মাহবুবুর রব সাদী চৌধুরী, চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন জাতির হৃদয়ে

মিলন রশীদ
  • আপডেটের সময় সোমবার ১৪ মার্চ, ২০২২

মহান ভাষা ও স্বাধিকার আন্দোলন, আর মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে আমরা আজ স্বাধীন জাতি। স্বাধীন দেশের নাগরিক। বিশ্ব দরবারে আমরা বাঙালি, বাংলা আমাদের ভাষা। এ সাফল্য ও সফলতায় যাঁদের মেধা, শ্রম আর জীবন বাজি রেখে দিয়ে গেছেন, তারা হবিগঞ্জের মাটির-ই গর্বিত সন্তান। তাঁরা আজ নেই। রেখেগেছেন আমাদের জন্য গৌরবগাঁথা ইতিহাস। সেই অকুতোভয় আমাদের গুরুজনদের আমরা যেন ভুলে না যাই। তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অগ্নিঝরা মার্চে তাঁদের স্মৃতিচারণ করতেই আমাদের এই আয়োজন।

৭ম পর্ব:- মাহবুবুর রব সাদী চৌধুরী, উপ-সাব সেক্টর কমান্ডার, ৪ সেক্টর, জালালপুর।

হবিগঞ্জের ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধিকার আদায়ে মরনপণ যারা অবদান রেখেগেছেন তাঁদের মধ্যে কমান্ডডেন্ট মানিক চৌধুরী, এ্যাডভোকেট মোস্তফা আলী, এ্যাডভোকেট সৈয়দ আফরোজ বখ্ত, এ্যাডভোকেট চৌধুরী আব্দুল হাই। তাঁদের সময়ের এবং পরবর্তীতে জনমানুষের মধ্যে অতি পরিচিত নাম, সেক্ষেত্রে মাহবুবুর রব সাদী চৌধুরী ও এক অনন্য আলোচিত প্রিয়মুখ।

সকলের প্রিয়, শ্রদ্ধাভাজন সাদী ভাই। হবিগঞ্জ থেকে রাজধানী পর্যন্ত একই নামে যার সুপরিচিতি, তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অম্লান, অমলিন হয়ে হবিগঞ্জ বাসীর হৃদয়ে স্বরণীয় হয়ে থাকবে।

একজন গর্বিত বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন রাজনীতিবিদ। স্বাধীনতা যুদ্ধে অসীম সাহকিতার জন্য বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত হয়ে ছিলেন।এমন একজন ত্যাগী মানুষের অবদান চিরদিন উজ্জীবিত থাকবে এমন প্রত্যাশা আমাদের। 

মাহবুবুর রব সাদী চৌধুরী ১০ মে ১৯৪৫ সালে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বনগাও গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা দেওয়ান মুহাম্মদ মামুন চৌধুরী, মাতা সৈয়দা জেবুন্নেছা চৌধুরী। 

সাদী স্কুল জীবন থেকেই রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৬১ – ৬২ সালে তিনি চট্রগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্র সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক, ১৯৬৩-৬৪ সালে মৌলভীবাজার কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারন সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৩ সালে মৌলভীবাজার মহকুমার ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। তখন তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ঢাকায় কেন্দ্রীয় সম্মেলনে যোগদেন। ছাত্রাবস্থায়ই  নবীগঞ্জের দিনারপুর কৃষক প্রগতি সংঘ গড়ে তুলেছিলেন তিনি।

১৯৭১ সালে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত মাহবুবুর রব সাদী মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই স্থানীয় ছাত্র যুবকদের সংগঠিত করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। ৪নং সেক্টরে তিনি মেজর চিত্ত রনজন দত্তের অধীনে যুদ্ধ করেন। তাঁর সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকায় তাঁকে ৪নং সেক্টেরের জালালপুরে উপ – সেক্টর কমান্ডার হিসাবে নিযুক্ত করা হয়। তাঁর কমান্ড ও নেতৃত্বে অনেক যুদ্ধে সফলতা অর্জিত হয়। এর মধ্যে কানাইঘাট থানা আক্রমণ ছিল অন্যতম।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি হবিগঞ্জ ১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচন করে নির্বাচিত হয়েছিলেন।  স্বাধীনতার পর সাদী ভাই ব্যবসার পাশাপাশি সক্রীয় রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি জাসদের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক দল জাসদ গঠনে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভুমিকা ছিল। 

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী,  হবিগঞ্জের আপামর মানুষের প্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন মাহবুবুর রব সাদী ভাই ১৬ অক্টোবর ২০১৬ সালে ঢাকায় ইউনাইটেড হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। 

হবিগঞ্জের মানুষ আজো ভুলেনি বীর মুক্তিযোদ্ধার বীরত্ব আর দেশপ্রেম সাধারন মানুষের প্রতি সাদী ভাইয়ের মমত্ব আর অকৃত্রিম ভালবাসার কথা। আমরাও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি জাতীয় এই রাজনীতিক বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদী ভাইকে। 

লেখক; মিলন রশীদ
সম্পাদকীয় উপদেষ্টা
শব্দকথা২৪.কম।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর