নোয়াখালীতে ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা ও গন বহিষ্কার এর প্রতিবাদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সংবাদ সম্মেলন

প্রজিত সুহাস চন্দ, নোয়াখালী
  • আপডেটের সময় বৃহস্পতিবার ২৩ ডিসেম্বর, ২০২১

আগামী ২৬ ডিসেম্বর নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অবাধ নিরেপক্ষ সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের দাবি ও নির্বাচনকে সামনে রেখে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নেতাকর্মিদের হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ৭টি ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় উপজেলার ঘোষবাগ ইউনিয়নের ঘোষবাগ কাদেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

কবিরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও কবিরহাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আলাবক্স তাহের টিটু বলেন, নৌকার সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী তারা সবাই আওয়ামী লীগের লোক। এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে জনজোয়ারের দেখা দিয়েছে। প্রশাসন একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবেন বলে আশাবাদী। আচরণবিধি ভঙ্গের অনেক ঘটনা ঘটেছে। সরকার দলীয় লোকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছে।

তিনি আরও বলেন, বাটইয়া ইউপি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। ওবায়দুল কাদের সাহেবের কাছে অনুরোধ যাতে মানুষ স্বধীন ভাবে ভোটারদের ভোট প্রযোগ করতে পারেন। ভোট শেষে সবার নেতাই ওবায়দুল কাদের।

ঘোষবাগ ইউনিয়নে অটোরিকশা প্রার্থীর পক্ষে তার ভাই জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া বলেন,জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কবিরহাট এসে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে বক্তৃতা দেওয়ার সময় বলেন ঠেলি খেলতে। একজন জেলা নেতা কি করে এমন বক্তব্য দেয়? যদি সুষ্ঠু নির্বাচন না হয় তাহলে ব্যাপক সহিংসতা হবে। যার দায়বার তাদেরকে নিতে হবে। তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন দাবি করেন। ৭টি ইউনিয়নের ৫৯টি কেন্দ্র সবগুলো কেন্দ্র ই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন।

ধানশালিক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাহাব উদ্দিনের প্রতিনিধি আওয়ামী লীগ নেতা কামাল উদ্দিন বলেন,প্রতিপক্ষ বিভিন্ন ভাবে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সেলিম সাহেব কি করে নির্বাচনী প্রচার কাজে অংশ নেন, তা বোধগম্য না। সরকার দলের প্রার্থীদের হুমকির মুখে স্বতন্ত্র প্রার্থিরা নিরাপত্তা হীনতার মধ্যে রয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভাবে গ্রহণ করার দাবি জানান তিনি।

বাটইয়া ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মিরন বলেন, তার নির্বাচনী ইউনিয়ন ত্রিমুখি সীমান্তবর্তী হওয়ার কারণে অধিক ঝুকিপূর্ণ। তিনি ২৬ ডিসেম্বর নির্বাচন যেন অবধ সুষ্ঠু হয় এ দাবি জানান।

ধানসিড়ি ইউনিয়নের আনরস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল উদ্দিন বাবুল বলেন, আমার মনোনয়ন নিয়ে ব্যাপক মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছে। সেটা সবাই জানেন।জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়কের ঠেলি খেলা নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে নির্বাচন আদৌ সুষ্ঠু হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে প্রতিটি ইউনিয়নে নৌকা ডুববে এতে কোন সন্দেহ নেই।
ধানসিঁড়ি ইউপির স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রহমত উল্লাহ বাহার (অটোরিকশা) বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়ার কারণে তৃতীয় লিঙ্গের লোক যখন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তাই নিরপেক্ষ নির্বাচন গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে যেই নির্বাচিত হোক তাতে তাকেই গ্রহণ করবো।

এ সময় বিদ্রেহী প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিষ্কারের কতগুলো নিয়ম নীতি আছে। কিন্তু তা মানা হচ্ছেনা। যুবলীগ নেতাকে আওয়ামী লীগের আহবায়ক কি করে বহিষ্কার করেন? এটা দলের গঠনতন্ত্র লঙ্গন। এবার মনোনয়ন বাণিজ্য অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে। ধানসিড়ি ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেযারম্যান প্রার্থী কামাল উদ্দিন বাবুল অভিযোগ করে বলেন, তার কাছে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য ৪০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন কবিরহাট পৌরসভার মেয়র ও কবির হাট উপজেলা আলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক রায়হান।

নির্বাচন নিয়ে ব্যাস্তথাকায় জহিরুল হক রায়হান এর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর