• E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:০২ পূর্বাহ্ন

শুভ শারদীয়া ও আমাদের ভ্রাতৃত্ববোধ

সাইফুর রহমান কায়েস
  • আপডেটের সময় সোমবার ২৫ অক্টোবর, ২০২১

আমি সকল কালের, সকল দেশের, সকল ধর্মের। আমি সকল মানুষের। মানুষকে মানুষের স্থানে জায়গা করে দিতে চাই। ধর্ম নয়, কর্ম দিয়েই মানুষের শেষ বিচার হবে। সকল সাপ্রদায়িক ভেদজ্ঞানকে দূর করতেই আমি পৃথিবীতে এসেছি। সত্য ও সুন্দরকে আমি সম্মান করি।

বিজ্ঞাপন

হযরত মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমীর ভালোবাসার চল্লিশ নিয়ম আমি মেনে চলি। বেশ্যা, ভবঘুরে,মাতাল, বুদ্ধিজীবি,  মাওলানা, অভিজাত, অনভিজাত নির্বিশেষে সবাইকে তিনি তার আপন নিয়মে কাছে টেনে নিয়েছিলেন। ফলে তার মৃত্যুতে সবাই তার জন্য অশ্রুপাত করেছিলো। এই সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধির কালে আমরা মানবিকতার সংকটে পড়ে গেছি। ফলে আমরা মানুষ কিনা সে প্রশ্ন কেউ না করে জিজ্ঞাস্য হয়ে গেছে কে হিন্দু, কে মুসলিম? কিন্তু ঐ জিজ্ঞাসে কোনজন? ডুবিছে মানব সন্তান মোর মার। মোরা একবৃন্তে দুটি কুসুম,  হিন্দু মুসলমান। হিন্দু তাহার নয়নমণি, মুসলিম তাহার প্রাণ। জাতীয় কবির বাণীকে আমরা ভুলতে বসেছি। মানুষের পরিচয় হবে তার মানবিকতা দিয়ে। মানুষ একে অন্যের প্রতি সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেবে, অন্যের দুঃখে অশ্রুপাত করবে, সকল ব্রত-কৃত্য-আচার সহভাগ করে নিবে। একদিকে বাজবে মন্দিরে মন্দিরা, অন্যপ্রান্তে হবে আজান, আল্লাহ হরিতে কোনো বিভেদ নাই। তাই তো বলি, আমার দুই কান্দে দুই প্রহরী, জপরে মানুষ আল্লাহ আল্লাহ হরি হরি। আল্লাহ হরি আছে মিলেমিশে, ও মানুষ তোমাদের মাঝে এতো বিভেদ কিসে, বলো রে মানুষ আল্লাহ আল্লাহ হরি হরি।
এদেশে উৎসব আসে শান্তির বার্তা নিয়ে। সাম্প্রদায়িক ভেদজ্ঞান দূর করতে। মানুষে মানুষে মেলবন্ধন তৈরীর জন্য নয়। অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে জাগিয়ে তুলতে।  তাই উৎসব হোক সবার। সর্বজনীন।
জনান্তিকে জানতে পারি এবার ময়ামায়া মহিষাসুর মর্দিনী দূর্গা এসেছেন দোলায় চড়ে আর যাবেন গজে চড়ে। বিজয়া দশমীতে তিনি বিদায় নেবেন। দেশে দেশে, কালে কালে একটি কথাই ধ্বনিত হোক মানুষ মানুষের জন্য। উৎসব মানুষের জন্য। উৎসবের জন্য মানুষ নয়। তাই উৎসবের আরেক অর্থ কিন্তু সংযম এবং পরমত ও পরধর্মসহিষ্ণুতা।
ঈদ বলুন, শারদীয় উৎসব বলুন আর পহেলা বৈশাখ বলুন সবই কিন্তু আবহমান বাংলা সংস্কৃতির অংশ।
আর তাই কেউ কাউকে ঈদ মোবারক বা শুভ শারদীয়া বললে কারো ধর্ম বিশ্বাসচ্যুতি ঘটেছে এমনটি মনে করার কোনো কারণ আমি দেখছি না। পরষ্পরের ভাব ও ভাষার আদানপ্রদানের মাধ্যমেই সংস্কৃতি বিকশিত হয়।  মনে রাখুন, মানুষের জন্য ধর্ম কিন্তু ধর্মের জন্য মানুষ নয়। শুনহ মানুষ ভাই মানুষের চেয়ে বড়কিছু নাই। তাই আসুন আমরা সকল বিভেদ ভুলে মানবসন্তান হিসাবে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একে অপরকে কাছে টানি। শুভ শারদীয়া।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর