• E-paper
  • English Version
  • শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন

শেরপুরে শান্তিপূর্ণ ভোট উৎসবের দাবি জানালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাংবাদিক জুবায়ের ও ফরিদ

মইনুল হোসেন প্লাবন, শেরপুর
  • আপডেটের সময় বৃহস্পতিবার ২৩ ডিসেম্বর, ২০২১

শেরপুরের অন্য ৩টি উপজেলার মতো শ্রীবরদীতেও শান্তিপূর্ণ নির্বিঘ্ন ভোট উৎসব নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভেলুয়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাংবাদিক মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান (চশমা প্রতিক) ও শ্রীবরদী সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাংবাদিক মো. ফরিদুজ্জামান খান (আনারস প্রতিক)। বুধবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে জেলা ও শ্রীবরদী উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় ওই দাবি জানান তারা।

সাংবাদিক জুবায়ের রহমানের দাবি, অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো হচ্ছে চরহাবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, ঝগড়ারচর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, বারারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও চাংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র।

মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, এই ইউনিয়নে চলতি মেয়াদে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন তারই বড়ভাই মিজানুর রহমান। তার মৃত্যুর দুমাস পরই মারা যান সমাজসেবক পিতা মজিবর রহমান। এত শোকের পরও এলাকার মানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে অনিচ্ছাস্বত্ত্বেও প্রার্থী হয়েছি। কয়েকমাস যাবত মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যেমন পেয়েছি তাদের ভালোবাসা, তেমনি পেয়েছি এলাকাবাসী আমার বিজয়ের জন্য একাট্টা। কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর দাপটের পাশাপাশি এখন পাশের বৃহত্তর ওয়ার্ডে একক প্রার্থী করার নামে যে অবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছে, তাতে শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠান নিয়ে এলাকাবাসী ও ভোটাররা শঙ্কিত হয়ে উঠছেন।

তাই শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন ভোট অনুষ্ঠানের স্বার্থে ইউনিয়নের ওই ৪টি কেন্দ্র নিরাপত্তা বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ইতোমধ্যে জেলার অন্য ৩টি উপজেলায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভোটারদের চাওয়া-পাওয়ার যে প্রতিফলন ঘটেছে, ভেলুয়াতেও একই প্রতিফলন ঘটাতে জেলা-উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলেই একই সদিচ্ছা নিয়ে কাজ করবেন।

এদিকে, সাংবাদিক ফরিদুজ্জামান বলেন, ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তার সুসংহত অবস্থানে ভীতশ্রদ্ধ হয়ে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী, বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম নানা ষড়যন্ত্র করছেন। তার কর্মীদের হুমকির পাশাপাশি নিজের বৃহত্তর ওয়ার্ডের কেন্দ্রগুলোতে নৌকা প্রতিকে ভোট দেখে দেখে নেবেন বলেও ভীতি ছড়াচ্ছেন।

এতে তার সমর্থকগণসহ সাধারণ ভোটাররা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে নয়ানী শ্রীবরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মৃত ও অনুপস্থিত ভোটারদের ভোটসহ মোট ৯৮ ভাগ ভোট কাস্ট দেখানো হয়েছে।

এছাড়া কুকড়ারপাড় ও কুড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও কারচুপির আশ্রয় গ্রহণ করা হয়েছে। এবার তিনি জনবিচ্ছিন্ন, নানা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত ও একটি হত্যা মামলায় জড়িয়ে বিতর্কিত হয়ে পড়ার পরও একই পথ অনুসরণ করে নিজ এলাকার ওই ৩টি কেন্দ্রসহ পার্শ্ববর্তী বালুরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে বিজয়ের স্বপ্ন দেখছেন। এজন্য করছেন নানা ষড়যন্ত্র। এজন্য তিনি ওই ৪টি কেন্দ্র চরম ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করে কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু ও

শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠানের স্বার্থে নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রশাসন ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানান। তিনি ইতোমধ্যে জেলার অন্য ৩টি উপজেলায় জেলা-উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে শ্রীবরদীতেও তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার মধ্য দিয়ে মডেল নির্বাচন উপহার
দেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর