টিপ পরায় নারীকে হেনস্থার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে, জমে উঠেছে ফেসবুক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময় সোমবার ৪ এপ্রিল, ২০২২

ঢাকার একজন শিক্ষিকা থানায় অভিযোগ দিয়ে বলছেন, কপালে টিপ পরার কারণে পুলিশের একজন সদস্য তাকে হেনস্তা করেছেন।

তেজগাঁও কলেজের প্রভাষক লতা সমাদ্দার অভিযোগ করেছেন, শনিবার সকালে কর্মস্থলের দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের পোশাক পরা একজন ব্যক্তি তাকে ‘টিপ পরছোস কেন’ বলে কটুক্তি করেন।

মিজ সমাদ্দার আরো অভিযোগ করেন, সেই সময় তিনি প্রতিবাদ জানালে তার গায়ের ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন পুলিশের পোশাক করা ওই ব্যক্তি।

শনিবার সকালে ওই ঘটনা ঘটলেও তিনি রবিবার শেরে বাংলা নগর থানায় অভিযোগ করেছেন।

রবিবার বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য সূর্বণা মোস্তফা এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ”বাংলাদেশের কোন সংবিধানে কোন আইনে লেখা আছে যে, একজন নারী টিপ পড়তে পারবে না। এটি অত্যন্ত ঘৃণিত একটি ঘটনা।”

”ইভটিজিং ঘটনা আমরা শুনে এসেছি বখাটে ছেলেপেলে স্কুলের বাচ্চা বাচ্চা মেয়েদের ইভটিজ করে। সেই পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু আমি যখন দেশের আইন রক্ষাকারী কাউকে ইভটিজিংয়ের ভূমিকায় দেখি মাননীয় স্পিকার, তখন সেটা আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত লজ্জাকর একটি ঘটনা।” বলছেন সংসদ সদস্য সুর্বণা মোস্তফা।

এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমেও তীব্র আলোড়ন তৈরি করেছে। অনেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের টিপ পরা ছবি পোস্ট করতে শুরু করেছেন।

এর আগেও মধ্যরাতে সিএনজি আটকে নারীদের হয়রানি করা, বিনা অনুমতিতে ভিডিও করে পোস্ট করার একাধিক অভিযোগ উঠেছিল পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে, যেসব ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল।

যে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী

লতা সমাদ্দার বলছেন, শনিবার সকালে তিনি তার বাসা থেকে কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। আনন্দ সিনেমা হলের সামনে থেকে পায়ে হেটে যখন তিনি তেজগাঁও কলেজের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন সেজান পয়েন্টের দিকে তিনি শুনতে পান, ‘টিপ পড়ছোস কেন’ বলে একটা গালি।

”আমি ঠিক পেছনে তাকিয়ে দেখি, একজন পুলিশ একটা বাইকের ওপর বসে আছে। আমি তার প্রতিবাদ করলে সে নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করে,” তিনি বলছেন।

”একপর্যায়ে সে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে আমার শরীরের ওপর চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমি সটকে যাই, কিন্তু তার বাইরের চাপা আমার পায়ে লাগে। আমার পা ইনজ্যুরড (আহত)।”


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর