• E-paper
  • English Version
  • রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:০২ পূর্বাহ্ন

সিলেট জেলা বিএনপি’তে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে

পাবেল আহমদ, সিলেট
  • আপডেটের সময় বৃহস্পতিবার ২৬ আগস্ট, ২০২১

স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা ও মহানগর শাখার আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে সিলেট বিএনপিতে যে ক্ষোভের আগুন জ¦লেছে তা কিছুতেই নিভছে না।
বরং সময়ের সাথে সেই ক্ষোভের আগুনের উত্তাপ যেন বাড়ছে। সদ্য ঘোষিত কমিটিতে ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের অবমূল্যায়ন ও অপমানের অভিযোগ এনে দল ছাড়ার ঘোষণা দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক ও সিলেট মহানগর শাখার সাবেক প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামসুজ্জামান জামান। এরপর থেকে গৃহদাহে পুড়তে থাকে সিলেট বিএনপি।
শুরু হয় পদত্যাগের হিড়িক। সর্বশেষ বুধবার স্বেচ্ছাসেবক দলের ৯ উপজেলা ও ৩ পৌর কমিটির আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক একযোগে পদত্যাগ করেছেন। এছাড়াও আগামীতে স্বেচ্ছাসেবকদলের গণপদত্যাগের পাশাপাশি বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সিলেট বিএনপির অভ্যন্তরিণ কোন্দল অনেক পুরনো। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার মুক্তাদির আহমদ এবং অন্য গ্রুপে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহ ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক ও কেন্দ্রীয় সহ স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শামসুজ্জামান জামান। এই কোন্দলের জের ধরে স্থবির রয়েছে সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির কার্যক্রম। এছাড়া যখনই অঙ্গ সংগঠনগুলোর কমিটি হয় তখন উভয় গ্রুপের নেতারা নিজেদের বলয়ে নেতৃত্ব ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।
জেলা ও মহানগর ছাত্রদল ও যুবদলের কমিটিতে উভয় গ্রুপ কেন্দ্রে লবিং করলেও শেষ পর্যন্ত প্রভাব খাটিয়ে নিজের অনুসারীদের শীর্ষ পদে পদায়ন করেন খন্দকার মুক্তাদির। জেলা ও মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটিতে নিজেদের অনুসারীদের পদায়ন করতে না পেরে ক্ষোভে পদত্যাগের ঘোষণা দেন আরিফুল হক চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. শাহরীয়ার হোসেন চৌধুরী ও এডভোকেট শামসুজ্জামান জামান। ওই সময় কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে তারা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ান।
কিন্তু গত ১৭ আগস্ট জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণার পর সেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। পরদিন সংবাদ সম্মেলন ডেকে পদত্যাগের সাথে দল ছাড়ার ঘোষণা দেন বিএনপি নেতা এডভোকেট জামান। এরপর ২১ আগস্ট পদত্যাগ করেন জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির ১০ নেতা। ২৩ আগস্ট পদত্যাগের পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতিকে ইস্তফা দেন মহানগর তাঁতীদলের সভাপতি ফয়েজ আহমদ দৌলত, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল গফ্ফার।
এর দুইদিনের মাথায় বুধবার দুটি ছাড়া বাকি সকল উপজেলা ও ৩টি পৌরসভা কমিটির আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক একযোগে পদত্যাগের ঘোষনা দেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি নিয়ে এই সিরিজ পদত্যাগে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে সিলেট বিএনপি।
এদিকে, দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে- কয়েক দিনের মধ্যে সিলেটের বিভিন্ন ইউনিয়ন ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবকদলের কয়েকশত নেতাকর্মী পদত্যাগ করবেন। এরপর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলেরও শতাধিক নেতাকর্মী পদত্যাগ করতে পারেন। এ নিয়ে মুক্তাদির বিরোধী বলয়ের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
পদত্যাগ প্রসঙ্গে সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের আহবায়ক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘শামসুজ্জামান জামান সিলেটের রাজপথে বিএনপির বড় শক্তি ছিল। জীবনবাজি রেখে সে দলের জন্য কাজ করেছে। সিলেটে স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি দেয়ার নামে তাকে ও দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অপমান করা হয়েছে। কিছু চাটুকার মিলে দলকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এদের কারণে জামান যে পথ বেছে নিয়েছে বাধ্য হয়ে সে পথ হয়তো বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের অনেককেই অনুসরণ করতে হবে।’

সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাহের শামীম বলেন, ‘অনেক সময় হয়তো ত্যাগীরা মূল্যায়িত হন না। কিন্তু দলের প্রতি কমিটমেন্ট থাকলে আজ হোক আর কাল হোক কাজের মূল্যায়ণ হবেই। আন্দোলন সংগ্রামে জামানের অনেক অবদান আছে, কিন্তু দলের বিরুদ্ধে সে যেভাবে বিতর্কিত কথা বলেছে সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। অভিমান করে তার দলত্যাগ উচিত হয়নি।’
বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘জামান তার ক্ষোভ থেকে পদত্যাগ করেছে। কতিপয় নেতা বারবার কেন্দ্রকে ভুল তথ্য দিয়ে দলের ক্ষতি করছেন। যখন ত্যাগী নেতাকর্মীরা দলে অবমূল্যায়িত হয় তখন খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক।’


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর