• E-paper
  • English Version
  • শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন

মানুষ জাগলে পরিবেশ বিধ্বংসী অপতৎপরতা বন্ধ হতে বাধ্য : ডাঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেটের সময় বৃহস্পতিবার ১৩ জানুয়ারী, ২০২২

বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট নেটওয়ার্ক-বেন-এর সহ-সভাপতি ডাঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, হবিগঞ্জের প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষায় আমাদের এখনই সংঘবদ্ধ হতে হবে। যেসব শিল্প-কারখানার মাধ্যমে এখানে পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, ওইসব কোম্পানির পরিবেশ বিধ্বংসী ভূমিকার কথা বিদেশের মিডিয়ায় তুলে ধরুন। বলুন যে, আপনারা আমাদের যে কোম্পানিগুলোকে চেনেন, তাদের প্রকৃত চেহারা কিন্তু এই। এর সাথে সাথে সাধারণ মানুষকে জাগিয়ে তুলুন। মানুষ জাগলে পরিবেশ বিধ্বংসী সকল অপতৎপরতা বন্ধ হতে বাধ্য।
১২ জানুয়ারি (বুধবার) হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার আয়োজিত “শিল্পদূষণে বিপন্ন হবিগঞ্জের প্রাণ ও প্রকৃতি” শীর্ষক মতবিনময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাপা জেলা শাখার সহ-সভাপতি ও হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এডভোকেট মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সম্মানিত অতিথি ছিলেন কর্নেল এম এ সালাম বীরপ্রতীক, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাপা সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম কিম।
মূল বক্তব্য রাখেন বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল।
আলোচনায় অংশ নেন সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, বিশিষ্ট সাহিত্যিক অধ্যাপক জাহান আরা খাতুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন, প্রতীক থিয়েটারের সভাপতি ডাঃ সুনীল বিশ^াস, মাধবপুর অঞ্চলের পরিবেশ আন্দোলন সংগঠক আবদুল কাইয়ুম, সাংবাদিক শাহাবুদ্দিন শুভ, কাউসার আহমেদ রুমেল প্রমুখ। সভার শুরুতে “শিল্পদূষণে বিপন্ন হবিগঞ্জের প্রাণ ও প্রকৃতি” বিষয়ক মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বাপা হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক, খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল।

সম্মানিত অতিথি কর্নেল এম এ সালাম বীরপ্রতীক বলেন, আমার কাছে যে খবর আছে, তা থেকে জানি, আগামী কয়েক বছরে হবিগঞ্জে আরও প্রায় ২শ’ কোম্পানি আসছে। তারা যে বিনিয়োগ ও আয়োজন নিয়ে আসছে, সেটাকে ঠেকানো সম্ভব হবে না। সেটা আমরা চাইও না। আমরা চাই শিল্পায়ন হোক, তবে তা হতে হবে আন্তর্জাতিক মানের ও পরিবেশ দূষিত হয় না এমন শিল্পায়ন। প্রয়োজনে শিল্পমন্ত্রীকে এখানে নিয়ে আসুন, এনে এখানে দূষণের চিত্রটা দেখিয়ে দিন।

শরীফ জামিল তার বক্তব্যে বলেন, এখানে যখন থেকে শিল্পায়ন শুরু হল, তখন থেকেই আমার মন কাঁদছে। কারণ আমি বুড়িগঙ্গার দূষণ দেখেছি, আমি নরসিংদীর দূষণ দেখেছি। তখনই বুঝেছি এখানে এক সময় মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে। সেই ২০১২ সাল থেকে আমরা এ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। এক্তিয়ারপুর খালে ‘মার’ কোম্পানির দূষণের প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছিল। হবিগঞ্জের শিল্পবর্জ্য দূষণ রোধের আন্দোলনে আবারও জনতাকে সাথে নিয়ে রাস্তায় নামতে হবে।

তোফাজ্জল সোহেল তার প্রেজেন্টেশনে হবিগঞ্জের শিল্প এলাকায় বর্জ্য-দূষণের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ আহমদ খান, এডভোকেট বিজন বিহারী দাস, এটিএন বাংলা’র জেলা প্রতিনিধি আব্দুল হালীম, বাপা জেলা সদস্য আসমা খানম হ্যাপী, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাসুদ আলী ফরহাদ, বাপা জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী হারুন,শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মঈন উদ্দিন সাঁকো, ডাঃ আলী আহসান চৌধুরী পিন্টু, ডা; জিয়া উদ্দিন, এডভোকেট শায়লা খান, আফরোজা সিদ্দিকী, রওশন আরা লুনা, আমিনুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান তাসকিয়া তাবাসসুম বৃষ্টি, নূরুন্নাহার উর্মি ও তাসিন বিলওয়াল আরিয়ান।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর