• E-paper
  • English Version
  • শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের ভরাডুবি:- একটি নিবিড় বিশ্লেষণ 

সাইফুর রহমান কায়েস
  • আপডেটের সময় বুধবার ১ ডিসেম্বর, ২০২১

সাম্প্রতিক ইউপি নির্বাচনে গণহারে পরাজয়কে একটি বড় দলের বড় ধরনের সাংগঠনিক বিপর্যয় বলেই মনে হচ্ছে। মোদ্দাকথা ক্ষমতায় থাকলেই যে একটি প্রাচীন দল জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করবে না সাম্প্রতিক ভরাডুবি তার শ্রেষ্ঠ প্রমাণ।

বিজ্ঞাপন

দলীয় কর্মসূচীকে গণমুখী করতে না পারার ব্যর্থতা এখন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ’র গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে। ক্ষমতাকে আকড়ে ধরার বিপরীতমুখী চাপ এই নির্বাচনে দলটির পরাজয়কে ত্বরান্বিত করেছে। দলে ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়নের ফলে এতোদিন যারা নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে এসেছিলেন তারা অনেকেই নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন, আবার কেউ কেউ নিজেদেরকে গুটিয়ে নেবার ফলে দলটি তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে দুর্বলতম হয়ে পড়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যাও কিন্তু দলটিতে অনেক ছিলো। আওয়ামীলীগের এখন আত্মসমালোচনার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি পথ ও পন্থা নির্ধারণের সময় এসেছে।
মনোনয়ন বঞ্চিত অনেককেই দেখা গেছে আত্মঘাতী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করতে। যেটি একটি প্রাচীন দলের সাংগঠনিক সক্ষমতাজে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
দল ক্ষমতায় আসার পরে মৌলোভীদের সংখ্যা আশাতীতভাবে বেড়ে যাওয়ায় ত্যাগী নেতাকর্মীগণ উপেক্ষিত হতে থাকায় তৃণমূলে হতাশার সঞ্চার হওয়ায় কাউয়াদের বাড়বাড়ন্ত ঈর্ষণীয় হারে বেড়ে গেছে, একই সাথে নিবেদিতপ্রাণ কর্মীগণ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আস্থা হারিয়েছেন। এই আস্থাহীনতার ফলে দলটি ভোটারের কাছে গণতন্ত্রের বার্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
অনেক নির্বাচনে মাসলম্যানশীপের অস্তিত্ব জনগণের মনে ভীতি ও ত্রাসের সঞ্চার করেছে। ফলে ভোটারগণ এবার সাহস করে নৌকা প্রতীককে ভোট না দেয়ার নীতিগতভাবে গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন  স্থানীয় সরকার নির্বাচনে।
সরকারের কল্যাণমুখী অনেক নীতি ও আদর্শের বাস্তবায়ন ঘটলেও সকল ক্ষেত্রে জোর খাটানোর প্রবণতাযুক্ত হওয়ায় জনগণ এবার আওয়ামীলীগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
নির্বাচন ব্যবস্থাকে অবাধ, নিরপেক্ষ, সর্বজনীন এবং উৎসবমুখর করতে না পারলে দলটির আরো সুদূরপ্রসারী পরাজয় অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠবেই। সবকিছুকেই কুক্ষিগত করার বেড়াজাল থেকে যদি দলটি বেড়িয়ে আসতে না পারে তাহলে একসময় মুসলিম লীগের মতোই বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। গণতান্ত্রিক রীতিতে ক্ষমতার পালাবদল গণতন্ত্রেরই সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। আর কুক্ষিগত করে রাখার মানসিকতা শুধু দলকেই নয়- গণতন্ত্রকেও নস্যাৎ করে। আমরা আসলে এই পরিণতির দিকেই এখন চলে গেছি।
ঘটে যাওয়া ভুলভ্রান্তির সময়োপযোগী, যথার্থভাবে বিশ্লেষণ যদি না করা যায় তাহলে দলের অস্তিত্বে টান পড়বেই। মনে রাখুন, মানুষের মন জয়ের মাধ্যমেই নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায়। ত্রাসের সঞ্চার করে সাময়িকভাবে জয়ী হলেও ভবিষ্যৎ পতন ঠেকানো যায় না। যখনই ত্রাস, লুটতরাজ, ভীতির রাজ্য কেউ কায়েম করতে চায় তখনই সে তার বিনাশ সাধন করে ফেলে। এটা পতনের নিকটতম ইশারা।
জনগণের ভাত ও ভোটের লড়াইয়ে, দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে যে দলটি নেতৃত্ব দিয়েছে সে দলটির অহল্যা হয়ে যাওয়া আমরা মেনে নিতে পারি না। দলটি সরকারে আছে একযুগ ধরে। ক্ষমতায় থেকেও জনহিতৈষী কাজের সুফল কেনো জনতার দ্বারপ্রান্তে পৌছে দিতে পারলো না সে প্রশ্ন রয়েই যায়। সমণ্বয়হীনতার ভেতর দিয়ে চলা সরকারব্যবস্থা যারপরনাই দিনেদিনে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জনপ্রিয়তা তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে যার প্রমাণ চলমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভরাডুবি । এই ভরাডুবি আসলে কোনো দলের একার নয়, এটা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকামী জনতারই ভরাডুবি। আশাকরি দলের নীতিনির্ধারকমহল বিষয়টি আমলে নেবেন।
 সাইফুর রহমান কায়েস
প্রধান সম্পাদক
শব্দকথা টোয়েন্টিফোর ডটকম


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর