• E-paper
  • English Version
  • শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৫৩ অপরাহ্ন

সিলেটে হারিয়ে যাচ্ছে ডাকবাক্স গুলো, এখন আর আসে না কোনো চিঠি

পাবেল আহমদ, সিলেট
  • আপডেটের সময় শুক্রবার ৮ অক্টোবর, ২০২১

সিলেটে ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তির দাপটে প্রতিক্ষণে প্রতিমুহুর্তে হারিয়ে যাচ্ছে পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ডাকঘরের “ডাকবক্স”। এখন আর আগের মতো ডাক অফিসে লোকজনের আনাগোনা দেখা যায় না।
আধুনিক প্রযুক্তির যুগান্তকারী আবিস্কার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ক্ষুদে বার্তা আদান-প্রদান আর ই-মেইলের যুগে এখন কেউ আর রঙিন খামে চিঠি লিখেন না। রাষ্ট্রীয় দাপ্তরীক চিঠিপত্র ও পার্শ্বেল আদান-প্রদান ব্যতীত এখন আর পোস্ট অফিসের কদর নাই। এখন কেউ আর প্রতিক্ষার প্রহর গুণেননা ডাকপিয়ন চিঠি নিয়ে আসবে বলে। কালের বিবর্তনে মহাকালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে ডাকবাক্স।

বিজ্ঞাপন


ডাকঘর ছাড়াও মানুষের সুবিধার্থে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে দেখা যেত এই ডাকবাক্স। সাধারন থেকে গুরুত্বপূর্ন সকল প্রয়োজনে ব্যবহার হত এ ডাকবাক্সগুলো। কিন্তু বর্তমানে সরকারি ও অফিসিয়াল কাজে ছাড়া এর ব্যবহার নেই বললেই চলে। তাই শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর সামনে এগুলো থাকলেও হচ্ছেনা এর ব্যবহার, পরে রয়েছে অবহেলিতভাবে ।
বেশ কয়েকবছর আগেও কোন মহল¬ায় ডাকবাক্স স্থাপনের জন্য কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন নিবেদনসহ খবরের কাগজে লেখালেখি করতে হত। অনেক বিবেচনার পর মহল¬া ভিত্তিক ডাকবাক্স স্থাপন করা হত। এখন ভেঙে নষ্ট হয়ে গেলেও কেউ তার দিকে ফিরে তাকায় না।

বিজ্ঞাপন


জানা যায়, প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা সিলেটের ফেলে আসা দিন গুলোতে বার্তা প্রেরক ও মনের ভাব আদান প্রদান ক্ষেত্রে ডাক বিভাগের বিষয়টি অতি গুরুত্বের সাথে উচ্চারিত হয়েছিল। আশির দশক পর্যন্ত যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল চিঠি এবং জরুরী বার্তার জন্য টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন। একমাত্র জেলা শহর ব্যতিত গ্রামীন জনপদে টেলিফোনের ব্যবহার ছিল অত্যন্ত সীমিত। পরিবার কিংবা প্রিয়জনের চিঠির জন্য অপেক্ষায় থাকতেন এলাকার প্রবাসীরা। এখন আর সেই দিন নেই। নানা তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে দিন বদলের ন্যায় পাল্টে গেছে সবকিছু। এখন এক নিমিশে খবরা খবর পৌছে যাচ্ছে ঘর থেকে বিশ্বের যেকোন প্রান্তে। প্রতি সেকেন্ডে আলাপ চলছে অত্যাধুনিক মোবাইলে। চোখের পলকে খবর পৌছে যাচ্ছে কম্পিউটারাইজম সিস্টেম তথ্য প্রযুক্তির আরেক মাত্রা ই-মেইলে। ডিজিটাল যুগের একদাপ পরিবর্তনের ফলে অচল হয়ে গেছে ডাকে চিঠি প্রেরণ ও টেলিগ্রাফের যুগ।
চিরচেনা ডাকবাক্স দিন বদলের সনদ বাস্তবায়নের কালে ডিজিটাল যুগে অনায়াসে হারিয়ে যাচ্ছে আধুনিকতার দাপটে। বর্তমানে দেশে যে ডাকবাক্সগুলো রয়েছে। এর মধ্যে অযতœ-অবহেলা আর অব্যবহূত হয়ে প্রায় অকার্যকর হয়ে গেছে অধিকাংশই । দিনের পর দিন খোলা হয়নি এমন বাক্সের সংখ্যাও কম নয়। ডাকবাক্স গুলিতে চিঠির পরিবর্তে থাকছে ময়লা-আবর্জনা। জেলা এবং উপজেলার কিছু ডাকঘরের ডাকবাক্স ব্যতীত সবকটিতেই এই নাজুক অবস্থা। অযতœ অবহেলায় বৃষ্টিতে ভিজে সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। ব্যস্ত রাস্তার মোড়ে স্থাপিত ডাকবাক্সগুলোর বেশিরভাগই জরাজীর্ণ অবস্তা। অধিকাংশ জায়গায় গেলেই দেখা যায় চিঠি রাখার বাক্স মাটিতে দেবে যাচ্ছে। চারপাশে জন্মেছে আগাছা। ডাকবাক্স গুলো দিনের পর দিন থাকে বন্ধ, তাতে চিঠির পরিবর্তে স্থান পাচ্ছে বিড়ি-সিগারেটের প্যাকেট, ময়লা আবর্জনা ও বাজে কাগজপত্র। তালাবিহীন এসব ডাকবাক্স এখন ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। ডাকবাক্সের কোনোটা মরচে পড়ে ফুটো হয়ে গেছে। কোনোটায় দীর্ঘদিন ধরে তালা নেই। আবার কোনোটা ভেঙে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ডাকবাক্সের এমন দুরবস্থার পাশাপাশি এগুলো নিয়মিত খোলা এবং রক্ষনাবেক্ষনও হয় না। সারা দেশের ডাকবাক্স গুলোর চিত্র বর্তমানে অত্যন্ত করুণ।
সিলেটের জেলা ও উপজেলার কিছু পোস্টমাস্টারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চিঠি নিয়ে ভাবনা-দুর্ভাবনায় থাকতে হয় কখন চিঠি হারিয়ে যায়। সত্যিকার অর্থে চিঠি সবাইকে আমন্ত্রণ দান করে। এর মূল্য অপরিসীম। চিঠিতে অনেক সময় পাওয়া যায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ঐতিহাসিকরা খুঁজে পান ইতিহাসের অমূল্য উপাদান। অথচ সরকারি ডাকসেবা সময়োপযোগী করার লক্ষ্য নিয়ে ২০০০ সালে ই-পোস্ট সার্ভিস চালু করা হয়েছিল। সম্ভাবনাময় এই সার্ভিসটি এতটা বছর পরেও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে-প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবল সঙ্কটের কারণে।
সারা দেশে ডাকঘর বা পোস্ট অফিস আছে ৯ হাজার ৮৮৯টি, এর মধ্যে জেনারেল পোস্ট অফিস চারটি। জেলা শহরগুলো মিলিয়ে ৬৬টি। এরপর উপজেলা, গ্রামে রয়েছে ৮২০০টি এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল ডাকঘর। বর্তমানে অ্যাসিষ্ট্যান্ট পোস্টমাস্টার, পরিদর্শক, অপারেটর, মেইল অপারেটর ও রানারসহ সারাদেশে ডাক বিভাগে কর্মরত লোকবল রয়েছে ১২ হাজারে । পূর্ণাঙ্গ বেতন স্কেলভুক্ত ও বেতন স্কেল ছাড়া ৩০ হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারী এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করে থাকেন। তবে এতো বড় ও সম্ভাবনাময় এ প্রতিষ্ঠানটিকে প্রযুক্তি নির্ভর কর্মকান্ডে পরিচালিত করতে পারলে সাধারণ মানুষ স্বল্প খরচে অনেক বেশি সেবা গ্রহণের সুযোগ পেত বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্টজনরা।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর