• E-paper
  • English Version
  • শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ০২:৪০ পূর্বাহ্ন

কবিতা:- নির্দোষ সুখ || ফারহানা মুক্তি 

লেখক, কবি
  • আপডেটের সময় রবিবার ৯ জানুয়ারী, ২০২২

 

চেনা না-হয়তো চেনা,

প্রতিচ্ছবি দেখেছি-দেখিনি কো তার।

 

কথা হয় বলাবলি – মুখোমুখি নয়- নয় চোখাচোখি!

         হৃদয়ে হৃদয়ে শুধু লেখালেখি। 

উপভুক্ত কোনো স্হানে বেহিসাবী কোনো ক্ষণে, 

 কথা এসে ছুঁয়ে যায় হৃদয় – এপার থেকে ওপারে।

জানিতে চাহিলো ওপার সেদিন—

চলছে কেমন কালাতিক্রমণ?

এপার কহিলো আমার মতো না যদিও সে আমার—

তার বিরামহীন ভ্রমণ। 

আতকিয়া উঠিয়া পাতিয়া বসিলো আবদার—

একটা কবিতা লিখে দিবে নির্গত ধ্বণিতে ভাসাইয়া তুলিলো ওপার।

লিখে যদি দাও হৃদয় দফতরে গুটিকত মুদ্রাক্ষর,

যা চাও তাই দিবো সাধ্যের ভিতর। 

তাই শুনে এপার হেসে খায় গড়াগড়ি, 

পেট ভরার স্বনে ওপারের কন্ঠ হলো ভারি।

হাসিলেই আমি যে  লিখিতে পারি, 

এই কয়ে ঐ দিন এপার হয়ে গেলো কবি। 

বলিতে বলিতে কথা হয় নাকি গভীর সম্পর্ক! 

সম্পর্ক না হলে কথাগুলি কেবলই অস্পষ্ট। 

পাশ ঘেঁষে বসে হৃদয়ঙ্গম করে বর্ণ হয় কথা, 

আকার একারের সুবাদে আসে অবর্ণনীয় আবেগময়তা।

ভালোই যদি বাসিয়া চাহিলে কবিতা —

হাসিতে সায় না করে ব্যথায় কেনো ভরালে হৃদয়ের পাতা?

তুমিতো জানো না কবিদের  কাঁদিতে কতো ভয়!

চোখের জলে কাগজ ভিজে যদি লেখা মুছে যায়!

অথৈ সাগরে তলিয়ে কবিতা মর্মান্তিক মরণে হারায়।

তুমি কি বোঝো না?

কবির ভাবনায় কবিতার জন্ম হয় -মৃত্যু নয়।

 

একাকিত্বের ভারে পীড়িত ছন্নছাড়া বর্ণমালার অভাবী সংসার –

কিছুটা হলেও পাবে আক্ষরিক অর্থের যোগান। 

ছন্দোবর্জিত ধ্বণি পাবে ছন্দোবদ্ধ নাচঘর—

এর থেকে খুশি কিসে  কবির হতে পারে আর?

এই নাও লিখে দিলাম নামটি তোমার —

খুশিতো এবার?

সাধ্য অসাধ্য পড়ে থাক তোমার, 

আমারই তো সাধ্য নেই কিছু চাওয়ার। 

দিলাম কবিতা যেমন ঋণীও হলাম আবার, 

তবু মনে রেখো আমি কিন্তু পাওনাদার। 

চাওয়ার নিরসনে যা করেছো অর্পণ—

তা দিয়ে করেছি লেখা আকণ্ঠ ভোজন।

কিছুই চাই না আমার –

পূর্ণ করিলাম আজ চাওয়া যে তোমার।

 

বিজ্ঞাপন


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর