ন্যায়ের প্রতিক, সত্যের দিশারী চৌধুরী আঃ হাই দীর্ঘজীবি হউন

মিলন রশীদ
  • আপডেটের সময় মঙ্গলবার ১৫ মার্চ, ২০২২

মহান ভাষা ও স্বাধিকার আন্দোলন, আর মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে আমরা আজ স্বাধীন জাতি। স্বাধীন দেশের নাগরিক। বিশ্ব দরবারে আমরা বাঙালি, বাংলা আমাদের ভাষা। এ সাফল্য ও সফলতায় যাঁদের মেধা, শ্রম আর জীবন বাজি রেখে দিয়ে গেছেন, তারা হবিগঞ্জের মাটির-ই গর্বিত সন্তান। তাঁরা আজ নেই। রেখেগেছেন আমাদের জন্য গৌরবগাঁথা ইতিহাস। সেই অকুতোভয় আমাদের গুরুজনদের আমরা যেন ভুলে না যাই। তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অগ্নিঝরা মার্চে তাঁদের স্মৃতিচারণ করতেই আমাদের এই আয়োজন।

৮ম পর্ব:- চৌধুরী আঃ হাই

দেশপ্রেম, দেশের মানুষের প্রতি মমত্ববোধ ও নিজের দায়িত্ববোধ থেকে মৃত্যুর দ্ধারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানী শাসকচক্রের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে যে, প্রশ্ন করেছিলেন চৌধুরী আব্দুল হাই, তা নজিরবিহীন। এর জন্য তাঁকে শারীরিক, মানসিক চরম খেসারত ভোগ করতে হয়েছিল। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রারম্ভেই এ ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানী হানদারবাহিনী হবিগঞ্জে প্রবেশ করার পরই স্বাধীনতার পক্ষের লোকজনদের বাসাবাড়ীতে লুটপাট সহ যে নারকীয় ঘটনা ঘটিয়েছিল, সার্কিট হাউজে এক সভায় চৌধুরী আব্দুল হাই মহকুমা হাকিমকে প্রশ্ন করেছিলেন, কেন এই ঘটনা ঘটল? 

মৃত্যু ভয় যাকে তাড়িত করেনি, মৃত্যু ভয় তাঁকে সত্যের পথ থেকে একচুলও সরাতে পারেনি,  নির্ভীক, কঠোর মনোভাবাপন্ন সত্যের ধারক সাহসী সন্তান চৌধুরী আব্দুল হাই। ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধিকার আন্দোলন, সাধারন মানুষের অধিকার আদায়ে যিনি জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ও লড়েছেন। বয়সের ভারে এখন আর সেই শক্তি নেই। তবুও এই ন্যায়ের পক্ষে লড়াকু এই ব্যাক্তিত্বের প্রতি হবিগঞ্জের মানুষের শ্রদ্ধা, সম্মান আর ভালবাসা অফুরন্ত। স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরু থেকেই চৌধুরী আব্দুল হাই স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা ছিলেন। 

১৯৩৯ সালে হবিগঞ্জের বহুলা গ্রামে জন্মগ্রহন করেন চৌধুরী আব্দুল হাই। তাঁর পিতা চৌধুরী আব্দুল গনি ও মাতা আছিয়া খাতুন চৌধুরী। বাল্যকাল থেকেই তিনি অত্যন্ত মেধাবী। প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই একের পর এক বৃত্তিলাভ করেছেন। ১৯৫৪ সালে হবিগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বৃত্তিসহ প্রথম বিভাগে মেট্রিক পাশ করেন। ১৯৫৬ সালে প্রথম বিভাগে আই এ পাশ করেন। ১৯৫৮ সালে বি এ পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬২ সালে এল এল বি পাশ করে আইন পেশায় নিজেকে জড়িয়ে নেন। যা আজো এ পেশায়ই বহাল আছেন। এক সময়ে মুন্সেফ পদে চাকুরীর অফার পেয়েও তা প্রত্যাখান করেন।

১৯৬৩ সালে চৌধুরী আব্দুল হাই সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেন। সেই যোগদান কালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) হবিগঞ্জ মহকুমার সাধারন সম্পাদকের পদে অধিষ্টিত হন। পরে ন্যাপ (মোজাফফর) ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত মহকুমা/জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে আওয়ামীলীগ জোট থেকে তিনি হবিগঞ্জ- লাখাই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। 

চৌধুরী আব্দুল হাই একজন ন্যায় বিচারক হিসাবে হবিগঞ্জ জেলায় খ্যাতি আছে। বহুধা গুনের অধিকারী সর্বজন শ্রদ্ধেয় চৌধুরী আব্দুল হাই আমাদের মাঝে আরো বেঁচে থাকুন, সুস্থ থাকুন এই প্রত্যাশাই করছি।

লেখক; মিলন রশীদ
সম্পাদকীয় উপদেষ্টা
শব্দকথা২৪.কম।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর