• E-paper
  • English Version
  • শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ০১:৪২ পূর্বাহ্ন

প্রত্যাশা প্রাপ্তির ব্যবধান, দলীয় নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন দূর্নীতিবাজদের মনোনয়নই আওয়ামী দূর্গে পতন !

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময় রবিবার ৯ জানুয়ারী, ২০২২

আওয়ামীলীগের দূর্গ বলে খ্যাত জাতীয় নির্বাচনে হবিগঞ্জের নির্বাচনী আসন ৪। মাধবপুর-চুনারুঘাট উপজেলা নিয়ে এই আসন। ভারতীয় সীমান্ত ঘেষা দুটি উপজেলা জেলার মধ্যে সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার পূর্বাপর দুটি উপজেলা ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত।

মহান মুক্তিযুদ্ধে চুনারুঘাট-মাধবপুর উপজেলার রয়েছে বীরগাথা ঐতিহ্য। এ উপজেলা দুটি বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের দূর্গ বলে খ্যাতি রয়েছে। কিন্তু দলীয় প্রতিকে এবারের তৃনমূল পর্যায়ের ইউনিয়নের এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের এই ভরাডুবি কেন তা অনেককেই ভাবিয়ে তুলছে।

শব্দকথা ২৪.কম এর পর্যালোচনায় আংশিকভাবে এর বর্ণনায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে এর পেছনের কিছু উল্লেখযোগ্য কারন।

যে সমস্ত ইউনিয়নে বিগত নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান বিজয়ী হয়েছিলেন তাদের অনেকই শেষ পর্যন্ত দলীয় আর্দশ বা নেতাকর্মীদের বেমালুম ভুলে গিয়েছিলেন। নিজের আখের ঘোচানোই শুধু নয়, বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছিলেন। মাদক, চোরাই গরুর ব্যবসা, নারী কেলেংকারী সহ চোরাচালানের মত ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় কোন কোন জনপ্রতিনিধিদের জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সাধারন মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। মহামারী করোনাকালীন সময়ে সরকারের প্রনোদনা নিয়ে ধান্ধাবাজীর ঘটনা।

জন্মনিবন্ধন করতে যেয়েও নানারকম বিপর্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। জন্ম নিবন্ধন করতে হাজার হাজার টাকা দাবী করা হয়েছে। বিচারশালিস নিয়ে করা হয়েছে নানা বাহানা, গ্রামের তুচ্ছ ঘটনা স্থানীয়ভাবে নিষ্পতি না করে কোর্টে বা পুলিশের কাছে পাঠিয়ে দেয়া। এলাকার দুষ্টুলোকদের পৃষ্টপোষকতা বা অগ্রাধিকার দেয়া, টাউট বাটপারদের আশ্রয় প্রশয় দেয়া, সাধারন মানুষের সমস্যা নিরসন না করে জিইয়ে রেখে ফায়দা হাসিল, অর্থকড়ি হাতিয়ে ন্যায় কে অন্যায় পথে ধাবিত করা। দলীয় পদপদবী নিয়ে পক্ষপাতমূলক আচরন, অন্য দলের লোককে গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়ে সুবিধা আদায় সহ নানা অনিয়ম দূর্নীতির কারনে ক্ষুব্ধ মানুষ আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।

যে কারনে হবিগঞ্জের মাধবপুর-চুনারুঘাটে আওয়ামীলীগের বিপর্যয় ঘটেছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।

এ ব্যাপারে চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. আকবর হোসেন জিতু বলেন, প্রার্থী নির্বাচনে আমরা কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেই নাই। বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নৌকার ভোট ভাগাভাগি হয়ে এই পরাজয়। জাতীয় নির্বাচনে এর কোনো প্রভাব পরবে না।

উপরন্তো দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যাক্তিদের পাশ কাটিয়ে অযোগ্য, জনসম্পৃক্ততাহীন এমন লোক কে মনোনয়ন দেয়াও একটি ফ্যাক্টর হয়ে দেখা দেয়। স্বজনপ্রীতি-অর্থবানিজ্য যেখানে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে, সেখানে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ক্ষোভ চরমভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

যে কারনে মাধবপুর-চুনারুঘাট উপজেলার ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের ভরাডুবির অন্যতম কারন বলে এখন সর্বত্র আলোচনা চলছে। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এর প্রভাব প্রতিফলিত হওয়া অস্বাভাবিক নয় বলে সাধারন মানুষের মাঝে আলোচনায় উঠে আসছে।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর