রামাদানের শুরু ও টিপ কাণ্ড

মাসুদ পারভেজ
  • আপডেটের সময় সোমবার ৪ এপ্রিল, ২০২২

“পুকুরে আজকাল মাছের অকাল
কঞ্চি বাশেঁর সুতা ছাড়া ছিপ,
কি খেলা খেললি রে বাপু-
বেটা মাইষের কপালে তুলে দিলি লাল একখান টিপ”

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় গত শনিবার তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক লতা সমাদ্দার টিপ পরার কারণে রাজধানীর গ্রিন রোডের বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে উত্ত্যক্তের শিকার হন। ওনার অভিযোগ-রাজধানীর গ্রিন রোডের বাসা থেকে হেঁটে কলেজে যাওয়ার সময় হুট করে পাশ থেকে মধ্যবয়সী, লম্বা দাড়িওয়ালা একজন ‘টিপ পরছোস কেন’ বলেই বাজে গালি দেন তাকে। মধ্যবয়সী ওই ব্যক্তির পরনে পুলিশের পোশাক। ঘটনার প্রতিবাদ জানালে একপর্যায়ে কলেজ শিক্ষিকার পায়ের ওপর দিয়ে বাইক চালিয়ে চলে যান অভিযুক্ত ব্যক্তি।

এখন কিছু বিষয় আপনাকে অবশ্যই ভাবাবে, যেমন ধরেন আপনি নিশ্চিত ভাবেই ধরে নিতে পারবেন যে- পুলিশের পোশাক পরা লোকটা নির্ঘাত একটা বদ্ধ উন্মাদ যে কিনা শুধু শুধু গায়ে পড়েই ঝগড়া পাকাতে গেল!
অথবা তিনি টিপ পরা মেয়ে দেখলেই ঝগড়া করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন!
টিপ বিদ্বেষী লোকটা এতোদিন নিশ্চয়ই অনেক টিপ পরিহিত মেয়েদের সাথে এমন ঝগড়া করেছেন!
বিষয়টা নিয়ে এতো মাতামাতি হওয়ার পরও আমাদের চৌকস প্রশাসন অভিযুক্তকে সনাক্ত করতে পারেননি।
তবুও কিছু প্রশ্ন আপনার মনে ঘুরপাক খেতেই পারে- এই টিপকাণ্ডটা প্রথম রামাদানের দিনই কেন হল?
আমাদের দেশে কোন বিষয় বা ঘটনা বা ইস্যু ঢাকার জন্য নতুন একটা ইস্যু তৈরি করা হয় অথবা সামনের নতুন কোন ইস্যুর একটা বীজ বপন করা হয়, এটাও তেমন একটা ইস্যু কিনা?
আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখতাম রামাদানের চাঁদ দেখার সাথে সাথে প্রতিটি টিভি চ্যানেলের সংবাদ পাঠিকা থেকে শুরু করে প্রতিটি ধর্মের সবাই এই পবিত্র মাসকে সম্মান জানাতে সচেষ্ট থাকত, এটাও আমাদের বাংলাদেশের একটা সংস্কৃতি ও সম্প্রীতি। এই সুন্দর জিনিসটা নষ্ট করার কোন পুর্ব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র নয়তো?
বাংলাদেশের সেকুলার সমাজ এই টিপ নিয়ে এক বিশাল টিপকাণ্ড তুলেছে আর তাতেই দলে দলে অনেক টিপ পোস্ট করে প্রতিবাদ জানাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। প্রতিবাদ জিনিস আমার খুব ভালো লাগে যদি সেটা যৌক্তিক হয়। আমি বলছি না এটা অযৌক্তিক আবার যৌক্তিকও বলতে পারছি না। প্রতিটি নিত্য পণ্যের আকাশ চুম্বী দাম, টিসিবির ট্রাকের পেছনে মধ্যবিত্তের দৌড়! কই এইসব বিষয় নিয়ে তো আপনারা টু’শব্দটাও করেনি। আজকে আপনারা পুরুষেরা সহ লতা সমাদ্দারের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে কপালে টিপ করে ফটো তুলে ভরে ফেলছেন। অথচ মুসকানের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে হিজাব কেউ পড়তে পারেননি। কেউ কেউ দেখছি টিপ কাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ইসলাম নিয়ে কটুক্তি করতিও দ্বিধাবোধ করছে না। বাচিক শিল্পী নাজমুল হুসাইন বলেন, ‘বহুদিন ধরে চেষ্টা করছিলাম, দোজখ দেখার এবং সামান্য অভিজ্ঞতার; কিন্তু কোনোভাবে দোজখের সন্ধান পাচ্ছিলাম না। এবার মনে হয় পাব। টিপ পরলাম, দোজখ ঘুরে আসার জন্য। ফিরে এসে আপনাদের জানাবো আমার অভিজ্ঞতা। দোজখে যাওয়ার আশীর্বাদ চাই।’
এই ধরনের টিপকাণ্ডের প্রতিবাদ নামের কটুক্তি গুলো কিভাবে দেখবেন? কিভাবে দেখবে পুরুষদের হিজড়া সাজার প্রতিযোগিতা?
একজন পুলিশ সদস্য বা যেকেউ একজন যদি কোন ভুল করে সেটা নিতান্তই তার ব্যক্তিগত অপরাধ। আর আপনারা এইটাকে টানতে টানতে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?

লেখক; মাসুদ পারভেজ
কবি ও সংগঠক


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর