• E-paper
  • English Version
  • শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন

যেভাবে প্রাবন্ধিক হয়ে উঠেন কামাল আহমেদ 

আজিজুল হক নাসির (চুনারুঘাট) হবিগঞ্জ
  • আপডেটের সময় শনিবার ৮ জানুয়ারী, ২০২২

লেখালেখি শুরু করেন তিনি ছাত্রজীবনেই। স্কুলের দেয়ালিকায় হাতেখড়ি। ছড়া, ছোট গল্প লিখতেন তখন। ১৯৯৪ সালে সিলেটের পত্রিকা যুগভেরিতে প্রথম প্রকাশিত হয় গদ্যে লেখা ‘দিব্য কান্তিতে এসো।’ ১৯৯৫ সালে রাজার বাজারে মঞ্চায়িত হয় তার লেখা প্রথম নাটক ‘অপশক্তির অপনয়ন।’ নাটকটি দর্শকদের কাছে বেশ সাড়া পায়। মঞ্চায়িত হয় একাধিক স্থানে একাধিকবার। 

এরপর লেখাপড়া ও সাংসারিক কারণে দীর্ঘ কয়েক বছর লেখালিখি তেমন একটি হয়নি আর। ১৯৯৪ সালে বৃন্দাবন সরকারি কলেজ থেকে বিএ পাস করেন কামাল আহমেদ। ২০০১ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান । এর কয়েক বছরের মধ্যে কবি সাহিত্যিকদের সঙ্গে উঠা বসার সুবাদে আবারও লেখালেখি শুরু করেন। তখনও গল্প, কবিতা ও ছড়াই লিখতেন। বই পড়ার অভ্যাস ছিল তার বাল্যকাল থেকেই। জন্ম গ্রহণ করেছেন শিক্ষিত ও সম্মানী পরিবারে।তার বাবা মোহাম্মদ মহসিন মিয়া পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন।বাড়ি চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের আশ্রাবপুর গ্রামে। বাড়ির পাশ দিয়েই বয়ে গেছে খোয়াই নদী। 
বিভিন্ন বই পড়ে জেনেছেন বিভিন্ন অঞ্চলের ইতিহাস ঐতিহ্য। কিন্তু ভালো করে জানা হয়নি নিজ উপজেলা চুনারুঘাট সম্পর্কে। 
মনে তাগিদ এলো চুনারুঘাটের ইতিহাস ঐতিহ্য জানবেন এবং সবাই যেন জানতে পারেন তার জন্য কিছু করবেন। তিনি কয়েক বছরে ঘুরে বেড়িয়েছেন চুনারুঘাটের আনাচে-কানাচে। পাহাড়, বাগান, বন-বনানী, নিরবপল্লী, দিঘি, নদী-নালা খুঁজে ফিরেছেন। পরিচিত হয়েছেন- বিচিত্র মাটি ও মানুষের সাথে। চুনারুঘাটের এই বিচিত্র ভূ-প্রকৃতি ও বহুজাতিক মানববসতি তাকে শেকড় খুঁজতে তাড়িয়ে বেরিয়েছে। দেরি না করে লেগে পড়লেন চুনারুঘাটের অতীত জানতে। 

প্রবীণদের কাছে ছুটাছুটি করলেন। 
তাতে সন্তোষজনক তেমন কিছু পেলেন না। ৭০/৮০ বছরের বয়স্করা আর কতদূর পর্যন্ত বলতে পারবেন?  খুঁজতে লাগলেন চুনারুঘাট সম্পর্কে লেখা আছে এমন পুরনো বই। প্রায় ৪০ হাজার টাকার বই সংগ্রহ করলেন তিনি। এর মধ্যে চুনারুঘাট সম্পর্কে দু’এক লাইন লেখা আছে এমন বইও। এতে অতিবাহিত হলো কয়েক বছর। 

লেখালেখির সুবিধার জন্য একখানি কম্পিউটার এখন জরুরী মনে করছেন। 

দীর্ঘ দিনের গবেষণায় পেয়ে গেলেন চুনারুঘাটের সাড়ে সাতশো বছরের পুরনো ইতিহাস; এমনকি কয়েক হাজার বছরের আগের কথাও। ধারাবাহিক ভাবে পাণ্ডুলিপি সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। 

এর ফাঁকে প্রকাশিত হলো তার লেখা কাব্য গ্রন্থ ‘আবর্তিত ছায়াবৃত্ত’ ও ‘প্রহসনে প্রণয়দুর্গ’, শিশুগল্প-‘আমাদের গল্পকথা’। 

দেশের শীর্ষ স্থানীয় পত্রিকা গুলোতে প্রকাশিত হলো তার লেখা- সিলেটে কবি নজরুল ও মুসলিম নারী শক্তির বিষ্ময়কর উত্থান, নজরুল শৈশব এক গন্তব্যহীন অভিযাত্রা, কুমিল্লায় নজরুল, রবীন্দ্রনাথের শিশু ভাবনা, বাংলা ভাষা বিশ্বায়নের নেপথ্যে, হবিগঞ্জে বঙ্গবন্ধু, পাহাড়ি উপজাতি জনপদে বাংলা চৈত্র বৈশাখ মাস, শ্রেষ্ঠ বাঙালী ও একটি যৌক্তিক আলোচনা, বাংলা নববর্ষ হাজার বছরের বাঙালীর ঐতিহ্য, শেকড়ের সন্ধানে: চুনারুঘাটের মাটি ও মানুষের কথা প্রভৃতি অসংখ্য প্রবন্ধ-নিবন্ধ।

ঐতিহ্য সন্ধানী লোকজ গবেষক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান, মরমী সাধক ও পুথি সাহিত্যিক শাহ শামসুদ্দিন আখঞ্জি। লিখেছেন, কবি আব্দুল মোছাব্বির ইবনে হাবীব, আবুল বশীর বাঙাল, দীনেশ রঞ্জন নাথ, সাংবাদিক এডভোকেট আমির হোসেন, বুয়েটের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ এম এ রশিদ, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার সিআর দত্ত, পীর মুজিবুর রহমান জলফু মিয়া, বীর বিক্রম শহীদ আঃ খালেক সহ অনেক গুনীজনদের নিয়ে প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। 

এভাবে জাতীয় দৈনিক সমূহের উপ সম্পাদকীয় ও সাহিত্য পাতায় বিগত কয়েক বছরে নিয়মিত লেখালেখির সূত্র ধরেই তিনি একজন প্রাবন্ধিক হিসাবে পরিচিতি পেয়েছেন ইতিমধ্যেই। 

কিন্তু তার মূল  উদ্দেশ্য তো ভিন্ন। 
তিনি চুনারুঘাটের ইতিহাস ও ঐতিহ্য লিপিবদ্ধ করবেন। 
এত প্রবন্ধ লিখার মাঝেও থামেনি তাঁর চুনারুঘাটের ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে ভাবনা। 
ইতিমধ্যেই বহুলাংশ সাজিয়ে ফেলেছেন তিন ভাগে বিভক্ত এক বিশাল পাণ্ডুলিপি। 
যার প্রথমাংশে রয়েছে ‘তরফ ও চুনারুঘাটের ইতিহাস’ দ্বিতীয়াংশে রয়েছে ‘চুনারুঘাটে মুক্তিযুদ্ধ’ শেষাংশে রয়েছে- ’তরফ ও চুনারুঘাটের সাড়ে সাতশ বছরের কীর্তিমান’। এ কাজগুলো প্রায় চুড়ান্তের পথে। তবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আরো গবেষণা ও খোঁজাখুজির বাকি আছে। বর্তমানে তিনি চুনারুঘাটের আড়ংবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর