• E-paper
  • English Version
  • শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন

কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে প্রত্যন্ত এলাকায় জীববৈচিত্র্য নির্ভর কৃষি স্কুল

রনজিৎ বর্মন (শ্যামনগর) সাতক্ষীরা
  • আপডেটের সময় শনিবার ১ জানুয়ারী, ২০২২

স্থানীয় কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় জীববৈচিত্র্য নির্ভর কৃষি স্কুল চালু।

জীববৈচিত্র্য নির্ভর কৃষি চর্চায় সকলের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করতে রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশ
উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় চালু করেছে স্বান্ধ্য কালিন কৃষি স্কুল। যেখানে কৃষকরা ও স্থানীয় সকল বয়সের শিক্ষার্থীরা স্থানীয় পরিবেশ, প্রতিবেশ বিবেচনা করে কৃষি বিষয়ে বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারবেন।

রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশের গবেষণা সহকারী চৈতন্য কুমার দাস বলেন, গত ২২ ডিসেম্বর থেকে ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধূমঘাট, বংশীপুর ও পাতড়াখোলা নামক স্থানে তিন দিন করে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত কৃষকদের সুবিধায় কাজের ক্ষতি না করে প্রত্যহ সন্ধ্যা কালিন তিন ঘন্টা বা তদুর্ধ সময়ে স্থানীয় কৃষক,কৃষাণী, সার–কীননাশক ব্যবসায়ী ও স্কুল শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে জীববৈচিত্র্য
নির্ভর কৃষি স্কুল ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার সফল কৃষক ও কৃষির ভিডিও চিত্র মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়।

এ সকল স্কুলে কৃষক ,কৃষাণী ও কীটনাশক ব্যবসায়ীবৃন্দ আলোচনান্তে বলেন জীববৈচিত্র্য নির্ভর কৃষি একটি সামগ্রিক সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থা। এটি কৃষি পরিবেশের পাশাপাশি সমাজের ভারসাম্য রক্ষায় অবদান রাখে।

জীববৈচিত্র্য চর্চা করা হলে সামাজিক ঐক্য বজায় রাখা সম্ভব বলে তারা মনে করেন। পাতড়াখোলা এলাকায় অভিজ্ঞতা বিনিময়কালে কৃষক বিধান চন্দ্র, অধীর গায়েন, সবিতা রানী,বিলকিস নাহার
সহ অন্যান্যরা বলেন, শ্যামনগর উপজেলায় চিংড়ী চাষের এলাকা হলেও কৃষি ফসল উৎপাদনে অর্থাৎ আমন ফসল, বোরো ফসল সহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনে অনবাদ্য ভূমিকা রেখে চলেছে।
কিন্ত ফসল উৎপাদনের অন্যতম বাধা শুকনা মৌসুমে পানির সংকট ও অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি। তারা অন্তাখালী খাল, আটকাটা ধলের বিল নামক খালটি পুনঃ খননের দাবী সহ
ইজারা বাতিলের দাবী জানান।

ধূমঘাট স্বান্ধ্যকালিন স্কুলে স্থানীয় কৃষক স্বপন মন্ডল, মালতি রানী সহ অন্যান্য কৃষকরা মতবিনিময়কালে স্থানীয় ধানের জাত সংরক্ষণে বীজ ব্যাংক স্থাপন, জীববৈচিত্র্য নির্ভর কৃষির উপর ব্যাপক গুরুত্বারোপ করেন। এ ছাড়া কৃষকরা গ্রাম পর্যায়ে জৈব প্রযুক্তি কৃষির প্রচার প্রসারে সরকারি ও বেসরকারী সংগঠনের ভূমিকা রাখার কথা বলেন।

বংশীপুর কৃষি স্কুলে অভিজ্ঞতা বিনিময়কালে শামীম হোসেন, শাহানারা বেগম, ফারুক হোসেন সহ অন্যান্য কৃষকরা বলেন আবার ফিরে যেতে চাই পূর্বের কৃষিতে। যেখানে থাকবেনা কলের লাঙল, থাকবে গরু দিয়ে ধান চাষ, যেখানে থাকবেনা কীটনাশকের ব্যবহার। ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে থাকবে নিম পাতা, মেহগনি ফলের রস, ছাই সহ অন্যান্য জৈব প্রযুক্তির ব্যবহার । কৃষক স্কুলে
অংশগ্রহণকারী কীটনাশক বিক্রেতা মাসুম বিল্যা বলেন, নিজে কীটনাশক বিক্রী করলেও বাড়ীর ফসলের ক্ষেতে জৈব প্রযুক্তি ব্যবহার ।

এ সকল স্কুলে সকল বয়সের স্কুল শিক্ষার্থীবৃন্দ অংশ গ্রহণ করে তাদের ছোট ছোট অভিজ্ঞতা বিনিময়কালে এক পর্যায়ে বলেন একই তরকারির স্বাদ ভিন্ন ভিন্ন পাই কখনও কখনও। এটির কারণ হিসাবে অভিজ্ঞ কৃষকরা বলেন, জীববৈচিত্র্য নির্ভর কৃষির মাধ্যমে উৎপাদিত ফসলের স্বাদ এক ধরনের ও কীটনাশকের ব্যবহার যুক্ত উৎপাদিত ফসলের স্বাদ এক ধরনের। বিজয়ের মাসে স্কুল শিক্ষার্থীদের এ ধরনের স্কুলে অংশ গ্রহণ বৃদ্ধি করতে শিক্ষার্থীদের জাতীয় পতাকা বা বিজয়ের মাসের স্মৃতি সম্বলিত মাথার ব্যান্ড প্রদান করা হয়। সকল স্কুলের কৃষকরা একমত পোষণ করে বলেন কৃষি ও কৃষকের অধিকার আদায়ে কৃষি সংগঠনের বিকল্প নাই। তাই কৃষকরা নারী ও পুরুষ পৃথক কৃষি সংগঠন তৈরী করার কথা বলেন।

ধূমঘাট, বংশীপুর ও পাতড়াখোলা এলাকায় অনুষ্ঠিত কৃষক স্কুলে কৃষকের সাথে অভিজ্ঞতা বিনিময়কালে সম্মানিত অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপসহকারী কৃষি অফিসার শামীম হোসেন, উপ সহকারী কৃষি অফিসার জাহানার খাতুন ডলি, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অসীম রঞ্জন সাহা, সাংবাদিক ও শিক্ষক রনজিৎ বর্মন, ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন প্রমুখ। সকল স্কুলের অভিজ্ঞতাবিনিময় কর্মশালা পরিচালনা করেন রিইবের গবেষণা সহকারী চৈতন্য কুমার দাস।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর