• E-paper
  • English Version
  • শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:৩২ অপরাহ্ন

মুসাপুর ক্লোজার যেন নোয়াখালীর কক্সবাজার

প্রজিত সুহাস চন্দ, নোয়াখালী
  • আপডেটের সময় বুধবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

অপরুপ সৌন্দর্য এর কারনে মুসাপুর ক্লোজার স্থানীয়দের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে মিনি সমুদ্র সৈকত নামে। প্রতিদিনই হাজির হচ্ছেন হাজার হাজার দর্শনার্থী, যদিও করোনা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতায় কিছুটা কম আসছে তার পরেও মানুষ নেহায়েত কম নয়। আর এই ক্লোজারকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন।

নাগরিক কোলাহল থেকে মুক্ত প্রাকৃতিক অপরুপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে মানুষ এইরকম স্থানে ভ্রমন করতে আসে। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ সীমানায় বঙ্গোপসাগরের একেবারে কোল ঘেঁষে এই মুছাপুর ক্লোজার ও ছোট ফেনী নদীর অবস্থান। প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি মুছাপুর ক্লোজার। এখানে সবুজ প্রকৃতি, বণ্যপ্রাণি, পাখির ঝাঁক, ফরেস্ট বাগান, ফেনী নদীর মাঝে ক্লোজার, ২৩ ভেন্ট রেগুলেটর, জেলেদের উচ্ছ্বাস আর সাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশি মিলে নয়াভিরাম এক সৌন্দর্যের জগৎ। সাগরে যখন জোয়ারের পানি উতলে উঠে তখন অনন্য এক সৌন্দর্য বিকশিত হয় মুছাপুর ক্লোজরের ছোট ফেনী নদীতে। তটরেখায় আছড়ে পড়ে ছোট-বড় ঢেউ। প্রায় ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ৩ কিলোমিটার প্রস্থের সমুদ্র সৈকতের যেকোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ রয়েছে।
বিচ্ছিন্ন এই মুছাপুর ক্লোজারের প্রাণ কেন্দ্র থেকে ট্রলার যোগে দক্ষিণে যাওয়ার সময় দেখা যায় বনবিভাগের ফরেস্ট বাগানটি দাঁড়িয়ে আছে। বাড়তি এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের শোভাবর্ধন করে এটি। চারপাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন রকমের বনজ গাছ নিয়ে। এখানে আসলে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কোলাহল, বিশাল সমুদ্র সৈকত, সূর্যে্যদয় ও সূর্যাস্তসহ নানান সৌন্দর্যের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। পর্যটক ও প্রকৃতি প্রেমীরা ট্রলারে কিংবা স্পীডবোটে করে এই চরে ঘুরতে যান।
এখানে সবুজ শ্যামল প্রকৃতি, নিবিড় বন, গ্রামীণ পরিবেশ, পাখির কোলাহল, মৎস্যজীবি মানুষদের জীবন সব মিলিয়ে অন্যরকম এক দোতনা সৃষ্টি করে প্রকৃতিপেমী মানুষদের মনে। পানির ছল ছল শব্দ আর বিশাল আকাশের নিচে অবারিত নির্মল বাতাস আর সবুজ বনানী আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। চারপাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন রকমের বনজ গাছ । এখানে আসলে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কোলাহল, বিশাল সমুদ্র সৈকত। সূর্যদয় ও সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্যের সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। এছাড়া ট্রলারে কিংবা স্পীডবোটে করে চরে ঘুরতে যেতে পারবেন। ১৯৬৯ সালে এখানে বনবিভাগ বনায়ন শুরু করে। মুছাপুর ক্লোজার এলাকায় চরের মধ্যে দক্ষিণ মুছাপুর মৌজায় ৮শ ২১ দশমিক ৫৭ একর, চরবালুয়া (দিয়ারা) মৌজায় ১হাজার ৮শ ৬১ দশমিক ১০ একর ও চরবালুয়া মৌজায় ৬শ দশমিক ১৫ একর সর্বমোট ৩হাজার ২শ ৮২দশমিক ৮২একর বনবিভাগের জমি জুড়ে এই বনাঞ্চল । বাগানে রয়েছে ঝাউ, কেওড়া, পিটালী, খেজুর, লতাবল, গেওয়া, শনবলই, বাবুলনাটাই, আকাশমনিসহ বিভিন্ন ছোট প্রজাতির গাছও রয়েছে। শীতের মৌসুমে সাইবেরিয়া থেকে আসা অতিথি পাখিদেরও দেখা যায় এখানে। শিয়াল, বন বিড়াল, সাপসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী। বনের সরু রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে একটু ভেতরে প্রবেশ করলে পাবেন শীতল ছায়া ও কোথাও কোথাও বিশাল খোলা জায়গা। তার পাশেই দেখা যাবে দিগন্তজোড়া সৈকতের অপার মাধূর্য।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর