• E-paper
  • English Version
  • শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:২০ অপরাহ্ন

শেরপুরে খাড়ামুড়া গ্রামবাসীর দুঃখ সোমেশ্বরী নদী !

মইনুল হোসেন প্লাবন, শেরপুর
  • আপডেটের সময় বৃহস্পতিবার ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রানিশিমুল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী খাড়ামুড়া গ্রামের ৪ হাজার মানুষের দুঃখ সোমেশ্বরী নদী! নদীটির ২টি শাখা ভারত থেকে নেমে গ্রামের দু’পাশ দিয়ে প্রবেশ করে বালিজুরি গ্রামে এসে এর মিলন ঘটেছে। খাড়ামুড়া গ্রাম থেকে পশ্চিমে রাঙ্গাজান গ্রামে যেতে হলে এ নদী পাড়ি দিয়ে যেতে হয়। দক্ষিনে বালিজুরি ও পূর্বপাশে তাওয়াকুচা গ্রামে যেতে হলেও এ নদী পারি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উত্তরে ভারত সীমান্ত ঘেঁষা এ গ্রামটির দিকে তাকালে যে কারো মনে হবে এ যেন একটি সিট মহল। ছোট-বড়ো, নারী-পুরুষ আবাল বৃদ্ধা বনিতাসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রায় ৪ হাজার লোকের বসবাস।

জানা যায়, শ্রীবরদী উপজেলা সদর থেকে খাড়ামুড়া গ্রামের দুরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। এ গ্রামবাসীদের দুঃখ দুর্দশার যেন শেষ নেই। রাস্তা -ঘাটের বেহাল দশা। শিক্ষায় দীক্ষায় ওই গ্রামবাসীরা রয়েছে অনেক পিছিয়ে। অভাব অনটন দুঃখ আর দুর্দশাই গ্রামবাসীদের নিত্যসঙ্গি। সোমেশ্বরি নদীর উপর একটি ব্রীজ না থাকায় গ্রামবাসীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সারা বছর এ গ্রামের লোকজনদের নদী পারাপার হতে হয় কখনো নৌকা, কখনো কলার ভেলা, আবার কখনো বাঁশের সাঁকো যোগে। এভাবে নদী পারাপারের সময় কোমলমতি শিশুকিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের লোকজনকে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনার ও শিকার হতে হচ্ছে প্রায়ই। এছাড়া এলাকায় উৎপাদিত কৃষি পণ্য ও গবাদি পশু পারাপারে কৃষকদের নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।

বালিজুরি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা মো. নুর ইসলাম ও খাড়ামুড়াসহ গ্রামবাসীরা জানান, দেশ স্বাধীনের পর থেকে এ নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মাণের দাবি উঠে গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে। বিভিন্ন সময় আশ্বাসও পাওয়া গেছে। কিন্ত আজো তা বাস্তবায়িত হয়নি। এ নদীর উপর ব্রীজ না থাকায় জরুরি ভিত্তিতে কোন রোগী হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে তা নেয়া আর সম্ভব হয় না।

রানিশিমুল ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ রানা বলেন, এ নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মাণের বিষয়ে উপজেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় বিভিন্ন সময় আবেদন-নিবেদনও করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় আশ্বাসও পাওয়া গেলেও আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি আরও বলেন, খাড়ামুড়া গ্রামবাসীর সবচেয়ে বড়ো দুঃখ সোমেশ্বরী নদী। তিনি এ নদীর উপর জরুরি ভিত্তিতে একটি ব্রীজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন।

শ্রীবরদী উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, সোমেশ্বরী নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মাণের জন্য নকশা ও মাটি পরীক্ষার কাজ চলছে। পরীক্ষার কাজ শেষে প্রকল্প প্রনয়ন করে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলেই ব্রীজ নির্মানের প্রস্তুতি নেওয় শুরু হবে।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর