ঐতিহ্যবাহী আদিনাথ মেলায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়, প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা

সুব্রত আপন, মহেশখালী
  • আপডেটের সময় বৃহস্পতিবার ৩ মার্চ, ২০২২

বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী উপজেলার সিন্ধু নদীর তীরে মৈনাক পর্বতের চূড়ায় আদিনাথ মন্দির অবস্থিত। এখানে রয়েছে শ্রী শ্রী মহাদেবের এক অলৌকিক শিবলিঙ্গ, এর পাশাপাশি আছে নেপাল থেকে আনা শ্রীশ্রী অষ্টভূজার (দুর্গামূর্তি) শ্বেতপাথর’র মূর্তি। পাহাড়ের উপর দৃশ্যমান জোড়া পুকুর, এছাড়া আরও রয়েছে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য, যা একজন দর্শনার্থী ও ভ্রমণ প্রিয় মানুষকে দিতে পারে খুশির এক বিনোদন। প্রতিবছর ফাল্গুন মাসে বসে চতুর্দশী মেলা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৫ ফাল্গুন শুরু হয়েছে ঐতিহাসিক শিব চতুর্দশী পূজা ও আদিনাথ মেলা। মৈনাক পাহাড়ের ইতিমধ্যে দূরদূরান্ত হতে এসেছেন হাজার হাজার দর্শনার্থীরা।

হিন্দু সম্প্রদায় ছাড়াও এ মিলনমেলায় সামিল হয়েছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নর-নারীরা। পূজারী আর পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে আদিনাথের মৈনাক পাহাড়ের চূড়া। আর বঙ্গোপসাগরের কূল ঘেষে গড়ে উঠা এ পাহাড়ের চূড়ায় লাখো নর-নারীদের মিলন মেলা।

করোনা মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে এবার মানুষের মিলনমেলায় যেন মুখরিত হয়েছে আদিনাথ মেলা প্রান্তর। ‌মেলায় দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায় ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। সাতকানিয়া থেকে আসা এক কসমেটিকস দোকানদার ফরিদ আলমকে বেচাকেনা কেমন জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, প্রথম দিনে বেচাকেনা কম হলে এখন কাস্টমারদের সংখ্যা বেড়েছে। এমনভাবে মেলায় কাস্টমারের আনাগোনা থাকলে তারা মোটামুটি সুবিধা করতে পারবেন। মেলায় জিলাপির দোকানগুলোতেও কাস্টমারের উপস্থিতি দেখার মতোই। সাধারণ মানুষ মেলায় গিয়ে গরম গরম জিলিপি খাইনি এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। তাই মেলায় জিলিপি খাওয়া যেন ট্রেডিশনাল সিস্টেম। ‌ ‌

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সাইফুল ইসলাম এর সাথে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে পর্যাপ্ত মাক্স ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে জনসাধারণকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাই নিকট আইন-শৃংখলার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আদিনাথ দর্শনে আসা হাজার হাজার নর-নারীদের নিরাপত্তা ও মেলাকে সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে থানা প্রশাসনের পক্ষ হতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃংখলার ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি প্রায় দুইশো জন নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক থাকবে বলেও জানান তিনি।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর