• E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন

যাকে দেখতে নারি, তার চলন বাঁকা

মিলন রশীদ
  • আপডেটের সময় বৃহস্পতিবার ২৮ অক্টোবর, ২০২১

সম্প্রতি টেলিভিশনের একটি অনলাইন টকশো নিয়ে হবিগঞ্জের রাজনৈতিক মাঠ গরমের চেষ্টা চলছে। ৭১ টিভির একটি অনুষ্ঠানে হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মোঃ আবু জাহির এমপির সাক্ষাতকার নেয়। টিভি অনুষ্ঠানে যে সময় ধরে অতিথিদের বক্তব্য নেয়া হয়ে থাকে তা একটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হয়। অনেকেই উপস্থাপকের প্রশ্নের উত্তর দিতে যে সময়ের দরকার তা হয়ে উঠেনা। অসমাপ্ত উত্তরের রেশ টেনে নিন্দুকেরা নানা রকম কুৎসা রটনা করে দলীয় ত্যাগী নেতাদের সমাজে হেয় করার প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

লাখাই উপজেলার একটি কালি মন্দিরের পুরাতন মূর্তী ফেলে দেয়ার ঘটনায় ৭১ টিভির উপস্থাপক হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মোঃ আবু জাহির কে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চেয়েছেন। শুধু তাই নয়। হবিগঞ্জে না কি আবু জাহির ছাড়া আর কেউ আওয়ামী লীগ করতে পারে না। অর্থাৎ হবিগঞ্জের আওয়ামী লীগ না কি আবু জাহির-ই দখল করে রাখছেন।
উপস্থাপক এডভোকেট আবু জাহির এমপি কে প্রশ্নের জালে এমন ভাবে বন্দী করতে চেয়েছেন, যেন কোনো একধরনের অজানা আক্রোশেরই আভাস। কিন্তু কে বা কারা উপস্থাপক কে ভুল তথ্য দিয়ে আবু জাহির এমপিকে বা বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করাতে চেয়েছে। তা অনেকেই ভাবিয়ে তুলেছে।

বিজ্ঞাপন


এ প্রসঙ্গে কিছু কথা বলা এখন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। হবিগঞ্জ জেলায় ৪ টি নির্বাচনী আসন রয়েছে। নবীগঞ্জ-বাহুবল নিয়ে হবিগঞ্জ-১, বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ নিয়ে হবিগঞ্জ-২, হবিগঞ্জ সদর-লাখাই ও নবগঠিত শায়েস্তাগঞ্জ নিয়ে হবিগঞ্জ-৩, চুনারুঘাট-মাধবপুর নিয়ে হবিগঞ্জ-৪ আসন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে হবিগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মরহুম এডভোকেট মোস্তফা আলী এমএনএ হওয়ার পর আর কোনো আওয়ামী লীগ নেতা এই আসনে জয়লাভ করতে পারেননি। এই আসনটি ছিলো জাতীয় পার্টি এবং বিএনপির হাত বদলের আসন। ১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতার মসনদে আসীন হলেও এই আসনটি ছিলো বিএনপির অনুকূলে। ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ -৩ আসনে আওয়ামী লীগ বিজয়ের মুখ দেখে। এসময় রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলো বিএনপি। ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি গ্রেনেড হামলায় নিহত সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএসএম কিবরিয়া হবিগঞ্জ-৩ আসনে এমপি নির্বাচিত হন।

ওই সময় বর্তমান এমপি এডভোকেট মোঃ আবু জাহির ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। যারা এডভোকেট মোঃ আবু জাহিরের নিন্দুক তারাও বলবেন, কিবরিয়া সাহেবের বিজয়ের প্রধান উৎস ছিলেন আবু জাহির। কারণ জাতীয় পার্টি ও বিএনপির দুর্গ ভেদ করে আওয়ামী লীগের বিজয় অর্জন ছিলো আবু জাহিরের শক্তিশালী সুসংগঠিত সাংগঠনিক ক্ষমতার বলে।

১৯৯১ সাল থেকে আবু জাহির লাখাই, হবিগঞ্জ সদর সহ পুরো জেলায় আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে অনন্য ভূমিকা রাখেন। যা ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে হবিগঞ্জের ৪টি আসন-ই ধারাবাহিক ভাবে আওয়ামী লীগের অনুকূলে থাকে।

ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের মাঠ গড়িয়ে তৃণমূল থেকে উঠে আসা এডভোকেট মোঃ আবু জাহির এমপি এখন গণমানুষের নেতা। শুধু নেতাই নন, একাধারে ৩ বারের সংসদ সদস্য। তিনি মানুষ। মানুষ মাত্রই ভুল- ত্রুটির উর্ধ্বে নয়। তারও ভুল- ত্রুটি থাকা অস্বাভাবিক নয়। একটি কথা বলা দরকার, যারা কাজ করেন, তাদের ভুল হয়। আর যারা কোনো কাজই করেন না, তাদের ভুলও নেই, ত্রুটিও নেই। আবু জাহির এমপি যদি ভুল বা ত্রুটি করে থাকেন। তার সঠিক সমালোচনা করে, তাকে সংশোধনের পথ দেখানো নাগরিক দায়িত্ব। এছাড়া তিনি শুধু নেতা নন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে তিনি ৩ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এহিসেবে তিনি জনগণের কাজে দায়বদ্ধও। কিন্তু এসব না করে মিথ্যে, বানোয়াট, আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর বিষয়গুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো বুদ্ধিমত্তার পরিচয় বহন করেনা। এসব অপপ্রচারে সাধারণ মানুষকে একটি প্রবাদকে-ই মনে করে দেয় “যাকে দেখতে নারি, তার চলন বাঁকা”।

লেখক; মিলন রশীদ
সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদকীয় উপদেষ্টা, শব্দকথা২৪.কম।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর