• E-paper
  • English Version
  • শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:৪৫ অপরাহ্ন

শেরপুরে বীজমুক্ত পেয়ারা চাষে সফলতা

মইনুল হোসেন প্লাবন, শেরপুর
  • আপডেটের সময় বুধবার ৬ অক্টোবর, ২০২১
ছবিঃ- বীজমুক্ত পেয়ারা চাষে সফলতা পেয়েছেন কৃষক আল আমিন।

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ‘সিডলেস’ বা বীজবিহীন পেয়ারা চাষে সফল হয়েছেন মো. আল আমিন নামে এক যুবক।

উপজেলার সীমান্তবর্তী গৌরীপুর ইউনিয়নের কালাকুড়া গ্রামে তার ২০ শতক
জমিতে ৮০টি চারা রোপণ করে মাত্র এক বছরের মধ্যেই সফল হয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত এ বীজবিহীন ‘বারি
পেয়ারা-৪’ জাতের এ পেয়ারা জেলায় প্রথম চাষাবাদ হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি
বিভাগ। তবে চাষি, আল আমিন বলছেন, কৃষক পর্যায়ে বাণিজ্যিকভাবে দেশের
প্রথম বাগান এটি।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ‘বারি পেয়ারা-৪’ উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর ফল হলেও সব ধরনের মাটিতেই তা চাষ করা যায়। তবে জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দোআঁশ থেকে ভারী এঁটেল মাটি, যেখানে পানি নিষ্কাশনের বিশেষ সুবিধা আছে সেখানে
গাছের বৃদ্ধি ও ফলন ভালো হয়। এ ফলের আকার সাধারণত ৭.১৪ থেকে ১০.১৪
সেন্টিমিটার। ফলটির গড় ওজন ২৮৪ গ্রাম। এ জাতের পেয়ারা ৮-১০ দিন পর্যন্ত
সাধারণ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যায়। এছাড়া এটি রোগ ও পোকামাকড় সহিষ্ণু,
উচ্চ ফলনশীল। যখন অন্য জাতের পেয়ারা পাওয়া যায় না তখন এটি বাজারে আসে। পাঁচ বছর বয়সী গাছে গড়ে ২৯৬টি ফল ধরে, যার ওজন ৮৪ কেজির বেশি। চারা রোপনের পর কীটনাশকও তেমন প্রয়োজন হয় না। কেবল মাত্র আগাছা পরিষ্কারই যথেষ্ট।

শেরপুরের সন্তান বারিতে কর্মরত বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম তার
নিজ এলাকা ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী গৌরীপুর ইউনিয়নের
কালাকুড়া গ্রামে ২০২০ সালে চাষি আল আমিনের জমিতে বারির তত্ত্ববধানোড
পরীক্ষামূলক ৮০টি চারা দিয়ে শুরু করেন একটি বাগান। পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে ওইসব চারা গাছে ফুল আসে। পরবর্তীতে বারি ও কৃষি উদ্যোক্তারা এ বাগান
থেকে কলমের মাধ্যমে চারা সরবরাহ করে বীজমুক্ত পেয়ারা চাষ সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বাগানটিকে ‘মাতৃবাগান’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

বীজমুক্ত পেয়ারা চাষি মো. আল আমিন জানান, তিনি প্রথমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন কৃষি ও ফল বিষয়ক বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরি করেছেন। পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে নিজেই উদ্যোক্তা হওয়ার চিন্তা করেন। সে মোতাবেক গ্রামের বাড়িতে নিজের জায়গা-জমিতে বিভিন্ন ফলের বাগান তৈরির পরিকল্পনা থেকে গাজীপুরের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মরত তার এলাকার বড়ভাই বৈজ্ঞানিক মনিরুল ইসলামের কাছে যান। তার পরামর্শে ২০২০ সালে তিনি ড্রাগন ও মাল্টা বাগানের কাজ শুরু করেন। একইসাথে বীজমুক্ত পেয়ারা বাগানও তৈরি করেন। বাগানটি নিজে দেখাশোনার পাশাপাশি সবসময় যত্ন নেওয়ার জন্য শ্রমিকও রেখেছেন। চারা রোপণের ৬ মাসের মাথায় পেয়ারা গাছগুলোতে ফুল আসতে শুরু করে। এর ছয় মাসের মাথায় প্রতিটি গাছে প্রচুর পেয়ারার ফলন হয়। সম্প্রতি পেয়ারা পরিপুষ্ট হওয়ার পর বেশ কিছু পেয়ারা তুলে নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে বিক্রিও করেছেন। এতে বেশ সাড়াও মিলেছে। এখন তার বাগানের বীজমুক্ত পেয়ারা দেখতে আসছেন আশপাশের অনেক মানুষ।

আল আমিন আরও বলেন, এবার দ্রুততম সময়ে যে পরিমাণ ফল এসেছে, তাতে প্রতি বছর প্রতি গাছ থেকে বছরে ৩ বার ১০-১৫ কেজি করে পেয়ারা তুলতে
পারবেন। এছাড়া গাছ যত বড় হবে ফলনও তত বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও আশা করেন, এই বীজমুক্ত পেয়ারাটি একসময় স্থানীয় ও সারাদেশে ব্যাপক চাহিদা ছড়াবে। তাই আগামী বছর থেকে তিনি এ বাগান থেকে কলম করে বিক্রি করার চিন্তা করছেন।

এ ব্যাপারে গাজীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফলতত্ত্ব
বিভাগের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম জানান, ২০১৭ সালের দিকে
পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি কাপ্তাইয়ের রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে
উদ্যানতত্ত¡ বিভাগের গবেষণায় বীজমুক্ত পেয়ারার জাত ‘বারি পেয়ারা-৪’ উদ্ভাবন করে। এই পেয়ারাটি দেশি পেয়ারার চেয়ে সুস্বাদু ও উচ্চফলনশীল। হেক্টরপ্রতি এই জাতের পেয়ারার ফলন হবে ৩২ টন। ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ওই পার্বত্য এলাকায় ও আমাদের গবেষকরা দু’চারটে চারা নিয়ে রোপন করে বেশ সাফল্য পান। পরবর্তীতে চাষি পর্যায়ে বাগানের চিন্তা আসে আমাদের। এরপর চাষের পরীক্ষামূলক ও বাণিজ্যিক বাগান করা হয়েছে শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতীতে। তিনি বলেন, সুস্বাদু এ পেয়ারা সবসময় বাজারে পাওয়া যাবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শেরপুরের খামারবাড়ির উপপরিচালক ড. মোহিত কুমার দে বলেন, ঝিনাইগাতীতে বীজমুক্ত পেয়ারা চাষের কথা শুনেছি। কৃষিবিভাগ থেকে তাকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর