• E-paper
  • English Version
  • শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ০২:৪১ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশ জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান এ এস এম আলী কবির আর নেই

সঞ্জয় দাস, ঢাকা
  • আপডেটের সময় বুধবার ১২ জানুয়ারী, ২০২২

বাংলাদেশ জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ও এ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ এস এম আলী কবির আর নেই। তিনি গত ১০ জানুয়ারি সোমবার রাত পৌনে ১২টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহী রাজেউন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। এক মাস ১০ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আলী কবির স্ত্রী, দুই মেয়ে, নাতিনাতনীসহ অসংখ্য আত্মীয়—স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার নামাজে জানাজা চার বার অনুষ্ঠিত হয়েছে মঙ্গলবার, রমনার ইস্কাটন গার্ডেনের সচিব কোয়ার্টার, গুলিস্তানের মাওলনা ভাসানী হকি ষ্টেডিয়াম, সচিবালয় মসজিদ প্রাঙ্গণ এবং ধানমন্ডি বাইতুল আমান জামে মসজিদে জানাজা শেষে তাঁকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে তাকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নৌ—পরিবহন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চোধুরী, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, দক্ষিণ সিটি কপোর্রেশনের মেয়র, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বাংলাদেশ এ্যাথলেটিকস ফেডারেশন, বাংলাদেশ উশু ফেডারেশন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, বাংলাদেশ অলিম্পিক এ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লি টিএ, বিআই ডব্লিউটিসি, বাংলাদেশ এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ, ৪৮ নদী সমীক্ষা প্রকল্পসহ বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। তার মৃত্যুতে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, নদী সমীক্ষা প্রকল্প ও জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে নেমেছে শোকের ছায়া।

আলী কবিরের পিতৃ নিবাস বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলাতে। তিনি ১৯৫২ সালের ২৩ আগস্ট তার জন্ম হয়েছে পিতার কর্মস্থল ময়মনসিংহ জেলার উত্তর সীমান্ত গারো পাহাড়ের পাদদেশ হালুয়াঘাট। তার স্কুলজীবনের সূত্রপাত মুক্তাগাছা রামকিশোর উচ্চ বিদ্যালয়। স্কুলজীবনের সিংহভাগ কেটেছে ময়মনসিংহ জেলা স্কুলে ১৯৬৭ সালে এইচএসসি পাশ করার পর ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও এমএ ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয় হতে। প্রথমে চাকরি জীবন শুরু করেন মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে প্রভাষক হিসেবে। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সবোর্শেষ সিভিল সার্ভিসে সুদীর্ঘ চাকরি করেন। সরকারের সচিব হিসাবে ২০১১ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি স্কুলজীবন থেকেই লেখালেখি শুরু করেছিলেন। প্রধানত কবি হলেও ছোটগল্প ও প্রবন্ধ রচনায় এবং অনুবাদ সাহিত্যে স্বচ্ছন্দ ছিলেন। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী। তিনি ঢাকা কলেজে ছাত্র থাকা অবস্থায় লিখেছিলেন “উনসত্তরের ডায়েরি” এবং বঙ্গ বন্ধুকে নিয়ে লিখেছেন “বাংলা মায়ের খোকা”। যেখানে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সাথে কিছু ঘটনা উঠে এসেছে। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তার মামা হতেন। তিনি ও বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ কামাল সহপাঠি ছিলেন। ঢাকা কলেজে থাকা অবস্থায় তার মুখ থেকেই প্রথমে জয় বাংলা স্লোগান উঠে আসে।

পেশাগত জীবনে তিনি পূর্ণ সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সচিব থাকা অবস্থায় দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ২০১৬ সালে ক্রীড়াঙ্গনে অবদানের জন্য ক্রীড়া ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সবোর্চ্চ পদক জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি গত এক দশকের বেশি সময় ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এবং সবোর্শেষ ২০২১ সাল থেকে নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর