• E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন

র‍্যাগ ডে’র নামে কি চলছে এসব ? 

ইমরান খান রাজ 
  • আপডেটের সময় বৃহস্পতিবার ১৮ নভেম্বর, ২০২১

৯০ দশকের দিকে দেখতাম এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর কিছু দিন পূর্বে বা এডমিট কার্ড সংগ্রহ করার দিন স্কুল বা কলেজের শিক্ষকদের অনুমতি নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিদায় অনুষ্ঠান করতো। যেখানে ফুটে উঠতো বাংলার সংস্কৃতি, শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থীর ভালোবাসা আর শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকের মমতাবোধ ও স্নেহ।

বিজ্ঞাপন

বিদায় অনুষ্ঠানের দিন একজন শিক্ষার্থী আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতো। এতটা বছর একসাথে পড়াশোনা করার মাধ্যমে সেটা একটা পরিবারের রুপ ধারণ করতো। আর সেই পরিবারের একেকজন শিক্ষার্থী নতুন নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলে যাবে সেটা ভেবেই মন ভাঙা অবস্থা হতো সবার। দেখতাম বিদায় বেলায় মহান শিক্ষকদের পায়ে হাত দিয়ে আশীর্বাদ গ্রহণ করতো শিক্ষার্থীরা। আর তাঁদের মাথায় হাত রেখে মন ভরে দোয়া করতেন শিক্ষকরা। এলাকার মসজিদের ইমাম সাহেবকে ডাকা হতো শিক্ষার্থীদের জন্য দোয়া করতে৷ যা ছিল খুবই সামাজিক ও গ্রহণযোগ্য অনুষ্টান।
তবে বর্তমানে একবিংশ শতাব্দীতে এসে আমরা বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই দেখতে পাই ভিন্ন চিত্র। শহরের নামীদামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মফস্বল বা গ্রামাঞ্চলের ছোট আয়তনের স্কুল বা কলেজগুলোতে এখন আর বিদায় অনুষ্ঠান হয় না। এখন আর শিক্ষার্থীরা পায়ে হাত দিয়ে শিক্ষকের দোয়া গ্রহণ করে না। এখন তাঁরা শিক্ষকের সাথে সেলফি তোলে ফেসবুক আর ইন্সটাগ্রামে আপলোড করার জন্য ! এখন আর মন খারাপ হয়না বন্ধুকে ছেড়ে যাওয়ার জন্য। এখন শিক্ষার্থীরা বিদায় অনুষ্ঠানের পরিবর্তে পালন করে র‍্যাগ ডে৷ ভিনদেশী সংস্কৃতির কুপ্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের মাঝে। র‍্যাগ ডে’র নামে হিন্দি আর ইংলিশ গানে আবোলতাবোল নাচকেই এখন ট্রেন্ড হিসেবে দেখে তাঁরা ! শিক্ষকদের সামনে ছেলেমেয়ে একসাথে নেচে গেয়ে পালন করে র‍্যাগ ডে। আর সেই নাচের ভিডিও ছড়িয়ে দেয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। র‍্যাগ ডে’র সাদা টি-শার্টে অশ্লীল বাক্য, অকথ্য বাক্য লিখে এক অপরিণত আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে তাঁরা ! এটাই কি আমাদের বাংলার ঐতিহ্য ? এটাই কি শিক্ষকদের প্রাপ্য সম্মান ?
ভিনদেশী এই সংস্কৃতি, এই র‍্যাগ ডে পালন করা থেকে আমাদের বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বিরত রাখতে হবে। র‍্যাগ ডে’র নামে অশ্লীলতা বন্ধ করতে হবে। এক্ষেত্রে সবার আগে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। র‍্যাগ ডে পালনের সময় বহু মেয়ে শিক্ষার্থী যৌন হেনস্তার শিকার হবার আশঙ্কা থাকে। তাই পরিবারের বাবা-মা কিমবা বড় ভাই-বোনকে এই ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আরো কঠোর হতে হবে৷ র‍্যাগ ডে পালনের নামে এমন অশ্লীলতা ও অসামাজিকতা রোধ করতে হবে। প্রয়োজনে মানসিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে ছেলেমেয়েদের সুস্থ বিনোদন দিতে৷ অসুস্থ বিনোদন থেকে ফিরে আসুক আমাদের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে আসুক বিদায় অনুষ্ঠান।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর