়ে নি কর্মজীবী মানুষের বেতন তার কর্মক্ষেত্রে। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির চাপ, মাত্রাতিরিক্ত বর্ধিত ভাড়া জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। বকছুদ জনগণ এখন না পারছে বাচতে, না পারছে মরতে।
ক্ষমতায় যেতে, ক্ষমতায় থাকতে জনগণই অভ্রভেদী লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবার বিষয়টি কোনোভাবেই নীতি ও নৈতিকতার বিচারে গ্রহণযোগ্য নয়।

বিজ্ঞাপন

জীবনযাত্রার ব্যয় যাওয়ায় মানুষের আয়বৃদ্ধিসূচক এখন নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। খুব মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে পরিবারের কর্তাব্যক্তিদের দিন অতিবাহিত হওয়ায় আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধির পূর্বাভাস আমি বিলক্ষণ দেখতে পাচ্ছি।
এইদেশে পরিবহন নাফিয়ারা এমন দুর্দণ্ড প্রতাপশালী হয়ে উঠেছে যে, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এরা সরকারের  চেয়েও বেশি শক্তিশালী। রাষ্ট্রব্যবস্থার ক্ষীণভঙ্গুরতা জনমনে হতাশার সঞ্চার করেছে। পরিবহন সংঠনগুলির রাষ্ট্রব্যবস্থার আড়ে একটি দুর্লঙ্ঘ্য শক্তিশালী নিজস্ব রাষ্ট্রব্যবস্থার কর্তৃত্বপরায়ণতা দেশকে একটি স্থায়ী সংকটের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে জনগণের জিম্মিদশা খুব সহজে ঘুচবে বলে মনে হয় না।
যুক্তিহীনতার যুক্তি এখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ফলে মানুষের ভোগান্তি দীর্ঘতর হচ্ছে। এ যেনো শনিরদশা ।
উন্নয়ন খাতে দৃশ্যমান কাজ বিরাজ করলেও এর পিছনের কর্মীদের দুর্দশা যেনো পিছু ছাড়ছে না। তাদের আয়ের সাথে ব্যয়ের লাগামহীন অসামঞ্জস্য এখন গলার কাটা হয়ে দেখা দিয়েছে। তাএয়া জীবনযাত্রার মান ঠিক রাখতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। ঋণের বোঝা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। যে দেশে রসুনের চেয়ে পিয়াজের ঝাজ বেশি সেদেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে আমরা  অস্বীকার করতে পারি না। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতির কাছে রাষ্ট্রব্যবস্থাটাই আত্মসমর্পণ করেছে বলে অবস্তাদৃষ্টে মনে হচ্ছে। বিচারগীনতার সংস্কৃতি এখন প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা লাভ করেছে।
রাষ্ট্রকে কল্যানমুখী বা সোশ্যালি ওয়েল ফেয়ার ষ্টেটে পরিণত করা না গেলে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাষ্ট্রের যে ন্যূনকল্প নিয়ন্ত্রণ আছে সেটিও পুজির দাসে পরিণত হবে অচিরেই। তখন আমাদের হায়ুতাশ করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। আর দেশ যখন উন্নয়নের মহাসড়কে উপণীত বলে রাষ্ট্রীয়ভাবে মেনে নেয়া হচ্ছে, মিডিয়াও তাদের রাজশল বা রাজসহচর হিসাবে তালি মেরে সাফাই গাইছে আর আমাদের তা শুনতে কান ঝালাপালা হচ্ছে তখন নানাবিধ কীটদ্রষ্টতা আমাদেরকে এবং সুনিশ্চিতভাবে আমাদের জীবনকে এক বিপন্নতার প্রপঞ্চে পরিণত করছে অতিদ্রুততার সাথে। ঘুণেখাওয়া জাতি এখন কাউয়ালুলির মতোই বেচে আছে।
দেশে বেকারের সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বেড়ে যাওয়ায় অবৈধ অভিবাসন ঠেকানো যাচ্ছে না কোনোভাবেই। ফলে আমরা দেখছি জাতির যৌবন জিব্রাল্টার প্রণালীতে সলিল সমাধি রচনা করছে। সরকারের নির্বিকারত্বকে আমরা মেনে নিতে পারি না। যেসব দেশে অভিবাসনের সুযোগ রয়েছে সেসব দেশে জি টু জি আলোচনা, কূটনৈতিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কোন্নয়ন ঘটানোই সরকারের কল্যাণকর চিন্তার বহির্প্রকাশ বলে আমরা মনে করি। দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ঠিক রাখতে শুধু আয়ের উপর প্রণোদনাই নয়, বিদেশ গমণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দান করাও জরুরী। প্রবাসের কন্সুলেটগুলোকে গণমুখী করে তুলতে হবে।
সরকারের জনমুখী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন জনগণের জন্য মঙ্গল বয়ে আনতে পারে। আমরা চাই রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে রাষ্ট্রব্যবস্থা কর্তৃত্বপরায়ণ না হয়ে কর্তব্যপরায়ণ হয়ে উঠুক। সকল মাফিয়াতন্ত্রকে সরকার সমূলে উৎপাটন করে জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর, বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। দ্রব্যমূল্য জনসাধারণের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসুক।
সাইফুর রহমান কায়েস
প্রধান সম্পাদক
শব্দকথা টোয়েবটিফোর ডটকম


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর