• E-paper
  • English Version
  • শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১০:৩৭ অপরাহ্ন

শব্দদূষণ , অকবি ও ভালোমানুষের গল্প || সাইফুর রহমান কায়েস

লেখক, কবি ও প্রাবন্ধিক
  • আপডেটের সময় শনিবার ১৯ জুন, ২০২১

কেউ কেউ দুলাইন কবিতা লিখে নিজেকে জাতীয় কবির চেয়ে বড় আর বিশ্বকবির চেয়ে একটু ছোটজ্ঞান করেন এমন কাউকে কবি তো দূরের পাড়ি , মানুষ মনে করতেও রুচিতে বাধে । শিল্পচর্চা মানুষের উদারতার পথকে প্রশস্ত করে । কিন্তু এরা শিল্পকে ব্যবহার করে স্বীয় স্বার্থান্বেষণের পথ ও পাথেয় হিসাবে । এদের না আছে রুচিজ্ঞান , না আছে মনুষ্যত্ব ।
জোকার বার্গ বা তুমি জিনিস বাইনাইছো একখান । তুমি এই মাধ্যম উদ্ভাবন করে জ্ঞানের পথকে অবারিত করার পাশাপাশি দুষ্টু লোকেরা মানুষের চরিত্রহনন করার উপায় হিসাবে ব্যবহার করে । এটা বন্ধ হওয়া উচিৎ ।
রক্ষণশীল মনোভাব অতিমাত্রায় পোষকদের দ্বারা আর যাই হোক শিপ্লের বিকাশ ঘটে না । এরা দুই লাইন করে কবিতা লিখার নামে শব্দদূষণের সৃষ্টি করছে ।
আমরা যারা পত্রিকা চালাই তারাই এইসব বারো হাত কাকুড়ের তেরো হাত বিচিকে লাই দিয়ে মাথা তুলে স্বেচ্ছামৃত্যু গ্রহণের দিকে এগিয়ে যাই । কারণ আমাদের ভিউ লাগে , লাইক লাগে , কমেন্ট লাগে , চুলকানি লাগে , গোগলের টার্গেট পূরণ করতে হয় তাদের এক্সেস টিকিয়ে রাখতে গিয়ে । নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো আর পত্রিকা চালানো একই ব্যাপার । কেউ একজন রক্ষণশীলতার দোহাই দিয়ে লিখেন , এরা বাচে কি করে ?  আহা! তার জন্য দয়ার্দ্র হবার প্রয়োজন নাই । শুধু এদের মূল্যবোধ , পারিবারিক শিক্ষা , মনুষ্যত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুললেই অনেক কঠিন প্রশ্নের সহজ উত্তর পেয়ে যেতে পারি । এরা হচ্ছে বাপ দাদার নাম নাই , চান মোল্লা হাজি  গোত্রের । চেহারা সুন্দর হলেই যে মানুষ ভালো হবে এমনটি আশাকরা আর বোকার স্বর্গে করা একই কথা । আর যদি তাই হতো তাহলে শ্বেতাঙ্গ পুলিশেরা জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যা করে নিজেদেরকে হত্যাকারী হিসাবে সারাবিশ্বে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরতো না । এইসব অভব্য সুন্দর চেহারাধারীরা একেকজন নির্বিশঙ্ক আততায়ী ।  মনুষ্যত্ব কারো চেহারায় নয় , কর্মে-আচরণে-মানবিকতায়-রুচিতে ফুটে উঠে । মহাত্মা নেলসন ম্যাণ্ডেলা কৃষ্ণাঙ্গ হলেও তার নিজ কর্মগুণে মুক্তিকামী বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের অবিসংবাদিত নেতা হিসাবে স্বীকৃত , সম্মানিত । দ্বীপান্তরীণকালে যে কারারক্ষী তাকে পানির বদলে পেচ্ছাব পান করতে বাধ্য করতো , দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট হবার পরে সেই অমানুষকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন ।তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন নিয়ে লিখা , লং ওয়াক টু ফ্রিডম , আমার কাছে বাইবেলতুল্য ।
কে তুমি কুল-ভীল-গারো জাতীয় কবির এই প্রশ্ন আমাদের হীনমন্যতার দেয়ালকে চূর্ণ করে । শ্রীচৈতন্য যেমন ধর্মসাধক তেমনি আবার সংস্কারক ও ছিলেন । তিনি ধর্মকর্মের ব্যাপারে গোত্রশ্রেণীভেদ প্রথার মূলে আঘাত করে আত্মার মুক্তির পথকে প্রসারিত করে গেছেন , উদারনৈতিকতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন ।  না হলে কর্মাদি পুজোর পরের দিনে মোচ্ছেদীতে অনুষ্ঠিত ভোজসভায় সন্ন্যাসীগণ আমাকে নিয়ে যেতেন না । মহাদেবের ধ্বনিতে মুখরিত ভোজসভায় আমি লক্ষ্য করছিলাম শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু যেনো নিজেই এসে হাজির হয়েছেন । সকল নিহিলিস্টদের মনের ভরসাস্থল হয়ে তিনিই মানবতার মুক্তির পথ দেখাচ্ছেন । তার আরেক নাম নিমাই । তার মামার বাড়ি হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার জয়পুর গ্রামে । এই গ্রাম আরো বিখ্যাত এজন্য যে , একজন শিক্ষক , খড়মপেয়ে হোমিও ডাক্তার যিনি মানুষের কাছে ঋষিতুল্য । তিনি স্বর্গীয় বীরেশ্বর ভট্টাচার্য । আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে কিংবদন্তী হয়ে রয়েছেন আজো । আমি নিজেও তার সেবা গ্রহণ করেছি । তার গ্রামের জামাই হবার সুবাদে জামাই আদর থেকে কখনো বঞ্চিত করেন নি । ইংরেজী ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্য এবং হোমিও শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি থাকা সত্ত্বেও নিজেকে জাহিরের বাতিকগ্রস্ততা তাকে পেয়ে বসে নি কোনোদিন । নিজের অবস্থা ও অবস্থান বদলের জন্য নিজের ব্যক্তিত্বকে কখনো কারো অনুকম্পাযুক্ত করেন নি । নির্বিবাদী মানবতার ফেরিওয়ালা ছিলেন এই মানুষটি । তার প্রতি শ্রদ্ধা ।
লেখাটি আমরা কারো বিষোদগারের জন্য নয় , একটি ইতিবাচকতাকে সম্মান জানানোর দৃষ্টান্ত হিসাবে উল্লেখ করতে চাই ।
ভালো লিখলে মানুষ আপনাকে খুজে নেবে । ফটোসুন্দর বা সুন্দরী হওয়া আর ভালো মানুষ , ভালো লেখক হওয়া এক নয় । সবার আগে নিজেকে মানুষ হিসাবে প্রমাণ করতে হবে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মান্যবর কমরেড অমরচাদ দাসের মতো । মানুষের মাঝখানে স্থান করে নিতে পারা এই অশীতিপর যুবকের প্রতি আমার যুগল প্রণাম ।
হাওরাঞ্চলে গণহত্যা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে উনার শিষ্যত্ব গ্রহণ করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি । আমার কাজ মহামান্য আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক স্বীকৃত হয়েছে , রেফারেন্স হিসাবে নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানালেন অমরচাদ দাদা । তিনি গণহত্যাবিষয়ক আমার সকল কাজগুলো মহামান্য ট্রাইব্যুনালের নজরে আনায় আরো কাজের জন্য অনুরোধ করেছেন তারা । সাথে সহযোগিতাপূর্ণ আশ্বাসূচক বাণী পেয়েছি । আমি এখন তাই আরো দুর্নিবার্য , দুর্নিরোধ্য হয়ে উঠেছি দুর্নিরীক্ষ্যতার প্রাচীর ভেদের জন্য ।
শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর বলছেন ,
ক্লেশের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হয়ে ফিরতে
নির্ভর করো প্রশান্তির ওপর এবং অভ্যাস করো সম্যক দৃষ্টির ।
কোনো ব্যক্তি যে সম্যক দৃষ্টি লাভ করেছে ,
প্রতিবার যখন সমাহিতি থেকে জেগে উঠে ,
সমস্ত প্রপঞ্চকে সে মায়ার আট রকম দৃষ্টান্ত
হিসাবে দেখতে অভ্যস্ত হয়েছে ।
পরবর্তীকালে তার উপলব্ধিকে বিশুদ্ধ করে ,
সে উপায়কে করে তোলে তার প্রধান চর্চার বিষয় ।

বিজ্ঞাপন


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর