মনকে যারা নিয়ন্ত্রণ করতে জানে না, তারাই কেবল আত্মহত্যা করে

সাজ্জাদ চিহ্ন
  • আপডেটের সময় রবিবার ২৩ জানুয়ারী, ২০২২

মনকে যারা নিয়ন্ত্রণ করতে জানে না, তারাই কেবল আত্মহত্যা করে। মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।

মন যখন যা চাইবে তাই করা যাবে না। আপনার মন চাইলো একটা বাইক কিনবেন, আপনার পরিবার তা দিতে পারলো না তাই বলে আত্মহত্যা করতে পারেন না। আপনার পরিবারের সামর্থ্য ও সমর্থনের কথা ভাবতে হবে। কোনো সুন্দরি মেয়েকে পছন্দ হলো আর তাকে বিয়ে করার জন্য পাগল হয়ে গেলেন তা ঠিক না, তার পরিবারের কথা ভাবতে হবে, তার ইচ্ছে অনিচ্ছের কথা ভাবতে হবে। ডিমান্ডিং জিনিসটা বুঝতে হবে। আপনি আপনার চেয়ে একজন উচুঁ সম্ভ্রান্তের মেয়েকে পছন্দ করলেন। তাকে নাও পেতে পারেন তাই বলে কি আত্মহত্যা করতে হবে? আপনিও ডিমান্ডেন্ট পারসন।আপনিও দেখবেন রোজ কত কত নিম্নশ্রেণীর,জাতের বা আপনার চেয়ে একটু বিশ্রী, আপনাকে পছন্দ করে এরকম অনেককেই এড়িয়ে যাচ্ছেন।

শুধু অন্যকে পাবার জন্য পাগল হযে যাবেন না।অন্যরা কি আপনাকে পেল, কেন পেল না ভাববেন।

পরিবারেও এইসব বিষয় শৈশব থেকেই শিশুদের বুঝিয়ে দিতে হয়।তাকে এরকম কোনো বিষয় কেন মাথায় ঢুকিয়ে দেবেন যে, তাকে স্ট্যান্ড করতে হবে, এ বিষয়ে পড়তে হবে, এ প্লাস পেতে হবে, এমন মেয়েকে/ছেলেকে বিয়ে করতে হবে।তোমার দ্বারা এসব হবে না, সম্ভব না। এসব সুশিক্ষা না। তাকে তার মতো বেড়ে ওঠতে দিন। তাকে তার মনের বিরুদ্ধে ঠেলে দিলে তাকে অজান্তে আত্মহত্যার দিকেই ঠেলে দেবেন।

আর কোনো কিছুতে এতো জেদ দেখাবেন না, কিংবা অহং দেখাবেন না। আপনাকে রাস্তায় একটা ছেলে শিস দিলো বিনিময়ে আপনি তাকে জুতো দেখাবেন না। যতদূর সম্ভব তাকে এড়িয়ে যাবেন। আবার তাই বলে তাকে ট্রেট দিতে যাবেন না এমন জেদ কিংবা অহংও একজন মানুষকে বড় কোনো বিপদের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বা পারেন।

যখন যাকে ইচ্ছে ভালোবেসে পেলতে পারেন না, হ্যা আন্তরিক ভালোবাসাটা সবার সঙ্গেই রাখার চেষ্টা করবেন, আর সেক্সোয়ালি লাভ করতে গেলে তাকে ফাঁসাতে যাবেন, নতুবা নিজেই ফাঁসবেন।মনে রাখবেন পাপ করে যে ভয় ভার সইতে হয়, পাপের অনুশোচনা বহন করে আরও বিশাল বেদনা সইতে হয়। যাকে ভালোবাসবেন তাকে ভালোবাসতেই হবে। নতুবা তার সময়ের মূল্য দিতে হবে, তার মূল্য দিতে হবে। কেন তাকে ভালোবাসলেন।

আর কেউ ভালোবাসার জন্য প্রপোজ করলেই, ভালোবাসার জন্য মরিয়া হয়ে উঠবেন না। বুঝতে চেষ্টা করবেন তার উদ্দেশ্য কি? তারপর ভালোবাসুন।

আত্মহত্যা, উচ্চাশা, সমাজের নিম্নশ্রেণীর পেশার মানুষেকে ছোট মনে করা, মেয়েদের খারাপ ভাবা। এইসব অসুস্থ মানসিকতা পরিহার করুন। ব্যক্তিত্বের উজ্জ্বলতা বাড়ান, সুব্যক্তিত্বের ধার ধরুন। অব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষকে সুস্থ মানসিকতা বিকাশে সহায়তা করুন। বিপদে আপদে, ডিপ্রেশনে, কিংবা অন্যায়কারীই হোক, মানুষ হিসেবে তাকে সঙ্গ দিন, তার মূল্যায়ন করুন।

পাওয়াই যদি আপনার টার্গেট, তাহলে পাওয়ার জন্য ধৈর্য ধরুন। কার কাছে পেতে চান? সরকারের কাছে? পরিবারের কাছে? বন্ধুর কাছে? চাকরি, ভালোবাসা, সম্পদ। তাহলে আগে তাদের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করুন, তাদেরকে সময় দিন, তার গুণকীর্তন করুন, অবশ্যই পাবেন। না পেলেও ধৈর্য ধরুন। তাড়াহুড়ো করবেন না। ধৈর্যের ফল মিষ্টি হয় এবং সেটা স্বয়ং ইশ্বর ই দেবেন।

উন্নত দেশগুলিতেও দিন দিন আত্মহত্যা ভয়ংকরভাবে বাড়তেছে, এটা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য খুবই বিপদজনক। অধিকাংশ বিষয় নারীঘটিত, পারিবারিক ও সাংসারিক , কিংবা বেশি মদ্যপান ও কাজের অতিরিক্ত মানসিক চাপ। উন্নত দেশগুলি অফিসে প্রবেশের সময় রীতিমত চেক করে নেয়া হয় কতটা এলকোহল গ্রহন করেছে। এ সবই মনকে নিয়ন্ত্রণ না করারই দরুন ঘটতেছে।

তাই মনকে নিয়ন্ত্রণ করুন, মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে না জানলে আপনি লোভী হয়ে উঠবেন, খুনি হয়ে উঠবেন। খাতক হয়ে উঠবেন। নিজেই নিজের সকল অশান্তির কারন হয়ে উঠতে পারেন।মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আপনি শিক্ষক, ডাক্তার, বিজ্ঞানী, জ্ঞানী হলেও কোনো লাভ হবে না। আপনি সমাজকে অসুস্থ করে ছাড়বেন। কাজেই মনকে নিয়ন্ত্রণ করুন।

লেখকঃ- কবি ও কলামিস্ট


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর