• E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন

নিভৃতচারী রাজনৈতিক নেতা শরীফ উদ্দিন, চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন গণমানুষের হৃদয়ে

মিলন রশীদ
  • আপডেটের সময় রবিবার ২০ মার্চ, ২০২২

মহান ভাষা ও স্বাধিকার আন্দোলন, আর মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে আমরা আজ স্বাধীন জাতি। স্বাধীন দেশের নাগরিক। বিশ্ব দরবারে আমরা বাঙালি, বাংলা আমাদের ভাষা। এ সাফল্য ও সফলতায় যাঁদের মেধা, শ্রম আর জীবন বাজি রেখে দিয়ে গেছেন, তারা হবিগঞ্জের মাটির-ই গর্বিত সন্তান। তাঁরা আজ নেই। রেখেগেছেন আমাদের জন্য গৌরবগাঁথা ইতিহাস। সেই অকুতোভয় আমাদের গুরুজনদের আমরা যেন ভুলে না যাই। তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অগ্নিঝরা মার্চে তাঁদের স্মৃতিচারণ করতেই আমাদের এই আয়োজন।

১০ম পর্ব:- নিভৃতচারী শরীফ উদ্দিন স্যার শ্রদ্ধা ভালোবাসায় বেঁচে থাকবেন গণমানুষের মানুষের হৃদয়ে।

কৈশোর, যৌবন আর আমৃত্যুই ছিলেন নির্ভৃতচারী। মানুষের পাশে থাকার বাসনা শিক্ষাজীবন থেকেই। যে কারনে আজো সব শ্রেণী পেশার মানষের কাছে শরীফ উদ্দিন স্যার নামে আজো অম্লান হয়ে আছেন। মানুষের জন্ম যেমন হয়, মৃত্যুও অনিবার্য। তাই শরীফ উদ্দীন স্যারও আমাদের মধ্যে নেই। তিনি নেই, তবে সাধারন মানুষের কল্যাণ আর দেশ প্রেম আর বাঙ্গালী চেতনায় তিনি ছিলেন এক মহীরুহ।

ভাটি বাংলায় জন্ম নেয়া মানুষটি স্থানীয় জনসাধারনের পাশে থেকেছেন আমৃত্য। লোভ লালসার উর্দ্ধে থেকে পেশাগত, রাজনৈতিক, জনপ্রতিনিধি কোন পদমর্যাদাই তাঁর এলাকার জনমানুষ থেকে টলাতে পারেনি। যে কারনে তিনি আজো আপামর মানুষের কাছে শরীফ উদ্দিন স্যার।

১৯৪২ সালের ৭ মার্চ তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। বানিয়াচং উপজেলার যাত্রাপাশা গ্রামে। তাঁর পিতা দিদার বক্স। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং স্থানীয় এল আর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক পাশ করে হবিগঞ্জ বৃন্দাবন কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন।

১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে থেকে এমএ ডিগ্রী লাভ করার পর একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এল এল বি পাশ করেন। এল এল বি পাশ করার পূর্বে তিনি বানিয়াচং এল আর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তিনি হবিগঞ্জ বার এ আইন পেশায় যোগদান করেন।

শরীফ উদ্দিন ছাত্রাবস্থায়ই পাকিস্তানী শাসকচক্রের শোষন দমন পীড়ন মন থেকে মেনে নিতে পারতেন না। পাকিস্তানীদের অপশাসন আর বাঙ্গালীদের শোষনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় বইত তাঁর মন মননে। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ সোওয়ারর্দী উদ্যানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভাষনের পরই বানিয়াচং এ তাঁর উদ্যোগে গঠিত হয় সংগ্রাম পরিষদ। সংগ্রাম পরিষদের তিনি ছিলেন সাধারন সম্পাদক। স্বাধীনতা লাভের পর দেশ গঠনেও শরিফ উদ্দিন ছিলেন অনন্য ভূমিকায়। লোভ লালসার উর্দ্ধে থেকে শরিফ উদ্দিন সাহেব ফিরে যান তাঁর আইনী পেশায়। 

১৯৯১ সালে দেশের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (বানিয়াচং – আজমিরীগঞ্জ)  হবিগঞ্জ – ২ আসন থেকে নৌকা প্রতিক নিয়ে বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালেও একই আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৭ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য থাকাবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
একজন আলোকিত মানুষের মৃত্যু হলেও এখনও বেঁচে আছেন মানুষের হৃদয়ে।

লেখক; মিলন রশীদ
সম্পাদকীয় উপদেষ্টা
শব্দকথা২৪.কম।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর