• E-paper
  • English Version
  • শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৫:২৫ অপরাহ্ন

রাঙ্গুনিয়ায় বাগান বাড়ি থেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনার মূল হোতা গ্রেপ্তার

ইসমাঈল হোসেন, রাঙ্গুনিয়া
  • আপডেটের সময় বুধবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

চন্দ্রঘোনা থানা এলাকার বাগান বাড়ি থেকে চাঞ্চল্যকর নুরুল আলম অপহরণ ও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় আব্দুস সালাম (৬০) নামের এক আসমীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মীরের খিল পাহাড়ী এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ। তিনি ওই এলাকার নজির আহমদের পুত্র।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর অপহরণের ৬৩ ঘণ্টা পর পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে উদ্ধার হয়েছিল নুরুল আলম। তার বাড়ি রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নে। এরআগে গত ১০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টার দিকে ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসীর অস্ত্রের মুখে চন্দ্রঘোনা থানার ধলিয়া মুসলিম পাড়ার ‘মিম কৃষিজীবী খামারে’ ঢুকে নুরুল আলমকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৮ দিন আগে আব্দুস সালামসহ আরও বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী মিলে রাউজান উপজেলার বাসিন্দা নুরুল আলমকে (৩৫) অপহরণ করে মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দেয়। ঘটনার নেপথ্য নায়ক ছিল গ্রেপ্তার আব্দুস সালাম। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আব্দুস সালাম বাবা নামে এলাকায় পরিচিত। তাঁর পরিকল্পনায় সংঘবদ্ধ স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্র নুরুল আলমকে তাঁর খামার বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। পরে মোটা অংকের মুক্তিপণের বিনিময়ে রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ি এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

অপহরণের ঘটনায় নুরুল আলমের ভাই মো. কুতুব উদ্দিন গত ১২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জন সন্ত্রাসীকে আসামি করে চন্দ্রঘোনা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয় রাঙ্গুনিয়ার দাগী সন্ত্রাসী একাধিক ডাকাতি, অপহরণ ও অস্ত্র মামলার আসামি এমদাদ এ ঘটনায় জড়িত। এমদাদ পদুয়ার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর গ্রামের আব্দুল নবীর ছেলে। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তার নুরুল আলম অপহরণ ঘটনার মূল নায়ক। তাঁর মাধ্যমেই মুক্তিপণ হিসেবে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ছাড়া হয়েছে অপহৃত নুরুল আলমকে। তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। ঘটনায় জড়িত চক্রের অন্যান্য সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার অভিযান চলছে বলে জানান ওসি ইকবাল।

এদিকে আব্দুস সালামকে গ্রেফতারের খবরে এলাকার মানুষ স্বস্তী প্রকাশ করেছেন। তার বিরুদ্ধে এলাকায় খুন, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, অপহরণ এমনকি কোরবানির সময় একাধিক গরু চুরিরও অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সরফভাটা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, “সালাম ওরপে কানা সালাম এলজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। সরফভাটার একাধিক খুনের ঘটনায় সরাসরি জড়িত সে। তার কারণে এলাকার মানুষ অতিষ্ট। সে এলাকায় প্রকাশ্যে চাদাবাজী, ডাকাতি, অপহরণসহ এম্ন কোন অপকর্ম নেই করেনি। তাকে গ্রেফতারে এলাকায় স্বস্তী ফিরেছে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন তিনি।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর