এবারের বইমেলায় কী পেলাম আর কী দিলাম

পারভীন আকতার
  • আপডেটের সময় বুধবার ১৬ মার্চ, ২০২২

অতিমারি করোনার থাবায় বিশ্বে একেবারেই ম্রিয়মাণ সুখ।যেদিকে তাকাই কেবল হাহাকার দেখছি।অনেক গুণীজন হারালাম করোনার আগ্রাসী ঝাপটায়।দীর্ঘ বিরতির পর করোনা ওমিক্রনের আঘাত কিছুটা সহনীয়, নিম্ন গতির রূপ নেয়ায় সাহস হয়েছে মানুষের মিলনমেলা একুশে বইমেলা- ২০২২ আয়োজন করার।বলছি এবারের চট্টগ্রাম একুশে বইমেলার কথা।
বইমেলার যেদিন পর্দা উঠেছিল সেদিন ছিলাম স্বকর্মস্থলে। ইচ্ছে থাকলেও যাওয়াটা সময়মত দূরহ ছিল।লাজুক লেখক আমি।নিজেকে তৈরি করতে পারেনি বইমেলার একজন লেখক হিসেবে।বারবার ভেবেছি আমি অতি নগন্য মানুষ। আমি শিখতে চাই,দেখতে চাই যাঁরা লিখেন তাঁরা কেমন স্বপ্নলোকের মানুষ!কেমন করে মন মেধা মগজে এত ভাল লিখতে জানেন!আমাকে মানুষের এই সৃষ্টির পরাক্রমতা খুবই অবাক করে।আমি যেন লুকিয়ে লুকিয়ে কেউ না দেখে মত ঠুক করে একটা স্টলে বসে যেতাম।নিজেকে লেখক হিসেবে পরিচয় দিতে খুবই অস্বস্তি ও লজ্জা লাগে।ভীরু ভীরু মন নিয়ে তবুও ঘুরেছি, দেখেছি আর পড়েছি হাজারো বইয়ের পাতা পাঠক হিসেবে। যেই বইটা ভাল লেগেছে কিনতে এক সেকেন্ডও দেরী করিনি।একদিন হলো কী,আমার এমন কিছু বই পছন্দ হয়েছে সব বই কিনে দেখি আমার গাড়ি ভাড়াটাও নেই!বই নিয়ে আমার এমন পাগলামি ভালই লাগে।দেশ বিদেশের লেখকদের প্রচুর বই কিনেছি।স্টলগুলো সারাদিন নানা বইয়ে সাজানো থাকে। বিক্রেতা ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকেন। এদের কষ্ট দেখলে একটি বই নেয়া বড়ই ন্যায়সঙ্গত মনে হয়েছে। নতুন লেখকদের বইগুলো যদি অভিজ্ঞ লেখকরা প্রানখুলে আলোচনায় বসত তবে আরো ভাল হত। অনেককিছুই সরাসরি শেখা যেত।যাকে বলে সাহিত্য গঠনমূলক সমালোচনা।একেকটি স্টলে বহু নতুন লেখকের বই ছিল। অথচ প্রচার প্রসারের অভাবে অনেকের বই পাঠক ছুঁয়েও দেখেনি। কারণ পাঠক চায় সংক্ষেপে মৌখিক অভিব্যক্তি যা ডেলিভারী দিতে আমরা অক্ষম হয়েছি।তাই বলে কি নতুনরা থেমে যাবে? লিখতে লিখতে একদিন তাঁরাও অভিজ্ঞ হবেন, নিজের জায়গা করে নেবেন বাংলা সাহিত্য জগতে।
বহু জ্ঞানী ব্যক্তির কথা শুনেছি, ছবি তুলেছি, দোয়া ও আশীর্বাদ নিয়েছি। জীবনকে মোলায়েম স্ফূর্তিতে নিয়ে যেতে চেষ্টা করেছি নিজের মূল্যবান কিছু সময় দিয়ে।কী এক মায়ার টানে প্রায় প্রতিদিন বইমেলায় চলে যেতাম। লেখক-সাংবাদিক সারথি, পাঠক ও দর্শনার্থীদের পরম সম্ভাবনার মুখগুলো দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি।মানুষকে পশুত্ব মনোভাব ছাড়তে হলে বই পড়তেই হবে।আর এই বই লেখার সাহসী কলম যোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান জানাতে হবে।আমরা সৃজনশীল কাজে আছি, কোন সন্ত্রাসী কাজে নেই।আমরা আনন্দে,জ্ঞানের আলোয় বাঁচতে শিখি শুধুমাত্র বই পড়েই।মন্দ কোন আগ্রাসন হয়রানির শিকার এই বইয়ের পৃথিবীতে নেই।ভীষণ মিস করছি প্রিয় বইমেলাকে।আসছে বছর আবার মহাসমারোহে জম্পেশ বসবে একুশের বইমেলা।আশা নিয়ে বাঁচি, সৃষ্টি কর্ম নিয়ে আজীবন আছি।

লেখক; পারভীন আকতার
শিক্ষক, কবি ও প্রাবন্ধিক,
চট্টগ্রাম।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর