• E-paper
  • English Version
  • শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:২৮ অপরাহ্ন

সিলেটের অক্সিজেন ফেরিওয়ালা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য শাওন

পাবেল আহমদ, সিলেট
  • আপডেটের সময় রবিবার ১৫ আগস্ট, ২০২১

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য শাহ আলম শাওন। পাশাপাশি তার আরেকটি পরিচয় রয়েছে অক্সিজেন ফেরিওয়ালা। নিজের প্রাইভেটকার নিয়ে সিলেট নগরীর অলিগলিতে যখন যার প্রয়োজন মোবাইলে কল করলেই অক্সিজেন নিয়ে বাসায় হাজির হচ্ছেন তিনি। নিজের উদ্যোগে ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন ৫টি টিম। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা, উপশহর, শাহী ঈদগাহ ও মদিনা মার্কেট এলাকায় কাজ করছে তারা।

করোনায় যখন মানুষ ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে শাওন তখন জীবনের ঝুঁকি জেনেও ছুটে যাচ্ছেন মানুষের বাসায় অক্সিজেন নিয়ে। কখনো করোনা আক্রান্ত রোগীর বাসায়। আবার কখনো নন-কোভিড রোগীর বাসায়। পরিবারের সবাই বলেছিলেন যাতে করোনা আক্রান্ত রোগীদের কাছে না যেতে। কিন্তু মানবতার এই ফেরিওয়ালা সেই কথা রাখতে পারেননি মানুষের সেবা দিতে। শাওনের এমন কাজকে সাদরে গ্রহণ করেন তার পরিবারের লোকজন। তাইতো তার কাজকে অনুপ্রেরণা দিতে পুরো ব্যয়টা বহন করছেন তারা।

এ ব্যাপারে কথা হলে শাহ আলম শাওন বলেন, বিমানবন্দর এলাকার একটি অসহায় পরিবারকে সব সময় সহায্য সহযোগীতা করি। সেই বাসায় একজন মহিলা ও তার মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। হঠাৎ একদিনে শ্বাস কষ্ট দেখা দেয়।পরবর্তীতে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে ডাক্তার বলেন তাকে নিয়মিত অক্সিজেন দিতে হবে। এই কথা শুনে সিলিন্ডার কিনে নিয়ে ওই মহিলার বাসায় গিয়ে নিজ হাতে লাগিয়ে দেই। কিন্তু মাত্র কয়েক ঘন্টা পর তিনি মারা যান। একই ভাবে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায় থেকে একজন লোক সিলেট আসেন। বিভিন্ন হাসপাতল ঘরে বেড খালি না থাকায় তারা চলে যাচ্ছিলেন। পরে তাদেরকে অক্সিজেন দেন। এরপর থেকে ৬টি সিলিন্ডার দিয়ে ফ্রি সেবা শুরু করেন।এরপর থেকে আমি নেমে পড়ি মানুষকে অক্সিজেন দিয়ে সাহায্য দিতে।

করোনাকালীন গত দেড় মাস ধরে এ পর্যন্ত ১৭৭ জন রোগীকে ফ্রি অক্সিজেন সার্ভিস দিয়েছেন শাহ আলম শাওন। তার কাছে প্রায় ২৯টি সিলিন্ডার রয়েছে। প্রতিদিন অনেক মানুষ কল দিয়ে বলেন তাদেরকে অক্সিজেন দেওয়ার জন্য। এখন পর্যন্ত কাউকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি।

এক প্রশ্নের জবাবে শাওন বলেন, কেউ যদি একটা সিলিন্ডার দিয়েও ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়ে থাকে। তবুও দেন। এটাকে খারাপ ভাবে না নিয়ে আমাদের ভালোভাবে নেয়া উচিত। কারণ তার দেখাদেখি অনেকেই অনুপ্রেরণা পাবে।তাতে মানুষ আরও সাহায্য পাবে।তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যেকের জায়গা থেকে মানুষকে যতটুকু সম্ভব সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। মানুষ চিরদিন বেঁচে থাকবে না। একদিন চলে যাবে। কিন্তু আমাদের এই কর্মগুনে বেঁচে থাকবো।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর