• E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৯:৪২ অপরাহ্ন

জি কে গউছ সহ বিএনপির ৪০ নেতাকর্মী কারাগারে

মিজবাউজ্জামান রিপন, হবিগঞ্জ
  • আপডেটের সময় মঙ্গলবার ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

পুলিশ এসল্ট মামলায় হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র জিকে গউছসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের ৪০ নেতাকর্মীর জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলাবার তারা দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে দায়রা জজ এম এল বি মিজবাহ উদ্দিন আহমেদ তাদের আবেদন নাকচ করেন।
অন্যান্য যারা জামিন পাননি তারা হলেন- তুষার আহমেদ, আব্দুল আহাদ কাজল, সুমন মিয়া, তোফায়েল আহমেদ রাসেল, নজরুল ইসলাম নাঈম, মহিবুল ইসলাম শাহিন, জালাল আহমেদ, নাজমুল হক অনি, হাফিজুল ইসলাম, মাহবুবুল হক হেলাল, শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন, গোলাম মাহবুব, টিপু আহমেদ, শফিকুল ইসলাম সেতু, মোতাব্বির মিয়া, মো. সুজন, আবু সুফিয়ান পারভেজ, বকুল মিয়া, শাহেদ আলী, আবুল হাসেম, এনামুল হক সেলিম, রুবেল আহমেদ চৌধরী, সাইদুর রহমান, আমিনুল ইসলাম ফয়সল, এমদাদুল হক ইমরান, আতাউর রহমান লিচন, শফিকুল ইসলাম রুহেল, হেলাল আহমেদ বাবু, রায়েস চৌধুরী, এম জি মোহিত, জহিরুল হক শরীফ, মোর্শেদ আলম সাজন, অলিউর মিয়া, সৈয়দ মুশফিক, পারভেজ আহমেদ, মারুফ মিয়া, মো. শাহনেওয়াজ আবিদুর রহমান রাকিব, আবদুল আহাদ তুষার।

উল্লেখ্য, গত ২২ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসা করানোর দাবিতে হবিগঞ্জে আয়োজিত সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপির সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় দুই হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।
এ সময় কয়েকজন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক আহত হন। মামলায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হাশেম ও সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক জি কে গউছসহ ৬৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। হবিগঞ্জ সদর থানার এসআই নাজমুল হাসান বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

মামলায় সরকারি কর্তব্য কাজে বাধা, ইট-পাটকেল ও দেশি অস্ত্র ব্যবহার করে পুলিশকে আহত করা, পৌরসভা ও জেলা পরিষদ ভবনের দরজা-জানালার কাচ ভাংচুর, পুলিশের দুটি গাড়ি ভাংচুর, শহরের প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, জিকে গউছের বসার সামনে বিনা অনুমতিতে রাস্তা বন্ধ করে মঞ্চ তৈরির অভিযোগ আনা হয়।  
সমাবেশকে কেন্দ্র করে ওইদিন সকাল থেকে পুলিশ শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় জি কে গউছের বাসার সামনের রাস্তা বন্ধ করে দেয়।
সমাবেশের জন্য মঞ্চ তৈরি করতে দেয়নি পুলিশ। দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সমাবেশ স্থলে যাওয়ার চেষ্টা নিয়ে শুরু হয় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া।

একপর্যায়ে শুরু হয় সংঘর্ষ। উভয় পক্ষ একে অপরের উদ্দেশ্যে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ প্রায় ১৩শ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ও শটগানের গুলি ছুড়ে। এ সময় পুলিশসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ৫০ নেতাকর্মী আহত হন।
সমাবেশে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশারফ হোসেন, সাবেক চিফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুক, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার সিপা, যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নিরব, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ। ঘটনার সময় ৮ জন গ্রেপ্তার হন।
এদিকে মামলার গ্রেপ্তার এড়াতে গত ৫ জানুয়ারি ৪০ জন নেতাকর্মী হাইকোর্টে জামিনের প্রার্থনা করেন। হাইকোর্ট তাদেরকে ৪ সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করে নির্ধারিত সময়ে হবিগঞ্জ দায়রা আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। সে নির্দেশ অনুযায়ী মঙ্গলবার ৪০ জন হাজির হয়ে জামিন চান। তাদের জামিনের বিরোধিতা করেন পিপি সিরাজুল হক চৌধুরী।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর